চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ব্যাটসম্যান হবে, একজন ‘বিশেষজ্ঞ’ ব্যাটসম্যান?

ক্রিকেটে একজন অলরাউন্ডারের চাহিদা সবসময় শীর্ষেই। একজন পেস বা স্পিন-অলরাউন্ডার, দলের ভারসাম্য ও পরিকল্পনাই বদলে দেয়ার সামর্থ্য রাখেন। ব্যাটিং-বোলিং দুটোই জানলে বাড়তি কদর তো থাকবেই। একজন হয়ে দুজনের ভূমিকা যে পূরণ করতে পারেন খেলোয়াড়টি। কিন্তু যখন একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানের বদলে আরেকজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানের প্রসঙ্গ আসে? তখন নিশ্চিতভাবেই ছাড় দেয়ার সুযোগ থাকে না।

শুক্রবার ইডেন গার্ডেনসে তেমন পরিস্থিতিতে পড়ে বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান খুঁজতে ঘাম ছুটে গেছে বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টের। সাত-পাঁচ ভেবে কূল না পেয়ে শেষে ব্যাটসম্যান লিটন দাসের ভূমিকায় নামিয়ে দেয়া হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজকে। যা নিয়ে প্রশ্ন উচ্চকিত হচ্ছে!

বিজ্ঞাপন

কলকাতায় দিবা-রাত্রির টেস্টে নেমে যতক্ষণ ব্যাটিং করছিলেন, স্বাচ্ছন্দ্যেই ছিলেন লিটন। ইনিংসের ২১তম ওভারে এসে ঘটে বিপত্তি। মোহাম্মদ সামির বলে হেলমেটে আঘাত পান। মাথায় ওই আঘাতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এক ওভার বাদেই। তার কনকাশন বদলি হিসেবে ‘বিশেষজ্ঞ’ ব্যাটসম্যান হয়ে মাঠে নামতে হয় মিরাজকে। যিনি নিয়মানুযায়ী লিটনের বদলি হয়ে কেবল ব্যাটই করতে পারবেন, বল নয়।

বয়সভিত্তিক দল থেকেই মিরাজের ব্যাটিং প্রতিভা সকলের জানা। ব্যাটে-বলে তাকে আগামীর সাকিবই বলা হচ্ছিল! কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসে দীর্ঘ সময়ে মূলত তাকে স্পিনার হিসেবেই ভূমিকা রাখতে হচ্ছে। ব্যাটিংটা যার ভালোই জানা, লোয়ারঅর্ডারে কিছু রান পেলে দল দুহাত ভরে তা গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত। কিন্তু কালেভদ্রেই মেলে অল্পকিছু রান। নিজেকে এখনও যে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি মিরাজ!

একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানের জায়গায় মিরাজকে ব্যাট করতে নামিয়ে দেয়ায় তাই টেস্টে বাংলাদেশ দলের করুণ পরিকল্পনার প্রতিফলনই যেন ফুটে উঠল! কেনো এমন পরিস্থিতির সামনে পড়তে হল বাংলাদেশ দলকে?

টেস্ট সিরিজের আগে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত দেশে ফিরেছিলেন জরুরী প্রয়োজনে। স্পিন-অলরাউন্ডার হলেও জাতীয় দলে তার প্রথম পরিচয় ব্যাটসম্যান হিসেবেই। কিন্তু দেশে ফেরার পর তাকে আর ভারতে ফিরিয়ে নেয়া হয়নি। স্কোয়াড থেকে মিডলঅর্ডারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ইন্দোরে নামে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

ইন্দোর টেস্টে বিপর্যয়ের পর ইডেনে অভিষেক হওয়ার ভালো সম্ভাবনা ছিল সাইফ হাসানের। ওপেনার ইমরুল কায়েস প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই ব্যর্থ ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের দুর্বিপাকে ওই ম্যাচেই আঙুলে চোট পাওয়া দ্বাদশ-খেলোয়াড় সাইফ সেরে না ওঠায় দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াড থেকে ছিটকে যান। সেটা ম্যাচের দুদিন আগেই।

ঢাকা থেকে কলকাতা আধা ঘণ্টার বিমানপথ! কিন্তু বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট দুদিন সময় পেয়েও সাইফের বিকল্প ডেকে নেয়নি ইডেনে। তাতে স্কোয়াড থেকে কমে যায় আরও একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

ইডেনে যখন মাথায় আঘাত পাওয়া লিটনের কনকাশন বদলির দরকার পড়ল, তখন তাই মাথায় বাজ পড়ে টাইগার দলের পরিকল্পনাবিদদের! হতোদ্যম হতে হয়! শেষে লিটনের বদলি হিসেবে নামিয়ে দিতে হয় মিরাজকে। আর কোনো উপায়ই যে ছিল না। স্কোয়াডে অন্য কোনো বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানই যে নেই। ম্যাচ শুরুর একাদশের বাইরে মিরাজ ছাড়া বেঞ্চে থাকা বাকি দুজনের একজন স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।

টিম ম্যানেজমেন্ট অতি আত্মবিশ্বাসী হয়েই হোক বা স্কোয়াডে থাকাদের দিয়েই চালিয়ে দেয়ার পরিকল্পনায় হোক, পরিস্থিতিতে পড়ার আগে যে কনকাশন বদলির কথা ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি সেটা বুঝতে আইনস্টাইন হতে হয় না!

কনকাশন বদলির কথা না হয় বাদই থাকল, ম্যাচের ঠিক আগে আগে যদি গুরুত্বপূর্ণ এক-দুজন চোটে পড়ে যেতেন, তাহলে একাদশ নামাতেই গড়বড় হয়ে যেতে পারত। বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনাবিদরা হয়ত সেটাও সরিয়ে রেখেছিলেন ভাবনা জগত থেকেই!

ইডেনে নাজেহাল অবস্থা বাংলাদেশের সব ব্যাটসম্যানেরই। এমন না যে লিটনের জায়গায় সাকিব-মুশফিকের মতো একজনকে নামিয়ে দিতে পারলেই এটা জোর দিয়ে বলা যায় ১০৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ার চেয়ে অতি-ভালো কিছু হতো। কিন্তু ক্রিকেটে তো সবই সম্ভব! লেজের দিকে স্পিনার নাঈম হাসান যে ১৯টা রান করে একশর আগে গুটিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচালেন, একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান থাকলে ভালো একটা জুটিতে সংগ্রহটা আরেকটু ভদ্রস্থ জায়গায় নিতে পারতেন এমন আশা করাই যায়।

যার বদলি নিয়ে এত কথা, সেই লিটনই তো এদিন ক্রিজে সবচেয়ে সাবলীল ছিলেন ১১ জন ব্যাটসম্যানের মধ্যে। টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনা-কলকব্জা ঘিরে তাই প্রশ্ন বড়ই হচ্ছে।

Bellow Post-Green View