চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘বজ্রপাতে প্রাণহানির জন্য দায়ী নির্বিচারে তালগাছ কাটা, বন উজাড়’

দেশে বজ্রপাতে ব্যাপক প্রাণহানির জন্য নির্বিচারে তালগাছ কাটা এবং বন উজাড় করাকে দায়ী করে তা মোকাবিলায় বেশি বেশি তালগাছ রোপনের পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার।

একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনায়ন রক্ষা করতে এবং গাছ লাগানোকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের দেশব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সত্য প্রসাদ মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘বিল্ডিংয়ে কিন্তু আজকাল বজ্রপাত হচ্ছে। গ্রামেগঞ্জে তালগাছ না থাকার কারণে কিন্তু প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছে। তালগাছ থাকলে ওই এলাকায় বজ্রপাত হলে তালগাছ কিন্তু সেটিকে টেনে নেবে। এ জন্য আগে প্রতিটি গ্রামে একসাথে অনেকগুলো তালগাছ এক জায়গায় দেখা যেতো। আজকে সেটি নেই।’

বন কেটে উজাড় করে শহর বাবানোর প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করে বুয়েট উপাচার্য বলেন, ‘একদিকে গাছ লাগাবো আরেকদিকে গাছ কাটবো সেটি হবে না। বনায়ণ করতে হবে, বনকে রক্ষা করতে হবে। একটি গাছ তৈরি করা যায় না। বীজ লাগালেই যে গাছটি হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

গাছ কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করায় মানবজাতির দুর্যোগ সামবে নতুন নতুন দুর্যোগ তৈরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে গরুকে মাস্ক পরাতাম, আজ আমরা মাস্ক পড়ছি। গরু হাসছে যে, এককালে তারাও মাস্ক পড়েছে! গরু মানুষ হয়ে গেছে; মানুষ গরু হয়ে গেছে! পশু পাখির কাছে মুখ দেখাতে পারছি না!’

“এইজন্য পরিবেশকে অবহেলা করা যাবে না। আজকে ডাবল মাস্ক পরছি, কালকে ট্রিপল মাস্ক পরতে হতে পারে। বনকে রক্ষা করেই শহরায়ন করা যায়। গাছকে রক্ষা করতে হবে। গ্রীন ইনভায়োরেন্ট তৈরি করতে হবে। এর বিকল্প নেই।”

বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান বলেন, ‘ভুটানে বনভুমি ৭৫ ভাগ। ভুটানকে বলা হয় কার্বন নেগেটিভ। বাংলাদেশকে হয়তো রাতারাতি কার্বন নেগেটিক দেশে নিয়ে যেতে পারবো না, তবে যেভাবে চেষ্টা করছি তাতে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বাংলাদেশকে আমরা কার্বন নিউট্রাল দেশে নিয়ে যাওয়া। তারপর সেখান থেকে কিভাবে কার্বন নেগেটিভ দেশে তালিকায় যেতে পারি সেদিকে খেয়াল দেয়া উচিত।’

বিজ্ঞাপন

পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে বন উজাড় হয়ে গেছে সেইসব পাহাড়ে ভূমি ধস হয়। বিশেষ ধরনের কিছু ঘাস আছে যেখানে ভূমিধসে যাওয়ার সম্ভবনা আছে সেগুলো চিহ্নিত করে লাগাতে পারি তাহলে ভুমিধস হবে না। সরকারের এই বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান তিনি

গাছ প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজে লাগে জানিয়ে আব্দুল জব্বার খান বলেন, গাছ থেকে শুধু ফল আসবে বা কাঠ আসবে বা বৈদিশিক মুদ্রা অর্জন হবে সেটি না, অনেক গাছ আছে যেগুলো লাগালে পানি বিশুদ্ধ হয়ে যায়। হাতিরঝিল যদি সেসব গাছ দিয়ে বিশুদ্ধকরন করতে চান সেটিও সম্ভব। অল্প বিনিয়োগ করে অনেক বেশি কিছু পেতে পারি।’

গাছ লাগানোকে সামজিক আন্দোলন হিসেবে নিতে মানুষকে সচেতন করতে বুয়েটকে পথপ্রদর্শকের ভুমিকা নেয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয় সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করি বা যারা কাজ করেন দেশমাতৃকার প্রয়োজনেই করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি আমাদের অনুরোধ ছিলো বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে-সেটি কারিগরি শিক্ষায় হোক, ভৌত অবকাঠামো হোক, সেটি নদী হোক, মাটি হোক বা প্রযুক্তি হোক; যে কোনো কিছু এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য তারা কাজ করছে। পথ দেখিয়েছে উদ্ভাবন করে, গাইড করছে।’

আরও বলেন: পরিবেশের জন্যও যদি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের সাথে সাথে সব বিষয়ে কাজ করেন মানুষের প্রয়োজনে মানুষের উদ্দেশ্যে যদি বলেন তাহলে পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান আরো নতুন মাত্রা পাবে।

দেশকে ২৫ ভাগ বনভূমিতে আচ্ছাদিত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন: আপনাদের কথা পরামর্শ মানুষ সম্মানের সাথে দেখে, একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে আপনার কথার মুল্যায়ন করে। আপনার বললে বৃক্ষরোপনের এই কর্মসূচি তারা সামাজিক আন্দোলণ হিসেবে নেবে।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সবাইকে সবুজ বাংলাকে আরো সবুজ করতে হবে। আমাদের প্রকৌশলীরা দেশের উন্নয়নে জড়িত। আগামীতে গ্রীন ডেভেলপমেন্ট অবকাঠামো উন্নয়ন ও গাছ লাগানোয় বিপ্লব সৃষ্টি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বেশ কয়েক প্রজাতির গাছের চারা রেপান করেন অতিথিরা। পরে বুয়েটকে এক হাজার গাছের চারা উপগার দেয়া হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বুয়েটের ছাত্রকল্যান পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান।

বিজ্ঞাপন