চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রেমের খেসারত দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

শফিউল বারী রাসেল: জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে প্রেমিকার অনশনের মুখে পরকীয়ার খেসারত হিসেবে দেড় লাখ টাকা দিতে হয়েছে আওলাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাককে।

ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামদিয়া গ্রামের সনি চৌধুরীর স্ত্রী কয়েক মাস আগে তার স্বামীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে পূর্ব পরিচিত আওলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের কাছে যান।

এক পর্যায়ে ওই চেয়ারম্যান তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই নারীর স্বামী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর ওই নারী বিয়ের দাবি নিয়ে চেয়ারম্যান রাজ্জাকের কার্যলয়ে আসেন। এ সময় চেয়ারম্যান সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম কাজীর নিজ বাড়িতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও চেয়ারম্যানের শুভাকাঙ্ক্ষী ওই নারীকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণে সম্মত হয়। সেখানে তাকে নগদ ১ লাখ টাকা দিয়ে পাঠিয়ে দেন তারা।

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন: আমার স্বামী একটু বদমেজাজী। তাই স্বামীর পূর্ব পরিচিত রাজ্জাক চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেছিলাম। কিন্তু সে আমার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।

বিজ্ঞাপন

‘‘এরপর মোবাইলে কল করে নানা প্রলোভন দেয়। এক পর্যায়ে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আজ যখন বিয়ের দাবিতে আসলাম, তখন ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদায় করে দেয়। স্বামীও বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমি কি করবো?’’

আওলাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম কাজীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন: গৃহবধূর এ অভিযোগ মিথ্যা ও সাজানো নাটক মাত্র।

ইউপি সদস্য সেকেন্দার আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন: গৃহবধূ বিয়ের দাবিতে এসেছিলো তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বর বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাঁচবিবি থানায় অফিসার ইনচার্জ মনসুর রহমান বলেন: এই খবরটি আমরা পেয়েছি। তবে গৃহবধূর লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন: