চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিপর্যয় কাটিয়ে কৃষিকে লাভজনক করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী

ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ১৯৫০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার মুশুদ্দি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জালাল উদ্দিন তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি গবেষণা বিভাগে চাকরি করতেন। মাতা রেজিয়া খাতুন একজন গৃহিনী।

ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে ধনবাড়ি নওয়াব ইন্সটিটিউট থেকে তিনি কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে ১৯৭১ সালে বিএসসি, এজি এবং ১৯৭২ সালে কৃষিতত্ত্বে এম এস সি, এ.জি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৮৩ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও তিনি যুক্তরাজ্যের ইস্ট এনজেলিয়া ইউনিভারসিটি থেকে ফার্মিং সিস্টেম রিসার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের অধীনে ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, জাইকার ব্যবস্থাপনায় জাপানে স্ট্র্যাটেজিস ফর সাসটেইনেবল এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ বেশ কিছু বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল থেকে প্রকাশিত মেথডোলজিক্যাল গাইড লাইন্স ফর ফার্মিং সিস্টেম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ শীর্ষক বইয়ের রচয়িতাদের একজন। এছাড়াও বিভিন্ন জার্নালে তার ২৫ টিরও অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে । বিভিন্ন বিদেশি ম্যাগাজিনে তার কৃষি বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি কৃষি গবেষণা কাউন্সিল কর্তৃক প্রকাশিত বেশকিছু ডকুমেন্টের সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেছেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বিএআরসি এ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের কর্মজীবন শুরু। এ প্রতিষ্ঠানেই তিনি মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া তিনি কৃষি গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মদিগন্ত সমন্বিত ফার্মিং সিস্টেম গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মসূচির ন্যাশনাল কো অর্ডিনেটর হিসেবেও অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত কাজে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার বিচরণ ষাটের দশকে অর্থাৎ স্কুল জীবন থেকে। তিনি ১৯৬৯-৭০ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্রনেতা হিসেবে বাঙালির মুক্তি সনদ ৬ দফা ও ১১ দফা ভিত্তিক গণ আন্দোলনে অংশ নেন। এ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্বাধীনতার পরে ১৯৭২-১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ প্রথম ছাত্র সংসদে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতীয় কার্যকরি পরিষদের সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, কর্তব্যপরায়নতা, নিষ্ঠাগুণে আজ তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন সফল ব্যক্তিত্ব।

তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে ২০০২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৩ মেয়াদে কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য।

ছাত্রজীবন থেকেই ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক নিজ এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ১৯৬৯ সালে নিজ গ্রাম মুশুদ্দিতে প্রগতি সংঘ প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এ ক্লাবের মাধ্যমেই তার নেতৃত্বে ১৯৬৯ সালে মধুপুর ধনবাড়ি এলাকার প্রথম শ্রেণীর বিদ্যাপীঠ মুশুদ্দি হাই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। ধনবাড়িকে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন ছিলো।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ১৯৯৮ সালে ধনবাড়িতে থানা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০১ সালে উপজেলা স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। থানা প্রতিষ্ঠায় ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার প্রচেষ্টায় মুশুদ্দি ইউনিয়ন গোপালপুর থেকে মধুপুর উপজেলার সাথে সংযুক্ত হয়। অবহেলিত ধনবাড়ি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা করার দাবি তুলে ধরেন। বর্তমানে ধনবাড়ি পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় পরিণত হয়েছে।

তিনি অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পেশাজীবী ও সামাজিক সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত। ১৯৯৬-৯৭ সালে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন ও প্রকৃচির মহাসচিব ছিলেন। ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক আমেরিকান সোসাইটি অব অ্যাগ্রোনমি, ক্রপ সাইন্স সোসাইটি অব আমেরিকা, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর দা অ্যাডভান্সমেন্ট অব সাইন্স, বিএএএস, বাংলাদেশ এগ্রোনমি সোসাইটি, বাংলাদেশ হর্টিকালচার সোসাইটি ও বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন্স এর সদস্য।

