চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিপ্লব দাশের রসিকতা

গল্পকার, নাট্যকার অভিনেতা বিপ্লব দাশকে আমি সহকর্মী হিসেবে পাই রাজনৈতিক সাপ্তাহিক প্রতিশ্রুতিতে। ৯১ সালের কথা। পত্রিকার অফিস ছিল বাসস এর পেছনের একতলা এক বাড়িতে। মহিবুর রহিম বাবুল এই সাপ্তাহিকের সম্পাদক। সহকারী সম্পাদক ছিলেন বিপ্লব দাশ আর আহমাদ মাযহার। প্রতিবেদক হিসেবে ছিলাম আমি, আমীরুল ইসলাম, আসলাম সানী, সাইদুজ্জামান রওশন। অফিসে আমিই ছিলাম সবার ছোট। বিপ্লব দাশ আমাকে খুব স্নেহ করতেন একটাই কারণে সেটা হলো আম্মার মাকে তিনি আজিমপুর কলোনি থেকে চিনতেন। বিপ্লব দা’রাও একসময়ে কলোনিতে ছিলেন। আমার পরিচয় জানতে পেরে বিপ্লব দা আমাকে বললেন: তোমার মা, খালা, মামাদের আমি চিনি।
তাহলে আপনাকে কী বলব, দাদা না মামা?

বিপ্লব দাশ তার স্বভাবজাত শিশু সুলভ সরলতায় হাসলেন। হেসে বললেন: তোমার যা ইচ্ছে হেই নামেও আমারে ডাকবার পারো। তবে দাদা কয়া ডাকলে হুনতে ভালো লাগে।
বিপ্লব দাশ কথা বলতেন ঢাকাইয়া টোনে। বিক্রমপুরের টানও থাকত তার কথায়।
বিপ্লব দাশকে আমি বিপ্লব দা বলেই ডাকতাম।

বিজ্ঞাপন

অসম্ভব রসিক মানুষ হিসেবে বিপ্লব দাশের সুখ্যাতি তামাম শহরে। এক অদ্ভুত, দুর্দান্ত,বেহিসাবি আর ভয়ংকর জীবন কাটানোর দুঃসাহস দেখিয়েছেন বিপ্লব দাশ আর তার বন্ধুবান্ধবরা।
কারা ছিলেন বিপ্লব দাশের বন্ধুবান্ধব?

নির্মলেন্দু গুণ, বুলবুল চৌধুরী, কায়েস আহমেদ, আবুল হাসান, খায়রুল আলম সবুজ, হেলাল হাফিজ, মাহমুদুল হক বটু ভাই, বুড়ো দা।

বিজ্ঞাপন

বিপ্লব দাশের কাছে তাদের জীবনের নানা ভালোমন্দ পর্বের আখ্যান শুনতাম আর বিস্ময়ে অবাক হয়ে ভাবতাম, মানুষের পক্ষে এই জীবনও কি কাটানো সম্ভব!

বিপ্লব দা প্রতিশ্রুতির অফিসে বসে পত্রিকার যাবতীয় লেখা লিখতেন। মাযহার ভাই সম্পাদকীয়, রিপোর্ট এডিট, ফিচার দেখার কাজে ব্যস্ত থাকতেন। বিপ্লব দা কাজের চেয়ে বেশি আড্ডা দিতে পছন্দ করতেন।
আমরাও বিপ্লব দার আশেপাশে ঘুর ঘুর করতাম। তবে বিপ্লব দার রসিকতা আমাকে খুব টানত। এছাড়া বিপ্লব দাশের লেখালেখি আমাকে মুগ্ধ করত। হিজড়াদের নিয়ে বাংলা সাহিত্যে সম্ভবত তিনিই প্রথম দারুণ এক উপন্যাস লিখে ফেলেছেন। উপন্যাসের নাম কিম্পুরুষ। অসাধারণ লেখা। ছোটদের জন্য লিখেছেন ‘সদাশিবের সাঙ্গোপাঙ্গ’। এসব পড়ে আমি বিপ্লব দার ভক্ত হয়ে গেছি। তার পেছনে ঘুর ঘুর করার এও এক কারণ।

সব কিছু নিয়েই রসিকতা করতে ওস্তাদ ছিলেন বিপ্লব দা। প্রতিশ্রুতির অফিসে লেখা নিয়ে কোন ঝামেলা হলে বিপ্লব দার ডাক পড়ত। কেউ কোন লেখা ফেল করল, অমনি বিপ্লব দা। কারো কোনোকিছু বুঝতে সমস্যা হলে তা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র ত্রাতা হিসেবে বিপ্লব দা আবির্ভূত হতেন।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View