চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বছর শেষে প্রত্যাবর্তনে বাজিমাত

দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন বুঝি একেই বলে। অন্যভাবে বললে, ইংলিশ ফুটবলের এক উত্থান-পতনের ম্যাচ। সেই ম্যাচে নীল সাফল্য লিখে চেলসি। ৮২ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকে জয়। ০-১, ১-১ হয়ে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জিতে গেল চেলসি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ টেবিলে মোটেও ভালো জায়গায় নেই আর্সেনাল। রোববার তারা ১২ নম্বর দল হিসেবে খেলতে নেমেছিল। একটা সময় মনে হচ্ছিল, লিগে বুঝি ঘুরে দাঁড়াল আর্সেনাল। কিন্তু ৮৩ থেকে ৮৭, পাঁচ মিনিটে নীল দলের ঝলক।

এদিকে রোববার রাতেই নীলের পাশাপাশি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে জ্বলে উঠে লাল ম্যানচেস্টারও। ২-০ গোলে জিতে বছর শেষ করছেন ম্যানচেস্টার ইউনাউটেড। একই সঙ্গে বছরের শুরুতে আর্সেনালের বিরুদ্ধে সম্মানের ম্যাচে নামার আগে প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিয়েছে সোলশেয়ারের দল।

প্রিমিয়ার লিগে পেপ গার্দিওলার মাইসস্টোন স্থাপনের দিনে লিগ টেবিলের তৃতীয়স্থান আপাতত নিরাপদ করে ম্যানচেস্টার সিটি। ঘরের মাঠে বছরের শেষ ম্যাচে শেফিল্ড ইউনাইটেডকে ২-০ গোলে হারায় সিটিজেনরা। চলতি লিগে এটি তাদের ১৩নম্বর জয়। তবে সার্বিকভাবে গার্দিওলার কোচিংয়ে এটি ম্যান সিটির ১০০তম প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ জয়।

বছরের শেষ সপ্তাহ মোটেই ভালো যায়নি টটেনহ্যামের। নরউইচ সিটির সঙ্গে ২-২ ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় হ্যারি কেনদের। শুধু তাই নয়, লিগের সবচেয়ে নীচে থাকা নরউইচের সঙ্গে দু’বার পিছিয়ে ছিল টটেনহ্যাম। শেষ মুহুর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যারি কেন রক্ষাকর্তা না হলে বিস্বাদ নিয়ে নতুন বছর শুরু করতে হত জোসে মরিনহোর দলকে।

বিজ্ঞাপন

লিগে দু’নম্বরে থাকা লেস্টার সিটিও সাফল্য ধরে রেখেছে। লেস্টার ২-১ গোলে হারায় ওয়েস্ট হ্যামকে। অন্যদিকে স্কটিশ লিগে সেল্টিককে ২-১ হারায় স্টিভেন জেরার্ডের কোচিংয়ে খেলা রেঞ্জার্স।

জয় দিয়ে বছর শেষ করার রাতেই অবশ্য ভিএআর বিতর্ক তাড়া করে বেড়ায় লিভারপুলকে। উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স সংক্ষেপে উলভসকে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে হারানোর পথে ইয়ুর্গেন ক্লপরা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) বদান্যতা পেয়েছে বলেই মনে করছে ব্রিটিশ ফুটবল মহল।

প্রথমত, সাদিও মানের ম্যাচের একমাত্র গোলের সময় হ্যান্ডবল বিতর্ক সামনে আসে। যার জেরে হলুদ কার্ড দেখতে হয় উলভস কোচকে। পরে প্রথমার্ধের সংযোজিত সময়ে উলভসের গোল বাতিল হয় ভিএআরের সৌজন্যে তা অফ-সাইড ঘোষিত হওয়ায়। এক্ষেত্রেও অফ-সাইডের সিদ্ধান্ত ছিল খানিকটা বিতর্কিতই। ফুটবল বিশেষজ্ঞমহলের একাংশের ধারণা, এক্ষেত্রে অফ-সাইড না ঘোষণা করলেও পারতেন রেফারি।

জয় নিয়ে গুঞ্জন শুরু হলেও লিভারপুলের পুরো পয়েন্ট তোলা নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না।
ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে লিভারপুল। ১৯ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করে লিভারপুল। এই নিয়ে লিগের ১৮টি ম্যাচে জয় পেল ক্লপের দল। সেই সঙ্গে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে ৫০ ম্যাচ অপরাজিত। ড্র করেছে মাত্র ১টি ম্যাচ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লেস্টার সিটির থেকে ১৩ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে বছর শেষ করল লিভারপুল। যদিও বাকিদের থেকে ১ ম্যাচ কম খেলেছে তারা।

বিজ্ঞাপন