তিনি ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল মধুপুর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং এ জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় ও অনুমতি হিসাব সংক্রান্ত দু‘টি স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দেশ সফর করেন। ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ৬ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরবর্তিতে তিনি খাদ্য মন্ত্রী হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দশম জাতীয় সংসদে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ৭ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।

ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক দুই পুত্র এবং এক কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রী শিরীন আকতার বানু ঢাকা মহানগরের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবুজর গিফারি কলেজের অধ্যক্ষ/প্রিন্সিপাল হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। গান শোনা, সমাজ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা তার শখ।

সম্প্রতি চ্যানেল আই এর ‘টু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। তার সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছেন রিজভী নেওয়াজ এবং গ্রন্থনা করেছেন রাজু আলীম।

প্রশ্ন: বাজেটে কৃষি নিয়ে অর্থমন্ত্রী মোটাদাগে যে কথাগুলো বলেছেন তা হলো- কৃষি বরাবরের মতো সবসময়ই সরকারের অগ্রাধিকারে আছে এবং তা থাকবে। কৃষি বরাদ্দ সার্বিকভাবে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন সব মিলিয়ে যদি হিসাব করা হয় তাহলে কিছুটা কমেছে কিন্তু সরকার নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, যখনি যেখানে বরাদ্দ দরকার তা দেওয়া হবে। কৃষিতে উল্লেখ করার মতো যে ঘটনা তা হলো- গতবারের মত কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানীতে যে রেয়াতি শুল্ক হার ছিল তাই বহাল আছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে আমদানিতে শূন্য শুল্কও আছে। সারের যে আমদানিতে সরকার ভর্তুকি দেয় তা অব্যাহত থাকবে এবং সারের দামও একই রকম থাকবে। এবারের বাজেটে কৃষিতে আশ্বস্ত করার মতো কী কী বিষয় আছে?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: এই সরকার ২০০৮ সালে মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে।২০০৯-২০১৪ এবং ২০১৪-২০১৮ দুই মেয়াদে প্রায় ১০ বছর দেশ পরিচালনা করেছে। এই দুই মেয়াদেই নির্বাচনী ইশতেহারে- ২০০৮ এ যে ইশতেহার দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ৫ টি অগ্রাধিকার সেক্টর ছিল- তার মধ্যে কৃষি ছিল ১ নম্বরে। খাদ্যশস্যসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে আনা এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করাসহ আরও অনেক কিছু ছিল। এনার্জি ও সুশাসনও ছিল এর মধ্যে । সেই সব বিষয়ে আমি যাব না। প্রথম বছর এসেই কৃষির উপরে গুরুত্ব দিয়ে কৃষির উপকরণের দাম কমিয়ে নিয়ে আসা হয়। টিএসপি সারের দাম ৮০ টাকা ছিল তা কমিয়ে ২২ টাকা, পটাশিয়াম ছিল ৬০ টাকা তার দাম কমিয়ে ১৫ টাকা করা হয়েছিল। ঋণ বাড়িয়ে দেওয়া হয় অন্যান্য উপকরণের। এরপরে কৃষকদের জন্যে ১০ টাকায় কার্ড করা হয়ে এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। অর্থাৎ উপকরণ এবং সব ধরণের সহযোগিতা কৃষিতে দেওয়া হয়।

