চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের সাফল্য নিয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি টাইগাররা

দুই বোর্ডের টানাপোড়েনের সম্পর্ককে পাশে ঠেলে ২০১১ সালের পর প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।  সব বিতর্ক ছাপিয়ে নিজের জায়গাটা ঠিকই করে নিয়েছে ‘ক্রিকেট’। মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে দুপুর আড়াইটায় শুরু হবে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দিবা-রাত্রির প্রথম ম্যাচটি। ট্রফি উন্মোচন আনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচে নামতে পারছেন না বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

Advertisement

তার জায়গায় যিনি টস করতে নামবেন, সেই সাকিব আল হাসান পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে নিজেদের ফেভারিট দাবি করে বলেছেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের এটাই সেরা সুযোগ।

২০১২ ও ২০১৪ এশিয়া কাপে অল্পের জন্য জয় হাতছাড়া হলেও ফতুল্লায়
অনুশীল ম্যাচে বিসিবি একাদশের জয় আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে জাতীয় দলকে। সাকিব
বলেছেন, সিরিজ জয়ের টার্গেট নিয়ে তারা আগেও খেলেছেন, এবারও তাই খেলবেন। ‘এই
সিরিজে আমরাই ফেভারিট,’ সাফ কথা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের কণ্ঠে।

তবে এর মানে এই না যে পাকিস্তান দলকে হালকা করে দেখছেন সাকিব। তিনি বলেন,
‘পাকিস্তানকে আমরা মোটেও ছোট করে দেখছি না। তারা অনেক ভালো দল। তাদের
বিরুদ্ধে জিততে হলে আমাদের সেরা পারফর্ম করতে হবে।’

সাকিবরা যে স্বপ্ন দেখছেন, তার কারণ শুধু নিজেদের ছন্দের মধ্যে থাকা নয়; পাকিস্তান দল যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সেটাও একটা কারণ।  দীর্ঘদিন পর মিজবাহ-উল হক ও শহিদ আফ্রিদিকে ছাড়া ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামছে পাকিস্তান। তবে আট মাস পর স্পিনার সাঈদ আজমালের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে একঝাঁক তরুণ প্রতিভার উপস্থিতিতে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন মাত্র ১৪ ওয়ানডে খেলা অধিনায়ক আজহার আলি। তিনি পাকিস্তানের হয়ে শেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০১৩’র জানুয়ারিতে। দলে অভিজ্ঞ বলতে আছেন মোহাম্মদ হাফিজ ও আজমল। পাকিস্তানের বর্তমান দলে শুধু এই দু’জনেরই  ১০০ ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। বাংলাদেশে এই ক্লাবের সদস্য  পাঁচজন।

বরাবরের মতো এবারও পাকিস্তান অধিনায়ককে ভরসা যোগাচ্ছেন তার বোলাররা। বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেবেন ইনজুরি থেকে ফেরা জুনায়েদ খান ও বিশ্বকাপে দারুণ পারফর্ম করা ওয়াহাব রিয়াজ। তাদের সঙ্গ দেবেন স্পিনার আজমল ও হাফিজ।

পাকিস্তান অধিনায়ক আজাহার আলী বললেন, ‘এটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। তরুণদের নিয়ে গড়া একটা দলের নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি খুবই আবেগ-আপ্লুত। বাংলাদেশ সম্প্রতি অনেক উন্নতি করেছে এবং করছে। তবে আমাদের বোলিং সাইডটা খুবই ভালো। আমরা ইতিবাচক ক্রিকেটই খেলবো।’

অনুশীলন ম্যাচের পরাজয় নিয়েও কথা বলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তিনি বলেন এই হারকে তারা বড় করে দেখছেন না। ‘অনুশীলন ম্যাচটি ছিল আমাদের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার।’

বিসিবি একাদশের সঙ্গে হারার অাগে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান জাতীয় দলের একমাত্র পরাজয়  ১৯৯৯ বিশ্বকাপে। বাংলাদেশের জয়ের সেই ম্যাচে পাকিস্তান দলে থাকা ওয়াকার ইউনুস এখন কোচের ভূমিকায়। তার স্মৃতিতে ফিরে এলো নর্দাম্পটনের সেই ম্যাচ।

তিনি জানালেন, এবার বাংলাদেশ’কে ফেভারিট মানতেও তার আপত্তি নেই। এজন্য তিনি অসম্মানিতও বোধ করছেন না। তবে তার শেষ কথা: আমরা প্রস্তুত। এখানে সিরিজ জিততেই এসেছি।

এই ম্যাচে স্পটলাইটে থাকবেন বাংলাদেশের সাব্বির ও পাকিস্তানের সাঈদ আজমল। অনুশীলন ম্যাচে ৮৪ বলের বিস্ফোরক এক সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছেন সাব্বির। আর আট মাস দলের বাইরে থাকা আজমলের ঘুর্নিতে কোনো মরিচা ধরেছে কিনা নজর থাকবে সে দিকেও।

এ পর্যন্ত ৩২টি একদিনের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ পাকিস্তান। ৩১টিতেই জিতেছে পাকিস্তান।  দু’ দলের মধ্যে ম্যাচ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারতো। হয়নি যে তার কারণ দুই বোর্ডের মধ্যে কিছু টানাপোড়েন। গত তিন বছর চার মাসে
তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে দু’ দল। নিরাপত্তার কারণে দুইবার পাকিস্তান সফর
বাতিল করে বাংলাদেশ। এর জের ধরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল)
পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাদের বোর্ড। সম্প্রতি সফর
বাতিলের জন্য বিসিবির কাছে পিসিবির ক্ষতিপূরণ দাবি এবং বিসিবির ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাসে অনেকটাই উন্নয়ন ঘটেছে দু’দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে। সে পথ ধরেই ২০১১’র পর বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম সিরিজ।