স্ত্রী মেগান মার্কেল ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনা ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়েছেন প্রিন্স হ্যারি। ‘ডেইলি মেইল’-এর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স লিমিটেডের (এএনএল) বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহ ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মামলায় হেরেছেন তিনি ও আরও ছয় বাদী।
মামলায় হেরে যাওয়ায় বাদীদের এখন এএনএলের আইনি খরচ বহনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, এ খরচ সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ৫৭৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা হতে পারে।
শুক্রবার যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টের বিচারপতি নিকলিন আইনি ব্যয় নিয়ে এক আদেশে বাদীদের আগামী শুক্রবারের মধ্যে এএনএলকে প্রাথমিকভাবে ৯৫ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্য বাদীদের মধ্যে গায়ক এলটন জন, তাঁর স্বামী ডেভিড ফার্নিশ, সাবেক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির উপনেতা সাইমন হিউজেস, অধিকারকর্মী ব্যারনেস লরেন্স, অভিনেত্রী স্যাডি ফ্রস্ট ও লিজ হার্লি রয়েছেন।
গত ৭ জুলাই বিচারপতি নিকলিন ডেইলি মেইলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে বাদীদের দাবিগুলো খারিজ করে দেন। এএনএল শুরু থেকেই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে।
আদালত প্রিন্স হ্যারি ও অন্য ছয় বাদীকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, বাদীদের আইনি খরচের একটি অংশ বিমার আওতায় রয়েছে। তবে এএনএল জানিয়েছে, মামলায় নিজেদের পক্ষে লড়তে তাদের ব্যয় ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত হয়েছে। ফলে বিমার আওতার বাইরে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডের অতিরিক্ত বিলও বাদীদের বহন করতে হতে পারে।

বিচারপতি নিকলিন এএনএলের দাবি করা আইনি খরচের পরিমাণকে অত্যন্ত বেশি বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ৩ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডের বেশি খরচের দাবি আপাতদৃষ্টিতে অতিরিক্ত মনে হচ্ছে। তবে এএনএলের আইনি খরচ আদায়ের ওপর কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেননি তিনি।
আদালত আরও বলেছে, গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করার পর কোনো পক্ষ যদি সেই অভিযোগ নিয়ে আর এগোতে না চায় বা যথেষ্ট প্রমাণ না থাকে, তাহলে স্পষ্টভাবে অভিযোগ প্রত্যাহার করা উচিত ছিল। বাদীরা অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় বিষয়টি মামলার ব্যয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এএনএল রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি সংবাদপত্রটির সাংবাদিক, সম্পাদক ও নির্বাহীদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা।
এদিকে রায়ের কয়েক দিন আগেই প্রিন্স হ্যারি ও মেগান যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁদের সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটকে আগামী সেপ্টেম্বর সেশনের জন্য যুক্তরাজ্যের একটি স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।