কৃষির আরো দুটি সাব সেক্টর আছে। কৃষি, মৎস্য ও গবাদী পশু। মৎস্য ও গবাদী পশু একটি সেক্টর এবং শস্য আরেকটি সেক্টর। পানি সম্পদকেও কৃষি হিসাবে ধরা হয়। এছাড়া স্থানীয় সরকার এর মাধ্যমে রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন করা হয়। কৃষি পণ্যের পরিবহণে বিরাট সমস্যা ছিল। এখন গ্রামের ছোটখাটো রাস্তা এসে হাইওয়ের সাথে মিশেছে। কাজেই সার্বিক বিবেচনায় গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কৃষি উন্নয়ন দুটো একটির সাথে আরেকটি অতপ্রতোভাবে জড়িত। বাংলাদেশ ধানমন্ডি না, গুলশানও না- বাংলাদেশ হলো পল্লী বাংলাদেশ, গ্রামীণ বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: কৃষকের কাছ থেকে মোট চার লাখ টন ধান কিনবে সরকার ২৬ টাকা দামে। কার্ডধারী ২ কোটি কৃষককে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে ইনসেনটিভ দেওয়ার পরামর্শ ছিল গবেষণা সংস্থা সিপিডি’র।এবারের বাজেটে গার্মেন্টসে এক পার্সেন্ট ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।কৃষকদের সরাসরি ইনসেন্টিভ দেওয়ার সময় কি এসেছে?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: আমি সার্বিকভাবেই বলি যে, এই সরকার আসার পরে যেসব সুযোগ সুবিধাগুলো দিয়েছে- আমি বলেছি প্রথমেই সারের দাম ৮০ টাকা থেকে ২২ টাকায় নিয়ে এসেছি। এখন আর কতো আপনি কমাবেন? এই জন্যে বাজেটে ভর্তুকি আর বাড়ছে না। তার মানে বেশি বাড়ানোর সুযোগ নাই। যেমন, উন্নত বিশ্বে আমেরিকাতে বা জাপানে গ্রোথ বা প্রবৃদ্ধির হার ১ ভাগেরও নীচে অথচ চায়নাতে তা ১০/১২ ভাগের উপরে। তাদের ইকনোমির সাইজ এতো বড় যে, তাতে ১ পারসেন্টও অনেক। অবশ্য চায়নার ইকনোমিও এখন অনেক বড়। কৃষিতেও আমরা যেসব সুযোগ সুবিধা দিয়েছি সেটি অনেক বেশি। এই মুহুর্তে তেমন কিছু আর দেওয়ার নাই। সমস্যা কোথায়? যেমন, এই বছর- গতবার আমাদের বোরোতে ফসল ভালো হয়েছে। গত আউশেও ভালো হয়েছে। আমনেও আমাদের টার্গেটের চেয়ে তেরো লক্ষ টন- এক কোটি চল্লিশ লক্ষ টনের জায়গায় এক কোটি তিপ্পান্ন লক্ষ টন চাল উৎপাদন হয়েছে। এর ফলেই দাম কমা শুরু হয়েছে। এই বোরোও এতো ভাল হবে আমরা আশা করিনি। নতুন কিছু ভ্যারাইটি এসেছে- একাশি, উননব্বই। এই সব ভ্যারাইটি, আবহাওয়ার অনুকূল এবং অন্যান্য কারণে অনেক বেশি উৎপাদন হয়েছে।

হাওর এলাকায় ২০১৭ সালের বন্যাতে অনেক ফসল নষ্ট হয়েছিল। যার কারণে সরকারকে চাল আমদানী করতে হয়েছিল জিরো ট্যারিফে। একটা পর্যায়ে গিয়ে এটাকে আটাশ পারেসেন্টে তুলেছিল তার কারণে কিছু লোভী ব্যবসায়ী বা ইম্পোর্টাররা বিদেশ থেকে এনেছে। এই মুহুর্তে কিন্তু তারাও ঝামেলায় আছে। তাদের গুদামে কিন্তু সেই আমদানীকৃত ফসল রয়ে গেছে। গত আমনেও যারা- মিলাররা চাল কিনেছিল তারা মনে করে নাই যে, এইভাবে চালের দামটা কমে যাবে। আমার এলাকায়ও অনেক বড় বড় মিলার আছেন, তাদের সাথে সব সময়ই কথা হয়। তারা বলে যে, ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছি- চাল আছে ঘরে কিন্তু ক্রেতা নাই।

প্রশ্ন: ৫৫ পারসেন্ট সবশেষ আপনারা যে ডিউটি বাড়ালেন। এটি যদি এক বা দুই সপ্তাহ আগে বাড়ানো হতো তাহলে সমস্যা কি এতো ঘনিভূত হতো?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: গত ডিসেম্বরের পরে চাল কিন্তু আর আমদানী হয়নি। তখন থেকেই এটি বন্ধ হয়ে গেছে। ডিসেম্বরের পরে তেমন আর কোন এলসি হয়নি।

