চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বেলের দাম ১৩০ মিলিয়ন!

মরা হাতির দামও লাখ টাকা! গ্যারেথ বেলের জন্য রিয়াল মাদ্রিদের বেঁধে দেয়া দামশুনে এ কথাই মনে আসতে পারে বাকি ক্লাবগুলোর কর্তাদের মাথায়। নইলে ছয় মৌসুমের একটাও যিনি শেষ করতে পারেননি সুস্থভাবে, এমন একজন খেলোয়াড়ের দাম কীভাবে এত হয়? ক্রেতাদের জন্য অবশ্য এর যোগ্য উত্তরও ঠিক করে রেখেছেন রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।

দ্বিতীয় মেয়াদে জিনেদিন জিদান কোচ হয়ে আসার পর বেলকে বিক্রির সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেলেছে রিয়াল। ওয়েলস ফরোয়ার্ডকে পেতে আগ্রহ দেখিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো ক্লাবগুলো। সুযোগ বুঝে দলবদলের বাজারে বেলের দাম চড়িয়ে দিয়েছে রিয়ালও।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

চোটের কারণে পুরো মৌসুম পাওয়া যায় না এমন একজন খেলোয়াড়ের দাম কেন ১৩০ মিলিয়ন? বিশেষত এক শরীরে ২২ রকমের চোটে পড়া বেল ছয় মৌসুমে ম্যাচ খেলতে পেরেছেন কেবল ২২৭টি। চোটপ্রবণ একজন খেলোয়াড়ের দাম শুনেই তো মুখ ঘুরিয়ে নেয়া স্বাভাবিক অন্যদের জন্য!

বিজ্ঞাপন

সেক্ষেত্রে রিয়ালের যুক্তিটা হল, বড় নামের কোনো খেলোয়াড়ই এখন ১০০ মিলিয়নের নিচে পাওয়া সম্ভব নয়। নেইমারের দাম ২২২ মিলিয়ন, এমবাপে ১৮০ মিলিয়ন, কৌতিনহো ১৬০ মিলিয়ন ও ডেম্বেলের দাম ১২০ মিলিয়ন ইউরো হতে পারলে বেলের দাম কেন কম হবে? চোট না থাকলে যথেষ্ট ভালো খেলা একজন খেলোয়াড়ের জন্য দামটাকে ন্যায্য বলেই মনে করছে রিয়াল।

আরও একটা কারণে বেলের দাম চড়িয়ে রেখেছে রিয়াল। নতুন মৌসুমে পল পগবা কিংবা ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনকে খুব করে মাদ্রিদে আনতে চাইছে দলটি। বেলকে ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে দুই খেলোয়াড়ের একজনকে কেনার টাকাটা অন্তত হাতে চলে আসবে!

বেলকে নিয়ে আরেকটা বড় সমস্যাও আবার আছে। সেটা হল বেতন। প্রতি মৌসুমে ওয়েলস তারকাকে ১৫ মিলিয়ন ইউরো বেতন দেয় রিয়াল। ট্যাক্সসহ খরচটা দাঁড়ায় ৩০ মিলিয়নে। একজন খেলোয়াড়কে এমন আকাশচুম্বী বেতন দেয়ার সামর্থ্য আছে কেবল হাতেগোণা চার-পাঁচটি ক্লাবের। সেই ক্লাবগুলি আগ্রহ হারিয়ে ফেললে মাঝারি মানের দলের কাছে বেলকে বিক্রি করতে বেশ বেগ পেতে হবে স্প্যানিশ জায়ান্টদের।

ভেবেচিন্তে সহজ এক রাস্তাও বের করেছে রিয়াল। বেলকে তার পুরনো ক্লাব টটেনহ্যামের কাছেই ফেরত দেয়া। দাম কিছুটা কমিয়ে বেলকে ফেরত দিয়ে একই ক্লাব থেকে এরিকসেনকে চায় লস ব্লাঙ্কোসরা। এমন সিদ্ধান্তে যদিও মুখ ঘুরিয়ে আছে টটেনহ্যাম। বেলকে পাওয়ার আগ্রহ থাকলেও এরিকসেনকে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে কোনো ইচ্ছেই নেই স্পারদের।

বিজ্ঞাপন