চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফিতরা: কে কাকে কখন দেবেন

চাঁদ উঠলেই ঈদ। ঈদ আসলেই প্রাসঙ্গিক হিসেবে উঠে আসে সদকাতুল ফিতরের আলোচনা। সদকাতুল ফিতরকে আমরা ‘ফিতরা’ বলে জানি। রমজান ও ঈদুল ফিতরের সাথে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নবীজি ইরশাদ করেছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত সদকাতুল ফিতর আদায় করা না-হয়, ততক্ষণ আসমান ও জমিনের মাঝখানে রোজা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে”। —কানজুল ওম্মাল, হাদিস: ২৪১২৪।

যারা নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, তাদের উপর ফিতরা ওয়াজিব। ওয়াজিব মানে আবশ্যক। অবশ্যই দিতে হবে এমন। এটির নেসাব জাকাতের নেসাবের মতো। নিত্যপ্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যতীত সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমমূল্যের সম্পদ থাকা। তবে এক্ষেত্রে একবছর স্থায়ী হওয়া শর্ত নয়। ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় ঐ পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই তার উপর ফিতরা ওয়াজিব। ফিতরার জন্য বালেগ হওয়া শর্ত নয়।

বিজ্ঞাপন

সুতরাং ঈদের দিন সকালে জন্মগ্রহণ করা শিশুর পক্ষ থেকেও তা আদায় করতে হবে। পুরুষ অভিভাবক তার নাবালেগ সন্তানদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করবে; তবে মায়ের দায়িত্বে থাকা নাবালেগ সন্তানদের ফিতরা দেয়া তার উপর ওয়াজিব নয়। পিতা না থাকলে সন্তানদের দায়িত্ব পিতামহ বা দাদা গ্রহণ করবে; যদি দাদা বেঁচে থাকে। বালেগ সন্তানের দায় পিতার উপর নেই, তবে আদায় করলে আদায় হয়ে যাবে। কোনো কারণে রোজা রাখতে না-পারলেও ফিতরা আদায় করতে হবে। (বাহারে শরিয়ত, রদ্দুল মুখতার, আলমগীরী প্রভৃতি।)

বিজ্ঞাপন

যাদের জাকাত দেয়া যায়, তাদের ফিতরাও দেয়া যাবে। অর্থাৎ, সকল প্রকার গরিব, মিসকিন, ঋণগ্রস্ত, মুসাফির ও হতদরিদ্রদের ফিতরা দেয়া যাবে। তবে ফিতরা উত্তোলনকারী (নিয়োজিত ব্যক্তি) এ পর্যায়ে পড়বে না। তবে সে যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়, তাকেও ফিতরা দেয়া যাবে। (রদ্দুল মুখতার, বাহারে শরিয়ত)

বিজ্ঞাপন

ঈদের দিন সকালেই ফিতরা দেয়া সুন্নাত। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাজের জন্য বের হবার পূর্বেই সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিতেন।” (সহিহ বুখারি: ১৫০৯)। সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয় মূলত ঈদের দিন সুবহে সাদিকের পরপর। হাদিসের ভাষ্যমতে সুবহে সাদিকের পর থেকে ঈদের নামাজের আগে দেওয়াই উত্তম। তবে এ-সময়ে দেয়া সম্ভব না-হলে এর আগে বা পরেও দেয়া যাবে। (বাহারে শরীয়ত, আলমগীরী প্রভৃতি।)

ফিতরার পরিমাণ সম্পর্কেও অনেকগুলো হাদিসে বর্ণনা এসেছে। যেমন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ হিসেবে এক সা পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা পরিমাণ যব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর লোকেরা যবের সমপরিমাণ হিসেবে অর্ধ সা গম দিয়েও আদায় করতে থাকে।” (সহিহ বুখারি: ১৫০৭)।

উল্লেখ্য যে, বর্তমান এক সা সমান প্রায় চার কেজি একশ গ্রাম। সুতরাং অর্ধ সা সমান দুই কেজি পঞ্চাশ গ্রাম। মহামারি অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ বা খাদ্যসঙ্কট দেখা দিলে খাবার দিয়ে আদায় করাই উত্তম। তখন ঐ অঞ্চলের খাদ্যাভ্যাসে যেটি অগ্রগণ্য, খেজুর বা যবের টাকা হিসাব করে ঐ টাকায় যতটুক পরিমাণ প্রয়োজনীয় খাদ্য পাওয়া যায়, তা-ই দিতে হবে।

এছাড়া নগদ অর্থ দিয়ে আদায় করা উত্তম। এ-বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশন সর্বোচ্চ ২২০০, সর্বনিম্ন ৭০ টাকা ধার্য করেছে। মনে রাখতে হবে ৭০ টাকাটা সর্বনিম্ন। সামর্থ অনুসারে ২২০০ টাকা পর্যন্ত দেয়া যাবে। আশা করা যায়, সামর্থবানরা সর্বোচ্চ পরিমাণকেই গ্রহণ করবে। ২২০০ টাকার বেশি কেউ দিলে ২২০০ টাকার পর অতিরিক্ত অংশটি সাধারণ দান হিসেবে গণ্য হবে।

ঈদ আসে খুশির বার্তা নিয়ে। অনুমিতভাবে করোনাভাইরাসের কারণে এ-বছর কিছুটা ভিন্ন ঈদ দেখতে পাবো আমরা। বিবেকসম্পন্ন সামর্থবান লোকেরা ইতোমধ্যে দরিদ্রদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। সাদকাতুল ফিতর তথা ফিতরা আমাদের আরেকটি সুযোগ এনে দিচ্ছে তাদের পাশে দাঁড়াবার। আসুন, ইসলামের শান্তির বাণীতে উজ্জীবিত হয়ে যথাযথভাবে ফিতরা আদায় করি।