প্রশ্ন: সরকার তার নিজের ক্যাপাসিটি কেন বাড়ায় না?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: আমিও তো নতুন মন্ত্রী হয়ে এসেছি। এসেই একটা সমস্যায় পড়েছি। এই সমস্যা খাদ্যমন্ত্রীরও আছে আমারও আছে। খাদ্যমন্ত্রীর সাথে আলাপ করলাম। ধান কিনবো আমরা আড়াই লাখ মেট্টিক টন। কিনে ধান থেকে আবার ক্রাশ করতে হবে। কিন্তু মিলাররা তা নিচ্ছে না ক্রাশ করার জন্যে। আমাদের ধান তারা ক্রাশ করে দেবে না। তাই আমি খাদ্যমন্ত্রীকে বলেছি- আপনি তাদেরকে চিঠি দেন যে, তোমরা যদি আমাদের ধান ক্রাশ করে না দাও তাহলে তোমাদের কাছ থেকে আমরা চালও কিনবো না। দেখেন- কী রকম সমস্যা?

অন্যদিকে আমাদের গুদামেও জায়গা নাই। ধান রাখতে তো অনেক জায়গা নষ্ট হয়ে যাবে। গুদামে তো চাল তুলতে হবে। এই সমস্যাগুলোর জন্যে দীর্ঘ পরিকল্পনা লাগবে। আমাদের গোডাউনের ধারণ ক্ষমতা-ক্যাপাসিটি আরও অনেক বাড়াতে হবে। এই সমস্যার সমাধান করতে হবে প্রধানমন্ত্রী সেদিন বলেছেন- ২৮ লক্ষ টন আমাদের এই মুহুর্তে কাজ চলছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের আড়াই হাজার কোটি টাকার একটা সার্পোটে ৮টা সাইলো হচ্ছে। সেখানে ৫ লক্ষ ৩৯ হাজার টনের ক্যাপাসিটি আছে। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংকের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তার গতি খুবই স্লো।

প্রশ্ন: আপনি যখন খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন তখনকার প্রকল্প এটি। সেই ২০০৯-২০১৪ মেয়াদে?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: হ্যাঁ, সেই সময়ের প্রকল্প। মাত্র ৩টা পয়েন্টে হচ্ছে। এখন নাকি বিশ্ব ব্যাংক বলছে যে, আমরা রোহিঙ্গাদের টাকা দিয়ে দিচ্ছি তাই তোমাদের এই মুহূর্তে টাকা দেওয়া সম্ভব না। এখন আমাদের নিজস্ব টাকা দিয়ে গুদাম করতে হবে এর কোন বিকল্প নাই।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি দপ্তরে অসংখ্য পদ ফাঁকা। আমাদের লাখ লাখ ছেলেমেয়ে বেকার। আবার সাইলোর অভাবে ধান রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আর বাজারে ইন্টারভিন করা সম্ভব হচ্ছে না?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: বাজার তো একটা কমোডিটি। আলুর কী অবস্থা? একই অবস্থা। টমেটোর কী অবস্থা হলো? ফুলকপি বিদেশে এতো দাম। টমেটোও এক্সপেনসিভ। আর আমরা সিজনের সময়ে বিক্রি করতে পারি না। আলুর উৎপাদন হয়েছে এক কোটি তিন লক্ষ টন। ৩৩ লক্ষ টন আলু সারপ্লাস।

