চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্ল্যানিং-টার্গেট-সিস্টেম কিছুই নেই, সিনেমা বানাবো কীভাবে?

চলচ্চিত্র যখন অশ্লীলতায় ডুবেছিল, তখন যে কজন পরিচালক হাল ধরে অশ্লীলতা দূর করেছিলেন তাদের একজন এফ আই মানিক। তিনি নির্মাণ করেছিলেন স্বপ্নের বাসর, ভাইয়া, কোটি টাকার কাবিন, চাচ্চু, পিতার আসর, দাদীমা, সবার উপরে তুমি, আমাদের ছোট সাহেবসহ অনেকগুলো সুপারহিট সিনেমা। তার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘দুই পৃথিবী’ (২০১৫)। গেল বছর শোনা গিয়েছিল, নির্মাতা মানিক আবার সিনেমা নির্মাণ করবেন। কিন্তু কবে? 

”সিনেমা বানিয়ে চালাবো কোথায়? ঠিকমত ষ্টেশন (সিনেমা হল) আছে? আগে সিনেমা নির্মাণের পর চালানোর হলে কাড়াকাড়ি লাগতো। ‘চাচ্চু’ অনেক বেশি বাজেটের ছবি ছিল না। কিন্তু ওই ছবি থেকে ‘সাত কোটি টাকা’ লাভ হয়েছিল ২০০৬ সালে। ওই বছর যে ছবিগুলো বানিয়েছিলাম সবই লাভ হয়েছিল। তবে ‘চাচ্চু’ থেকেই বেশি প্রফিট পেয়েছিলাম। যে হল থেকে বেশি টাকা উঠেছিল সেটিও আজ বন্ধ। ধরেন, এখন ছবি বানিয়ে আমি ১০ টাকা লাভ করলাম। কিন্তু এই হিসেব ঠিকমত আমার কাছে আসবে না। আমি লোকসান করলেও কতো টাকা করলাম তাও জানার কোনো সঠিক পথ নেই। সবকিছু মুখে মুখে হচ্ছে। প্ল্যানিং টার্গেট সিস্টেম কিছুই ঠিক নেই, সিনেমা বানাবো কীভাবে?”

চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে এসব কথাগুলো বলেন নির্মাতা এফ আই মানিক। তিনি বলেন, ”সিনেমা আবার বানাবই। তবে আরও কিছু সময় লাগবে। গল্প, চিত্রনাট্য সবকিছু রেডি। কিন্তু এখন যে অবস্থা, তাতে ছবি বানানো মুশকিল। কবে বানাবো এখন কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। আগে সিস্টেম ঠিক হতে হবে। আমার ছবি নির্মাণের ঘোষণা আগে যা শোনা গেছে সবই আওয়াজ মাত্র। চলচ্চিত্রের যে দুরবস্থা এটা তাড়াতাড়ি কাটিয়ে উঠতে না পারলে ফিল্মের ভারসাম্য রাখাটা কঠিন হয়ে যাবে। এখন কিন্তু বড় মাপের বা কালজয়ী হবার মতো ছবি খুব একটা নির্মিত হচ্ছে না, গল্প যেভাবে তৈরি করা হচ্ছে সেভাবে বানানো হচ্ছে না। যারা ভালো ভালো ছবি নির্মাণ করেছেন, তারা সবাই নিরব হয়ে গেছেন।”

বিজ্ঞাপন

এফ আই মানিক বলেন, ”চলচ্চিত্রের এই খারাপ সময়ে হাল ধরার মতো ক’জন প্রযোজক আছেন? যেসব প্রযোজক আসছেন তারা প্রথমে যে টাকা লগ্নি করছেন সেগুলো ফেরত না পেয়ে ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ছেন। ওইসব প্রযোজক ‘শিকার’ হচ্ছেন, বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে না। প্রযোজক ডেকে এনে পথে বসানো হচ্ছে। যদি নতুন প্রযোজকদের প্রথম লগ্নির টাকা ফেরত দেয়া যায়, তবে আবার ইন্ডাস্ট্রি চাঙ্গা হবে। ভালো ছবি বানাতে হলে পরিচালকদের সিরিয়াসলি কাজ করতে হবে। তাদের দায়িত্ব নিতে হবে শিল্পী তৈরি করার।”

১৪ বছর আগের স্মৃতি উল্লেখ করে এফ আই মানিক বলেন, ”শাকিব খানকে আমি তৈরি করে দিয়েছি। আমার ‘কোটি টাকার কাবিন’, ‘চাচ্চু’, ‘পিতার আসন’-এ কাজ করার তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ছেলেটা (শাকিব খান) তখন থেকে আজও ইন্ডাস্ট্রির হাল ধরে রেখেছে। তার পলিসি নিয়ে সে আগাচ্ছে। আর কতো? আমি বলতে বাধ্য, তার নিজেরও এখন কিছুকিছু কাজ বিবেচনায় করা উচিত। এখন সময় এসেছে শাকিবের আরও বুঝে শুনে কাজ করা। গল্পনির্ভর ছবিতে কাজ করা। এমন কিছু চরিত্রে কাজ করা যা তাকে ৫০ বছর কিংবা ১০০ বছর বাঁচিয়ে রাখবে। বাকি যেসব শিল্পীরা আছে তাদের সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। তাছাড়া ভালো গল্প নেই, বেশিরভাগ গল্পই নকল। চিত্রনাট্যে মেধা শূন্যতা দেখা যাচ্ছে। যেসব ছবি নির্মিত হচ্ছে, তা দর্শক আরো মাইনাস হচ্ছেন। এতে ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি হচ্ছে।”

দর্শকদের চাওয়াকেও মূল্যায়ন করা ‘হচ্ছে না’ উল্লেখ করে এফ আই মানিক বলেন, ”ছবি বানানো হয় দর্শকদের জন্য। তাদের চাহিদাকে প্রাধান্য না দিয়ে ছবি নির্মাণ করা হয়, তাহলে দর্শক কেন ছবি দেখবে? স্যাটেলাইট টিভি এখন প্রত্যেকের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। হাতে হাতে স্মার্টফোন, ইউটিউব। এটা নির্মাতাদের মনে রাখতে হবে। নির্মাতারা চাইলেই কিন্তু তাদের চিন্তার মধ্যে দর্শকদের ধরে রাখতে পারবেন না। দর্শকরা কি চাচ্ছেন সেটা বুঝতে হবে।”

বিজ্ঞাপন