চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিএনপির মিথ্যাচারের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

মিথ্যাচার করে বিএনপি যাতে আর কোনদিন ক্ষমতায় আসতে না পারে- এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক।

বাসস জানায়, আজ রবিবার টাঙ্গাইলের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সবসময় মিথ্যাচার ও ইতিহাস বিকৃতি করে ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপি শুরু থেকেই নানান মিথ্যাচার ও ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায় আসে। বিএনপির এই মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র এখনও চলছে, আগামীদিনেও হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে যাতে মিথ্যাচার করে বিএনপি আর কোনদিন ক্ষমতায় আসতে না পারে’।

মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিগত ১২ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই সময়ে সকল ক্ষেত্রে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। সারা পৃথিবীতে যা প্রশংসিত হচ্ছে। ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ পেয়েছেন। আমরা উন্নয়নের এ ধারাকে ধরে রাখতে চাই। এটি করতে হলে আগামীদিনেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থাকতে হবে’।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আরও বলেন, এ উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বিএনপি ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তারা অতীতের মতো এখনও অপতৎপরতায় ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতায় আসায় এই বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত, ধর্মান্ধরা ভেতরে ভেতরে খুব উৎফুল্ল। সেখান থেকে টাকা আসবে, অস্ত্র আসবে আর দেশে তারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে-এই আশায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাদের সকল ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা শক্ত হাতে মোকাবিলা করবে।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ড. রাজ্জাক আরও বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থে দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে না গিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, ২ বছরের মধ্যেই আগামী জাতীয় নির্বাচন। এর আগেই দলকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সেজন্য অতিদ্রুত দলের জেলা, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সম্মেলন শেষ করতে হবে। এসময় বিভিন্ন সম্মেলন ও কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, দলের জন্য আগামীদিনের নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। সেজন্য তরুণ ও আগামী প্রজন্মকে দলে বেশি করে সুযোগ দিতে হবে, তাদের হাতে দলকে তুলে দিতে হবে। তরুণদেরকে আওয়ামী লীগের আদর্শে উজ্জীবিত করতে হবে। শিক্ষিত মেধাবী তরুণদেরকে দলে জায়গা দিতে হবে। একইসাথে, প্রবীণ ও অভিজ্ঞদের বুদ্ধি-পরামর্শ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম সঞ্চালনায় আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, ছোট মনির, ছানোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।