প্রশ্ন: ব্যক্তিখাতে যদি প্রণোদনা বা ঋণের সুবিধা দিয়ে, জায়গা দিয়ে- যে সাপোর্টগুলো লাগে তা দিয়ে আপনারা যদি উৎসাহিত করতে পারতেন তাহলে তো খাদ্য গুদামের সমস্যা দূর হতো?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: খাদ্য গুদাম করলে তো তাদেরকে আবার ভাড়া দিতে হবে। তার চেয়ে বরং আপনি নিজে করেন এটি তো সারা জীবনই লাগবে। কোরিয়াতে ৫০-৬০ পারসেন্ট চাল পুরোটাই সরকার কিনে নেয়। জাপানও প্রায় মেক্সিমামটাই কিনে নেয়। কিনে নিয়ে আবার কম পয়সায় জনগণের কাছে বিক্রি করে। কৃষি সারাবিশ্বেই সাবসিডাইজড সেক্টর। প্রকৃতি নির্ভর তাই অনেক সময়ই সহযোগিতা ও প্রণোদনা দিতে হয়। বাংলাদেশও দিয়ে আসছিল এই সরকার আসার পর থেকে। কিন্তু এইবার যে সমস্যাটা হয়েছে ইন্সট্যান্ট।

আমরা অনেকগুলো চিন্তা করেছি কিন্তু ইন্সট্যান্ট কিছু করতে পারছি না। যেমন, মিলারদের আমরা বলতে পারতাম আমি তোমার গুদামের মাধ্যমে চাষীদের কাছ থেকে ধান কিনবো। ধরেন, কোন গুদামকে আমি বললাম- তুমি পাঁচ হাজার ধান কিনে ক্রাশ করে দাও। আমি ক্রাশিংয়ের পয়সা দিবো। পরিবহনের পয়সা দেব এবং ক্রাশিংয়ের সাথে লাভও দিবো। এটি এর আগে করা হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা হলো তিন শত কোটি টাকা মিলারদের কাছে আছে। সব হাইকোর্টে রীট করে সরকারের টাকা আটকে দিয়েছে। চালও দেয় নাই। কৃষকের টাকা সরকার দিয়ে দিয়েছে। এই হলো বাংলাদেশ! এজন্য এই মুহুর্তে খাদ্য মন্ত্রণালয় ভরসা পাচ্ছে না। তারা বলছে- একটা আইন করতে হবে সরকারকে। সমস্যা হলো- একজন চাষী ১০ মন বা ২০ মন গুদামে দিবে। ধানটা নিয়ে আসলো- ময়েশ্চার মিটার দিয়ে মেপে বলছে যে, তোমার ১৬ পারসেন্ট ময়েশ্চার আমি নেবো না। এই সুযোগটা নেয়। তাই আমরা বলছি প্রতি ওয়ার্ডে ময়েশ্চার মিটার দেবো। ৩-৪ হাজার মিটার কিনে দেব। কৃষি অফিসার গিয়ে মেপে বলবে যে, হ্যাঁ- তোমার ধানের ময়েশ্চার ঠিক আছে তুমি গুদামে নিয়ে যাও। আমরা ওমুক মিলারের সাথে আলাপ করে রাখছি মিলারে গেলে তোমার ধান নিয়ে নেবে। মিলার এটা ক্রাশ করে আমাকে চালটা দেবে। পরবর্তী বছরে এটি আমরা করবো।

প্রশ্ন: সরকারের চেয়ে সিন্ডিকেট বড় হতে পারে না- যার জন্যে কৃষক ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে না?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: এই সমস্যাকে আমরা খুবই বড় হিসেবে নিয়েছি। কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। চাষী হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে। তাদের ঘাম ও শ্রমের মূল্য দিতে হবে। কৃষি যদি লাভজনক না হয় তাহলে কৃষক কেন ফসল ফলাবে?

