চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাবা সুস্থ থাকুন, দীর্ঘায়ু হোন: ত্রপা

মঞ্চ নাটকের পথিকৃৎ, নাট্য নির্দেশক ও খ্যাতিমান অভিনেতা রামেন্দু মজুমদারের জন্মদিনে শুভেচ্ছা

বাংলাদেশের মঞ্চ নাটকের ইতিহাসে একটি কিংবদন্তিতুল্য নাম! স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বাংলাদেশের মঞ্চ নাটককে যারা নিজ হাতে গড়ে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন তাদের মধ্যে তিনি একজন। বলা যায়, বাংলা মঞ্চ নাটকের পথিকৃৎ। তিনি মঞ্চ নির্দেশক, নির্মাতা ও খ্যাতিমান অভিনেতা রামেন্দু মজুমদার। ৯ আগস্ট এই গুণী মানুষটির জন্মদিন।

এমন বিশেষ দিন উপলক্ষ্যে তিনি এসেছিলেন চ্যানেল আইয়ে। দুপুর সাড়ে বারোটায় চ্যানেল আইয়ের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘তারকা কথন’-এ অংশ নিয়েছেন তিনি। অনন্যা রুমার প্রযোজনায় অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন দিলরুবা সাথী। এই অনুষ্ঠানে জন্মদিনের এই বিশেষ দিনেও বাংলা মঞ্চ নাটকের চড়াই উৎরাইয়ের গল্প শোনান রামেন্দু মজুমদার।

জন্মদিনের বিশেষ দিনটিকে আর দশটা পাঁচটা দিনের মতোই মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, জন্মদিন প্রত্যেকের নিজস্ব অনুভূতির একটা ব্যাপার। জন্মদিনের এই আনুষ্ঠানিকতায় বিশ্বাস না করলেও পরিবারের মাঝেই বেশি সময় দেয়ার চেষ্টা থাকে। সবাই মিলে একসাথে কোথাও খেতে যাই এই আরকি।

লাইভে অনুষ্ঠান চলার মধ্যেই বাবা রামেন্দু মজুমদারকে শুভ কামনা জানানোর জন্য ফোন দেন একমাত্র মেয়ে ত্রপা মজুমদার। তিনি জানান, আমার জীবনে সবচেয়ে বড় জায়গা জুড়ে আমার বাবা-মা। আমি তাদের একমাত্র সন্তান। তারা ভালো থাকলে আমি ভালো থাকি। তারা সুস্থ থাকলেই আমি সুস্থ থাকি। আজকের এই বিশেষ দিনে এটাই আমার প্রার্থনা, বাবা সুস্থ থাকুন, তিনি দীর্ঘায়ু হোন।

ত্রপা ফোন রেখে দিলে মেয়ের সম্পর্কে বলেন রামেন্দু মজুমদার। নাটকের ক্ষেত্রে ত্রপা খুব সিরিয়াস জানিয়ে রামেন্দু বলেন, ত্রপা নাটকের ক্ষেত্রে খুব সিরিয়াস। নির্দেশনায় সে এখন খুব ভালো করছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে সে এখন আমার বিবেক হিসেবে কাজ করে। আমি যখন কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেই তখন মেয়ে সেটা স্পষ্ট আমাকে বলে। যে অনুযায়িই আমি চালিত হই।

বিজ্ঞাপন

কথা প্রসঙ্গে বর্তমান মঞ্চ নাটকের হাল নিয়েও কথা বলেন রামেন্দু মজুমদার। নাটকের দর্শক কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ঢাকার যান্ত্রিকতাকে দায়ী করেন খ্যাতিমান এই অভিনেতা। তিনি বলেন, আমরা আগের চেয়ে দর্শক হারিয়েছি। এরজন্য কিছুটা হলেও রাজধানীর জীবন মান দায়ী, রাজধানীর তীব্র যানজট দায়ী। শিল্পকলা হচ্ছে সেগুনবাগিচায়। মিরপুর, উত্তরা কিংবা গুলশান থেকে যে দর্শক নাটক দেখার মনস্থির করেন তাকে দেড় ঘন্টা নাটক দেখার জন্য চার ঘন্টা যাতায়াতের জন্য আলাদা সময় রাখতে হচ্ছে। তো দেড় ঘন্টা নাটকের জন্য চার ঘন্টা সময় নষ্ট করে কেউ নাটক দেখতে আসবে এটা মনে করি না।

স্ত্রী ফেরদৌসী মজুমদারের সঙ্গে রামেন্দু মজুমদার

তবে এর সুরাহাও আছে বলে জানান রামেন্দু মজুমদার। তিনি মনে করেন, আমরা এজনই মনে করি রাজধানীর বাইরে নাটকের মঞ্চ তৈরি করা হোক। এটা বলেও আসছি। রাজধানীর বাইরে মঞ্চ প্রস্তুত হলে নাট্যকর্মীরা গিয়ে সেখানে প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পারে। কিংবা স্থানীয় নাট্যদল গুলোও নিয়মিত নাটক প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পারে। তা না হলে কিন্তু দিন দিন আরো দর্শক কমবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৪১ সালের ৯ আগস্ট লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন রামেন্দু মজুমদার। ছাত্রাবস্থায়ই থিয়েটারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনকে বেগবান করার পথে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। নাট্য সংগঠন ‘থিয়েটার’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন শুরু থেকেই। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নাট্যবিষয়ক পত্রিকা ‘থিয়েটার’ সম্পাদনা করছেন তিনি। মঞ্চের পাশাপাশি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন রামেন্দু মজুমদার। শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে। ইউনেস্কোর অধীনে আন্তর্জাতিক নাট্য সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট’-এর সভাপতি হিসেবে পর পর দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে এটির সম্মানিক সভাপতির পদে রয়েছেন। কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার তার স্ত্রী।


ছবি সূত্র: ইন্টারনেট

বিজ্ঞাপন