চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিদেশে নারী জনবল পাঠানোর বিষয়ে দরকার সতর্কতা

আলোচনায় ও সমালোচনায় সৌদি আরবসহ বিদেশে নারী জনবল পাঠানোর বিষয়টি। অনেক বছর হলো নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে বিদেশ থেকে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে লাশ হয়ে নয়তো নির্যাতিত হয়ে ফিরে আসছে অনেক নারী জনবল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর নারীর ভিডিও ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের এক বক্তব্যে সেইসব প্রেক্ষাপটকে আবারও উসকে দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর নিয়ে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিদেশে বিশেষ করে সৌদি আরবে পাঠানো নারী শ্রমিকদের বিষয়ে নানা কথা বলেছেন। তার বক্তব্যে নারী শ্রমিকদের ফিরে আসা ও মৃত্যুর বিষয়ে নানা তথ্য-উপাত্তসহ কিছু প্রেক্ষাপটের ব্যাখ্যা ছিল, যা সহজভাবে মেনে নেয়নি নেটিজেনরা। সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ায় সেই বক্তব্য।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ থেকে কাজের জন্য বিদেশে যাওয়া নারীদের ৮০ শতাংশের গন্তব্য সৌদি আরব। গৃহখাতে নারী কর্মী নিতে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে সৌদি আরব। প্রথমে কমবেশি ১ হাজার ৫০০ রিয়াল (প্রতি রিয়াল এখন ২২ টাকা) বেতনের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত ৮০০ রিয়ালেই গৃহকর্মী পাঠাতে রাজি হয় বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় একটু ভাল থাকার আশায় এরপর থেকেই সেখানে যেতে শুরু করেন দেশের নারীরা। তবে সেখানে গিয়ে ভাল থাকার বদলে নানা নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে আসথে শুরু করেন নারীরা। সৌদিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং থেকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ২ হাজার ২২২ নারী গৃহকর্মী। আর ব্র্যাক অভিবাসন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে সৌদি আরব থেকে নির্যাতিত নারীর ফিরে আসার সংখ্যা বাড়ছে। আর ফিরে আসা ওইসব নারীদের বয়ানে উঠে আসা চিত্র পুরো জাতিকে ভাবিয়ে তুলেছে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর যৌক্তিকতা নিয়ে।

কোনো সন্দেহ নেই এই বিষয়গুলো নিয়ে জনগণ যেমন চিন্তিত, তেমনই সরকারও চিন্তিত। হয়তো কথার পিঠে কথা আর ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্য জনগণকে আহত করেছে। আমরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি শুধু রেমিটেন্স আর কর্মসংস্থানের দিকটি এগিয়ে না রেখে নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে দেখা বা নিশ্চিত করা রিক্রুটিং এজেন্সি ও সরকার থেকে শুরু করে আগ্রহী নারীর একান্ত করণীয়। দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আমাদের আশাবাদ।

Bellow Post-Green View