প্রশ্ন: চাষীদের উপকরণ সহায়তার জন্যে কী আছে এবারের বাজেটে?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: উন্নয়ন বাজেটে ৯ হাজার কোটি টাকা আছে চাষীদের উপকরণ সহায়তা দেওয়ার জন্যে। উপকরণ মূলত হলো সার যেটা আমরা দেই। সেখানে ৬ হাজার কোটি টাকার মত লাগে। ৩ হাজার কোটি টাকা প্রায় প্রতি বছর সেভ হয়। এবার অবশ্য একটু বেশি লেগেছে। এবার যন্ত্রপাতি কেনার জন্যে বিশেষ করে হারভেষ্টে- এই তিন হাজার কোটি টাকা দেবো। এবার নীতিগতভাবে বাজেটে এই কথা দেওয়া হয়েছে।এই বেঁচে যাওয়া তিন হাজার কোটি টাকা খরচের জন্যে এবারে নীতিমালা করা হয়েছে।

প্রশ্ন: বোরো ধান চাষের বিকল্প আপনি কোন কিছু ভাবছেন কি?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: বোরো ধানের বিকল্প আমরা ইন বিটুইন আরও একটা ফসলের ব্যাপারে চিন্তা করছি।কৃষি অনেক জটিল প্রক্রিয়া। মাষ্টার্ড বা শর্ষে- আমরা ছোটবেলায় জানতাম শর্ষেই আমাদের এডিবল ওয়েল বা ভোজ্য তেলের প্রধান উৎস। আমরা এটি খেতাম। তারপরে এটি নিয়ে নানা কথাবার্তা হওয়ার পরে সয়াবিন এলো। সয়াবিন তো হয়ই না? সয়াবিন মাত্র ১৫ শতাংশ আর বাকীটা পামওয়েল। সব মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে আসে এবং কি পরিমাণ আসে আপনারা শুনে আশ্চর্য হবেন। বহু মানুষ এটা জানেন না। ৩১ হাজার কোটি টাকার পামওয়েল এদেশে আসে তার মানে প্রায় ৪ বিলিয়ন। এর মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকা আসে একদম ভোজ্য তেল হিসেবে বাকীটা আসে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ওয়েল হিসাবে- বিষ্কুট, সাবান ও অন্যসব পণ্য উৎপাদনের জন্যে। এতো হিউজ পরিমাণ টাকা। আমাদের সুন্দর কতগুলো ভ্যারাইটি এসেছে- বারি। ইন বিটুইন যদি ধানের এবং বোরোর মাঝে একটা শর্ট ডিউরেশন ভ্যারাইটি করা যায় তাহলেও কৃষি উপকৃত হবে।

প্রশ্ন: কোষ্টাল এরিয়াতে সান ফ্লাওয়ার করা যায়?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: কোস্টাল এরিয়াতে সান ফ্লাওয়ার এবং মেইজ এর সম্ভাবনা প্রচুর। এবার পটুয়াখালীতে মেইজ খুব ভাল হয়েছে।

প্রশ্ন: কৃষির যান্ত্রিকীকরণের কথা আপনি বলছিলেন। যেদিন অর্থমন্ত্রীর কাছে কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেটের এর সুপারিশগুলো তুলে দেওয়া হয় তখন অর্থমন্ত্রী বারবার বলেছিলেন, আমরা হিউজ মেকানাইজেশনে যাব?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: এখন এগ্রো প্রসেসিংয়ে ২০ পারসেন্ট ইনসেনটিভ দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, দরকার হলে আরও দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ২৫-৩০ পারসেন্ট দেওয়ার কথাও বলেছেন অর্থমন্ত্রী। এটি অর্থমন্ত্রীর কথা, কোন সিদ্ধান্ত নয়।

প্রশ্ন: চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে আরও বেশি ইনসেনটিভ এর কথা বলেছেন?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: হ্যাঁ। চাল রপ্তানিতে এখন ২০ পারসেন্ট ইনসেনটিভ আছে। তিনি এর বেশিও দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে এটির ব্যাপারে কোন নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি। যেই দুটো সিদ্ধান্ত হয়েছে তা আমি বলেছি- একটি হলো সেচের খরচ কমিয়ে আনা এবং অন্যটা তিন হাজার কোটি টাকা কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে ডাইভার্ট করবে। কিন্তু ইনসেনটিভ বাড়ানো যদি এক্সপোর্টাররা আসে এবং ভাল বাজার পায় আমরা এক্সপোর্ট করছি। ফিলিপিনের একটা গ্রুপ আসছে দেখার জন্যে। যদি পাওয়া যায় তবে অর্থমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে আমাকে বলেছেন যে, তিনি ইনসেনটিভটা আরও বাড়িয়ে দেবেন। ২০ এর সাথে আরও ৫-১০ যোগ করে দেবেন।চালের দাম

