চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিতর্কিত তালিকা স্থগিত নয়, প্রত্যাহার জরুরি

স্বাধীনতার ৪৮ বছরের মাথায় সরকার একটি রাজাকার তালিকা প্রণয়ন করেছে গত ১৫ ডিসেম্বর। বহুল প্রত্যাশিত এবং স্বাধীনতার পক্ষের মানুষদের নিকট বহু আকাঙ্খিত এই তালিকা দেশবাসীকে প্রচণ্ড হতাশ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রণীত এই তালিকা শুধু ভুলে ভরা নয়, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের মতো কাণ্ড ঘটানো হয়েছে এতে। এই তালিকা একাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানিয়ে ছেড়েছে। গেজেটভুক্ত এবং ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকারের তালিকায় রাখা যে কতোটা অসম্মান, আর অমর্যাদার বিষয় তা সহজেই বোধগম্য।

বিজ্ঞাপন

শেষ পর্যন্ত বুধবার গণভবনে আওয়ামী লীগের চলতি কমিটির শেষ কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের শুরুতে ‘রাজাকার তালিকা’ নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন: কোনো মুক্তিযাদ্ধাকে রাজাকার খেতাব দেয়া হবে না। এটা হতে পারে না। এ তালিকায় যেসব মুক্তিযোদ্ধার নাম এসেছে তাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি।

শেখ হাসিনা বলেন: একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম যখন রাজাকার লিস্টে থাকে তখন তার কতোটা খারাপ লাগতে পারে একবার চিন্তা করে দেখুন। আমি তাদের এতটুকু বলতে পারি তাদের নাম কোনোভাবেই রাজাকার লিস্টে থাকতে পারে না। এটা তারা নিশ্চিত থাকুক। ইতোমধ্যে এটা তাদের বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে দেখবে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর এ কথায় আমরা আশাবাদী। এতে অপমানের শিকার হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষত কিছুটা হলেও কমবে বলে আমরা মনে করি। কীভাবে এমন অমার্জনীয় ভুল হলো, এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানিরা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে যে তালিকা করেছিল, সেই তালিকার কিছু নাম ভুলে রাজাকার তালিকায় চলে এসেছে।

বরিশালের বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীর বাবা গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা তপন চক্রবর্তীসহ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযোদ্ধাকেও রাজকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্মীয় সেরনিয়াবত পরিবারকেও এই তালিকায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা বলেই বিবেচিত হবে।

আরও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে তালিকায়। মহান স্বাধীনতার বিরোধিতা করে ওই সময় যারা রাজাকার, আলশামস, আলবদরের মতো সংগঠনের নেতা ছিল; যারা একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড পেয়েছে, তাদের নাম নেই তালিকায়!

আমরা মনে করি, সরকারের ভেতর আরেকটি সরকার এমন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। বাংলাদেশের জন্মের বিরোধিতায় লিপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজকেও কারা এমন হাস্যকরভাবে করেছে? এমন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের কেন্দ্রে কারা? তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অবশ্য এতেও পাপের দায় থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। গর্হিত, রাষ্ট্রবিরোধী সদূরপ্রসারি চক্রান্তের তীব্র নিন্দার পাশপাশি রাজাকারের বিতর্কিত তালিকা প্রত্যাহার করে সঠিক তালিকা প্রণয়ন চাই।

সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অতি সত্বর ব্যবস্থা গ্রহণ করে জাতিকে বিভ্রান্তির কবল থেকে রক্ষা করবে বলে আমাদের আশাবাদ।