চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এখন একেবারে অন্ধকার সময়: বিপ্লব সাহা

‘বছরের ৪০ শতাংশ ব্যবসা হয় বৈশাখ এবং ঈদে। কিন্তু দুটি উৎসবই এবার মাটি হয়ে গেল। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটি একেবারে অন্ধকার সময়। কোনো আলোও দেখছি না’

করোনাভাইরাসের কারণে সব অঙ্গনে লেগেছে চরম ব্যবসায়িক মন্দা। বিশেষ করে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এখন মহাবিপদসংকেত! অন্তত এমনটাই মনে করছেন দুই যুগের বেশি সময় ধরে সুনামের সঙ্গে ফ্যাশন হাউজ ব্যবসায় জড়িত প্রতিষ্ঠান বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার বিপ্লব সাহা।

হতাশা ভরা কণ্ঠে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বললেন, ব্যবসায় সবমিলিয়ে মাসিক খরচ ৮০ লাখ টাকার মতো, জানিনা কীভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেব। আয়ের একটাই সোর্স: মানুষ কাপড় কিনলে টাকা আসবে, নইলে আসবে না। যেখানে মানুষের মনে শান্তি নাই, পকেটেও টাকা কমে আসছে; সেখানে কীভাবে ব্যবসা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে তাও জানা নেই।

বিজ্ঞাপন

গত দেড়মাস ধরে দেশে বিশ্বরঙের সবগুলো আউটলেট বন্ধ। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত প্রায় ছয়’শ কর্মী বেকার হয়ে আছেন। বিপ্লব সাহা বলেন, ২৬ মার্চ থেকে সব শো-রুম বন্ধ। ঘরবন্দি হয়ে স্থবির জীবন পার করছি। বছরের ৪০ শতাংশ ব্যবসা হয় বৈশাখ এবং ঈদে। কিন্তু দুটি উৎসবই এবার মাটি হয়ে গেল। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটি একেবারে অন্ধকার সময়। কোনো আলোও দেখছি না।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীসহ সারাদেশে বিশ্বরঙের আউটলেট রয়েছে ২২ টি। স্টাফ, শো-রুম, ফ্যাক্টরি, পণ্য আনা-নেওয়া সবমিলিয়ে ছয়শো’র মতো কর্মী নিয়ে বিপাকে রয়েছেন বলে জানান বিপ্লব সাহা। তিনি বলেন, মার্চ পর্যন্ত প্রত্যেকের বেতন দিতে পেরেছি। এরপর থেকে আর কিচ্ছু জানি না! সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায় ধ্বস নামে।

তিনি বলেন, বৈশাখ-ঈদে যে ব্যবসা হতো তাতে বছরের অন্যান্য সময়ে ভালো সাপোর্ট দিয়ে যেতে পারতেন। শুধু আমার নয়, গোটা ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির সবাই এ সময়ে রমরমা ব্যবসা করতো। মূল টার্গেট থাকতো এ দুটি ইভেন্ট। এর পাশাপাশি বছরে আরও ছোট ছোট ইভেন্টে আমাদের ভালো ব্যবসা হতো। কিন্তু করোনার প্রকোপে কোনো ব্যবসাই হলো না।

গত ১৫ দিন যাবত অনলাইনে টুকটাক বিক্রিবাট্টা হচ্ছে বলে জানান বিপ্লব সাহা। এর পাশাপাশি ১০ মে থেকে ঢাকার কয়েকটি আউটলেট খোলা হলেও সেভাবে ক্রেতা নেই বলে জানান তিনি। বলেন, যে টার্গেট নিয়ে খুলেছি তার কিছুই পূরণ হচ্ছে না। আমাদের টার্গেট ক্রেতা হচ্ছে উচ্চ মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত। এই শ্রেণিটা পড়ছে বিপদে। আসলে মানুষ জীবন নিয়ে টানাটানির মধ্যে পড়েছে, কেনাকাটা করবে কীভাবে? আমি নিজেও ব্যবসা নিয়ে ভাববো নাকি করোনা থেকে দূরে থাকার চিন্তা করবো, সেটাই তো ভেবে পাচ্ছি না। দুর্বিষহ জীবন।

বিপ্লব সাহা বলেন, ২৫ বছরের ব্যবসায়ী জীবনে এতো খারাপ অবস্থা আর দেখিনি। এর আগে বন্যা, রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখেছি কিন্তু করোনার মতো খারাপ অবস্থা দেখিনি। এতো আতঙ্ক জীবনে কখনো আসেনি। করোনায় মরবো নাকি করোনার পরে মরবো জানিনা! মার্কেটে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা কিন্তু ভবিষ্যৎতে কী আছে, জানা নেই। হয়তো হতে পারে এটা শেষ সাক্ষাৎকার!