প্রশ্ন: এর আগেও ক্রপ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে পাইলিটিং হয়েছে। আবার এবারও হাওর এলাকায় পাইলিটিং হচ্ছে। পাইলটিং থেকে বেরিয়ে ক্রপ ইন্স্যুরেন্সে আসা সম্ভব হচ্ছে না- কেন?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: এই ব্যাপারে এটি বলতে চাই- যেমন, সিপিডি একটি প্রস্তাব দিয়েছে ৫ হাজার টাকা করে আমরা যদি কৃষককে ইনসেনটিভ দেই। ৫ হাজার করে দিলে ৯ হাজার কোটি টাকা লাগে। ১ কোটি ৫০ লক্ষ বা ২ কোটি চাষী যদি হয়।অর্থনীতিবিদ হিসাবে তারা এই ধরণের প্রস্তাব কিভাবে দেন? আমার কাছে তা বোধগম্য না। একজন চাষী যে ১ হাজার মন ধান পায় । এমনও চাষী আছেন যিনি একশো দেড়শো বা দুইশো মন ধান পায়। তার ৫ হাজার টাকা নিয়ে কি লাভ হবে? এটা তো কোন প্রস্তাব হলো না? বরং উনারা যদি বলতেন এই বছর যাই হোক- এই যে টিএসপি এটি ২২ টাকা আছে এটি ১২ টাকায় নিয়ে আসেন। তারা এই প্রস্তাব দিতো। তারপরে পটাশিয়াম- এটাকে আরও কমিয়ে নিয়ে আসেন। বীজের উপরে আরও বেশি ইনসেনটিভ দেন। কিন্তু ক্যাশ ৫ হাজার টাকা দিয়ে মানুষের কি হবে ছেলেমেয়ের জামা কাপড় কেনা ছাড়া? ইটস এ রং অ্যাপ্রোচ। অর্থনীতির কোন সূত্রে এসব পড়ে না। মানুষকে খুশি করার জন্যে তারা সস্তা প্রস্তাব দিয়েছে। এখন অনেক রাস্তা আছে আমি বলি- যেমন, একজন ষ্কুল শিক্ষক। তিনি শিক্ষকতা করেন। দুই তিন বিঘা জমি হলে তার খাওয়ার ধান হয়ে যায়। তাই তিনি ষ্কুলের বেতনের টাকা তোলেনই না। আমার এক কাজিন। তার একটি ডেইরি ফার্মে ২২ জন কাজ করে। তার মধ্যে ২১ জনে বাসায় ফ্রিজ আছে। এই সব তো অগ্রগতির চিহ্ন।

প্রশ্ন: আমাদের এই ষ্ট্রেনথ যদি ডাইন প্লে করতে থাকি তা কি অবিচার করা হবে না?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: এটাকে ডাইন প্লে বলার কোন সুযোগ নাই। গ্রামে নন এগ্রিকালচারে ছোট ছোট ওয়ার্কশপ করা। আমরা বলছি যে, যান্ত্রিকরণ করবো। এর মেইনটেন্স তো লাগবে?

প্রশ্ন: কৃষকের পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করবেন কিভাবে?
ড. আব্দুর রাজ্জাক: ধানের প্রাইস আমরা অ্যাড্রেস করবো। যাতে নূন্যতম দাম তারা পায় এবং কৃষিটাকে লাভজনক করতে গভীরভাবে চিন্তা করছি আমরা। শুধু ইউরিয়া নয়- নন ইউরিয়া ফার্টিলাজারের দাম আরও কিছুটা কমানো প্রস্তাবে আছে তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সারের দাম কমালে ধনী গরিব সব কৃষকেরই উপকার হবে। যে কোনভাবেই বিপর্যয় কাটিয়ে কৃষিকে লাভজনক করার ব্যাপারে গভীরভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।