চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ব্যাংকিং খাত বাঁচাতে অনিয়ম বন্ধ করতেই হবে

দেশের অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংলাপে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে ব্যাংক খাতে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে আমাদের করণীয় কী?’ শীর্ষক সংলাপে মূল প্রবন্ধে উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সূত্র তুলে ধরে এই আর্থিক অনিয়মের কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

এ সংলাপে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সাবেক গভর্নর, অর্থনীতির বিশ্লেষক এবং ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরাও উপস্থিত থেকে তাদের মতামত উপস্থাপন করেছেন। মূলত তাদের বেশির ভাগের বক্তব্যেই ব্যাংকগুলোর নাজুক অবস্থার কথা উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় সেখানে।

এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাংক খাতের বিষয় উল্লেখ করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, নতুন সরকার গঠনের পর ব্যাংকিং খাতের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর কী ভূমিকা থাকবে – তা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি এ খাতকে ঠিক করতে ব্যাংকিং কমিশন গঠনের কথাও বলা হয়েছে। সরকার যদি তা না করে, সিপিডি নিজের উদ্যোগে আগামী বছরের শুরুতে নাগরিক ব্যাংকিং কমিশন গঠন করবে।

বিজ্ঞাপন

দেশের ব্যাংকিং খাতের এই নাজুক অবস্থার কথা আমরা সবাই জানি। নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার খবর আমাদের কাছে নতুন নয়। কিংবা ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের কারসাজিতে হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বড় বড় খবরও প্রতাশিত হয়েছে। ধুঁকতে থাকা ব্যাংকগুলোর অবস্থা পরিবর্তনে সরকারের নেওয়া একাধিক উদ্যোগের কথাও জানি অনেকেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এটা ঠিক, ব্যাংকিং খাত নিয়ে যেসব আশঙ্কা আগে থেকেই করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তার অনেকটাই প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি। আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এমন কোনো কথাও আমরা জানতে পারিনি। অথচ কর্তৃপক্ষ চাইলে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে এসব অনিয়ম থামাতে পারতেন।

এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, কোনো কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছে না। কিন্তু এটাও ঠিক; এভাবে আর চলতে পারে না, বা চলতে দেওয়া যায় না। ব্যাংকগুলোর এ অবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় দায়ী রাজনৈতিক প্রভাব। মূলত এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিক এত বড় বড় অনিয়ম করেছে।

আমরা মনে করি, দেশের কল্যাণে, অর্থনীতির মঙ্গলের জন্য ব্যাংকিং খাতে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে তা আরো নাজুক অবস্থায় পড়বে। যা কারো জন্যই শুভ হবে না।

Bellow Post-Green View