চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাল্যবিয়ে-শিশু নির্যাতন বন্ধে আরও পদক্ষেপ জরুরি

করোনাভাইরাস মহামারীকে কেন্দ্র করে যখন দেশের মানুষ নানান সমস্যায় জর্জরিত, তখন শিশুদের নিয়ে উদ্বেগজনক কিছু তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। সংস্থাটি বলছে, তাদের কর্ম এলাকায় গত জুন মাসে ৪৬২ জন কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। আগের মাসে যে সংখ্যাটি ছিল ১৭০। যদিও গত মাসেই ২০৭টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে পেরেছে এমজেএফ। তা না হলে আরও কিছু শিশুর জীবন হয়ে উঠতো অভিশপ্ত।

শুধু বাল্যবিয়েই বাড়েনি, এই সময়ে বেড়েছে শিশু নির্যাতনের সংখ্যাও। গত মাসে ২ হাজার ৮৯৬ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যাদের মধ্যে ৫৮ ভাগ মেয়ে, আর ৪২ ভাগ ছেলে। শিশু নির্যাতনের এই সংখ্যাকে আশঙ্কাজনক বলে মন্তব্য করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

বিজ্ঞাপন

আমরা জানি, এই তথ্য নির্দিষ্ট কিছু কর্ম এলাকার হলেও কম-বেশি পুরো দেশে বাল্যবিয়ে এবং শিশু নির্যাতনের চিত্র বলতে গেলে একই রকমের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আবার বেশিও হতে পারে। গত তিন দশক ধরে শিশুদের অধিকার রক্ষায় খুব ভালো কাজ করে যাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি বহু প্রতিষ্ঠান। সেই কাজের সুফলও অনেকক্ষেত্রে পেয়েছে দেশ। শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা নিয়ে তৈরি বিভিন্ন সূচকেও তার প্রমাণ মেলে। কিন্তু তারপরও বাল্যবিয়ে এবং শিশু নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সেক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতাকে যেমন অস্বীকার করা যায় না, তেমনি কিছু অভিভাবক তারাও দায় এড়াতে পারেন না। আমরা দেখেছি, অনেক সচেতন অভিভাবকও নিজের সন্তানের বাল্যবিয়ের আয়োজন করতে। আর এসব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোও চোখ বন্ধ করে রাখে। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় সেই শিশুরাই। অথচ তাদের জীবনও সাফল্যের আনন্দে ভরে উঠতে পারতো।

প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির দাবি, ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে প্রেস রিলিজ দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে বিভিন্ন তথ্য প্রচারের আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের এ সংস্থাগুলো বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রচার করেছে বলে কোনো তথ্য তাদের জানা নেই।

করোনাভাইরাসের কারণে কয়েক মাস ধরেই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। আর এই সুযোগটিই নিচ্ছেন কোনো কোনো অভিভাবক। পরিস্থিতির কারণে ঘরে বন্দী হয়ে থাকা মেয়েশিশুদের বোঝা মনে করছেন তারা। বাল্যবিয়ে দিয়ে হলেও মুক্তি পেতে চাইছেন। এতেই বাড়ছে বাল্যবিয়ে। এর বাইরে যৌন নির্যাতনসহ আরও কিছু বিষয়তো আছেই।

আমরা মনে করি, বাল্যবিয়ের পাশাপাশি শিশু নির্যাতন বন্ধে আরও শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ। না হলে এক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য দ্রুতই ব্যর্থতার চাদরে ঢাকা পড়বে।