চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাঙালিকে স্বাধীনতা এনে দেয়াই কি জাতির পিতার ‘অপরাধ’ ছিল?

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেছেন: পৃথিবীর নির্যাতিত, নিপীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত, মুক্তিকামী মানুষের আজন্মের অনুপ্রেরণা ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

যিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীন সার্বভৌম জাতি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, একটি পাসপোর্ট দিয়েছেন, বাঙালি জাতিকে হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। এসবই কি জাতির পিতার অপরাধ ছিল? এজন্যই কি জাতির পিতাকে সপরিবারে খুনীরা হত্যা করেছিল?

শনিবার ঢাকায় তথ্য ভবন অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী বলেন: সমগ্র বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের নেতা, নন্দিত মহানায়ক, বিশ্বনায়ক জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি আজন্মের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করার জন্যই আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। আমার দায়, আমার ঋণ শোধ করার জন্যই আমি ডাক্তারের পেশা ছেড়ে দিয়ে রাজনীতি করি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন: আমাদের অভিভাবক, আমাদের অস্তিত্বের ঠিকানা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলার মাটিতে সকল বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার, জাতীয় চার নেতার হত্যাকারীদের বিচারও হয়েছে। পলাতক খুনিদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার সকল প্রস্তুতি কূটনৈতিকভাবে, রাষ্ট্রীয়ভাবে, আন্তর্জাতিকভাবে চলমান আছে। শুধুমাত্র আর একটি বিচার বাকি আছে। এই দায় থেকে মুক্তি চাওয়ার জন্য আমি দাঁড়িয়ে আছি আপনাদের সামনে। সেটি হলো বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ জামাল, শেখ কামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, শেখ ফজলুল হক মনি, আরজু মনি, আবদুর রব সেরনিয়াবাত, কর্ণেল জামিলসহ ১৮টি নিষ্পাপ প্রাণকে যারা হত্যা করেছে। তাদের মূল মদদদাতা, মূল পরিকল্পনাকারী এবং বাস্তবায়নকারী প্রধান কুশীলব, পরবর্তীতে তথাকথিত হ্যাঁ/না ভোটের রাষ্ট্রনায়ক খুনি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার বাংলার মাটিতে হবে। এটাই আমার শেষ কথা, এটাই বলার জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়েছি, এটার জন্যই আমি রাজনীতি করি। আমার সন্তানদের জন্য আমি রাজনীতি করি, আমার ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমি রাজনীতি করি, আগামীর বাংলাদেশ যারা বিনির্মাণ করবে তাদের জন্য আমি রাজনীতি করি, ৩০ লক্ষ শহিদের রক্তের ঋণ শোধ করার জন্য আমি রাজনীতি করি। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার শান্তি দেওয়ার জন্য আমি রাজনীতি করি। আমার মরহুম পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মতিয়র রহমানের তালুকদারের জন্য আমি রাজনীতি করি।

এছাড়াও খুনী জিয়ার মরণোত্তর বিচার কার্যকর করাই শপথ ও অঙ্গীকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্যানেল চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মকবুল হোসেন। অনুষ্ঠানে আলোচনা করেছেন প্রেস কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, ইকবাল হোসেন চৌধুরী, তাসমিমা ইমাম ও নঈম নিজামসহ অন্যান্যরা।

বিজ্ঞাপন