চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বারবার আঘাতেও আওয়ামী লীগ ভেঙে পড়েনি: শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বারবার আঘাত আসা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ কখনও ভেঙে পড়েনি। আঘাতটা যে শুধু পাকিস্তান আমলে হয়েছে তা নয়, ৭৫’এ জাতির পিতাকে হত্যার পর থেকে এখন পর্যন্ত দলটিকে নিয়ে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে।

‘জাতির পিতাকে যখন হত্যা করা হলো তারপর যারা এ দলটিকে ধরে রেখেছিল, তাদের উপর যে অত্যাচার নির্যাতন হলো সেটা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করাই ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু যতই এ দলটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে আওয়ামী লীগ ততো বেশি শক্তিশালী হয়েছে।’

সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাধীনতার পরও বারবার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পরীক্ষা দিয়ে যেতে হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের সব থেকে বড় গুণ হলো দেশের মানুষের প্রতি দলটির কর্তব্যবোধ-দায়িত্ববোধ এবং ভালোবাসা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এতো ত্যাগ-তিতিক্ষা করেছে বলেই এ দলটি ৭০ বছর টিকে আছে।

বিজ্ঞাপন

৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আবারও সেই পাকিস্তানী হানাদারদের অত্যাচার সইতে হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একাত্তরে যেমন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর লক্ষ্য ছিল গ্রামগঞ্জে যেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বাড়িঘর তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া। প্রত্যেকের উপর আঘাত এসেছে। দেশ যখন স্বাধীন হলো পঁচাত্তরের পর আবারও সেই একই আঘাত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জীবনে নেমে আসলো। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতার পরপরই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যসহ ৭ জন নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন: আওয়ামী লীগের ইতিহাস যদি দেখেন দেখবেন কত আত্মত্যাগ। আমার মনে হয় না কোনো রাজনৈতিক দল কোনো দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য এতো আত্মত্যাগ করেছে কিনা?

‘‘আওয়ামী লীগকে বারবার ভাঙ্গা-গড়ার খেলা তো আছেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক দল যতবারই ষড়যন্ত্র করে ভাঙ্গার চেষ্টা হয়েছে ততবারই আরও শক্তিশালী হয়েছে। হীরার টুকরা যত কাটে তত উজ্জ্বল হয়। আওয়ামী লীগেও ঠিক সেটাই হয়েছে। যে যখনই ক্ষমতায় এসেছে সবার আগে আওয়ামী লীগের উপর আঘাত হেনেছে।’’

বঙ্গবন্ধু কন্যা আরো বলেন, ‘২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর যে সীমাহীন অত্যাচার করা হয়েছে। ওই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসলো। তার আগে তো ক্ষমতায় ছিলো বিএনপি। যখন কোথাও ইমারজেন্সি আসে কী হয়? তার ইমিডিয়েট ফাস্ট অর্থাৎ তার আগে যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের উপর আঘাত আসে। কিন্তু আসলো আওয়ামী লীগের ওপর। আমাকে দেশে আসতে দেবে না। আমি যখন জোর করে দেশে আসলাম, আমাকে গ্রেপ্তার করা হলো। আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলো।’

 

বিজ্ঞাপন