চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসির বৈঠক: ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণায় সীমা বাড়ল

অবশেষে তফসিলি ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) লভ্যাংশ ঘোষণার সীমা বাড়াতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকগুলো ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ আর নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধাজনক হারে বোনাস ঘোষণা করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে কিছু শর্ত মানতে হবে।

সোমবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে লভ্যাংশের সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিএসইসির বৈঠক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংকগুলো তাদেকে বেঁধে দেয়া সীমার চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি লভ্যাংশ দিতে পারবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দেয়া যাবে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে লভ্যাংশের সর্বোচ্চ সীমা ৩০ শতাংশ বেঁধে দিয়েছিল।

অন্যদিকে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ লভ্যাংশের সীমা না বাড়ানো হলেও বোনাস দেয়ার সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি সুবিধাজনক হারে বোনাস দিতে পারবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

তবে লভ্যাংশের নতুন সীমা কার্যকরের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত প্রযোজ্য হবে। সেসব শর্ত পূরণ করেই সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত লভ্যাংশ দেয়া যাবে। যদিও শর্ত সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যাংকের লভ্যাংশের সর্বোচ্চ সীমা ৩০ শতাংশ বেঁধে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর কয়েকদিন পর আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও লভ্যাংশের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

লভ্যাংশের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনায় তীব্র প্রভাব পড়ে পুঁজিবাজারে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অনেক কমে যায়। এতে চরম অস্থিরতা দেখা দেয় বাজারে। এরপর এটা নিয়ে শুরু হয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা।

সাধারণত পুঁজিবাজারে প্রভাব পড়তে পারে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সাথে আলোচনা করে নেয়ার একটি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু লভ্যাংশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিএসইসির সাথে কোনো আলোচনা-ই করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর বিএসইসি বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়কে অবহিত করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসি) বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিএসইসিতে আলোচনা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠক শেষে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সফল বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজারের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের সীমা বাড়াতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা শেয়ারবাজারে খুবই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট করবে। এছাড়াও বিএসইসিও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিস্তারিত জানাবে।

ভবিষ্যতে ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের স্বার্থে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে- বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানান বিএসইসির মুখপাত্র।