চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাবুল আক্তাররা হেরে গেলে হেরে যাবে সত্যের শক্তি

বাবুল আক্তার নামে এক দেশে ছিল একজন সৎ ও ব্যক্তিত্ববান পুলিশ অফিসার। অত্যন্ত সুনামের সাথে তিনি পুলিশ বিভাগে কাজ করে যাচ্ছেন। চারদিকে তার নাম-ডাক, পদকে পদকে ভূষিত হচ্ছেন সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন বিভাগ থেকে। সারাদিন তার কাটে চোর-ডাকাত আর সন্ত্রাসী ধরার পেছনে। একের পর এক চমক লাগানো ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে চলেছেন। অত্যন্ত সুখী একটি পরিবার নিয়ে তিনি বসবাস করেন। ঘরে আছে ফুটফুটে দুটি সন্তান আর স্ত্রী। দিনেশেষে ঘরে স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে সুখের গান। অন্যদিকে ক্রমেই বেড়ে চলেছে তার শত্রুর সংখ্যা।

মু হা হা বলে প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বার্থে আঘাত লাগা বাহিনী। কোনভাবেই তাকে দমন করে যাচ্ছে না। খুব বড় কোন পদে না হয়েও কোনভাবেই তাকে বাগে আনা যাচ্ছে না। অথচ অনেক উচুঁ পদের ব্যক্তিরাই চলে এসেছে তাদের পকেটে। কি করা যায় কি করা যায়, এলোপাথারি পায়চারি চলছে। এমনসময় দৃশ্যপটে এলো তীক্ষ্ণবুদ্ধির একজন। বুদ্ধি দিল মারতে হয় তো অই বেটা বাবুলের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা এবং সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিটিকেই মারো। যেমন কথা, তেমন কাজ। একদিন সকালবেলা স্কুলে যাবার পথে মু হা হা করতে করতে দুষ্টু লোকেরা খুন করলো সেই বাবুলের স্ত্রীকে, তারই প্রিয় সন্তানের সামনে।

ভাবছেন এটি কোন বাংলা সিনেমার প্লট? না এতকাল ধরে এই দৃশ্য আমরা কেবল সিনেমার পর্দাতে দেখলেও এখন তা বাস্তব। বাবুল আক্তার এখানে কোন সিনেমার চরিত্র নন, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া ঘটনার শিকার সেই চরিত্র যার প্রতি প্রতিশোধ নিতে সন্ত্রাসীরা বেছে নিয়েছে তার প্রাণপ্রিয় স্ত্রীকে। এইসব ঘটনা এখন আমাদের দেশের নিত্যদিনের চিত্র। কিন্তু অন্য ঘটনার সাথে এর একটি মৌলিক পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়। এখানে টার্গেট করা হয়েছে সমাজের আইনশৃংখলা রক্ষায় দায়িত্বরত একজন নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসারকে যিনি বারংবার নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে এগিয়ে গেছেন দেশের জীবন বাচাঁতে।

বিজ্ঞাপন

আরেকটি বিষয় হলো, সন্ত্রাসীরা সরাসরি বাবুলকে টার্গেট না করে করেছে তার প্রিয় স্ত্রীকে আর আমি বলবো তার সন্তানকেও। যে সন্তান তার চোখের সামনে মাকে নির্মমভাবে খুন হতে দেখেছে তার মনন জগতের কি ক্ষতিসাধন হলো সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারবো না। এই শিশু কি আর জীবনে কোনদিন ভুলতে পারবে এই নির্মম দৃশ্য? আর সেই বাবুল আক্তার কি পারবেন আগের সেই সাহসী বাবুল হতে? এইসব প্রশ্নগুলোকে মাথায় রেখেই সন্ত্রাসীরা বাবুলকে খুন না করে তার স্ত্রীকে বেছে নিয়েছে প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে।

সিনেমায় হয়তো আমরা দেখি এমন দৃশ্যের পর একজন সন্তানের মনে জমা হতে থাকে প্রতিশোধের আগুন। জীবনের বিভিন্ন স্তরে সে খুঁজে বেড়ায় তার মায়ের খুনীকে। সময়মতো হয়তো সে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। কিন্তু বাস্তবে কি সেটা আমরা আশা করি? আমরা চাই– এই সন্তান মাকে ফিরে না পেলেও মায়ের খুনের বিচার যেন পায়। যে বা যারাই তাকে মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত করেছে, এই দেশ- দেশের সরকার তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে যেন আর কেউ স্ত্রীকে হারিয়ে অসহায় দৃষ্টিতে সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যত কল্পনা করবে না; যেন আর কোন সন্তান খুন, সন্ত্রাস, মৃত্যু এই সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান হবার আগেই মাতৃহারা না হয়ে যায়। দেশ যেন বাবুলদের সেবা যুগে যুগে নিশ্চিত করতে পারে। কারণ বাবুল আক্তাররা হেরে গেলে হেরে যায় বাংলাদেশ, হেরে যায় মনুষ্যত্ব, হেরে যায় বিবেক আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল
আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন