চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে যা চাই

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, গতকাল (শুক্রবার) আপনার জন্মদিন ছিল। আমাদের জন্য বড়ই আনন্দের দিন। আপনার জন্মদিনে সারাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মানুষ যারা আপনাকে ভালবাসে, তারা আপনার জন্মদিনে শুভকামনা জানিয়েছে, দোয়া করেছে। আমরা আপনার কাজের সমালোচনা করি, তারপরও জানি আপনি ছাড়া আমাদের কথা তেমন করে ভাবার মত কেউ আজো আসেনি বঙ্গবন্ধুর পর। আপনি আমাদের মুক্ত আকাশ, আজো উড়তে পারি ডানা মেলে, জানি না আর কতদিন উড়তে পারবো বা মন খুলে বলতে বা লিখতে পারবো। দিনে দিনে আমাদের লেখার, বলার পরিধি ছোট হয়ে আসছে।

আপনি ছাড়া আমাদের ভাল করে কি কেউ বোঝে! আপনি ছিলেন সব সময় জনসাধারণের কাছের মানুষ। কিন্তু দিনে দিনে বেড়েছে দূরত্ব, যার কারণে মাঝে ঢুকে গেছে তৃতীয়পক্ষ, যারা মধ্যস্থতার নামে ভুল বোঝায় দুই পক্ষকে। আমরাও ভুল বুঝি ভুল করি। আপনি রাগ-অভিমান করেন দূরত্ব শুধু বাড়ে বারবারে।

আপনার জন্মদিনে আমাদের উপহার দেবার ক্ষমতা নেই বললেই চলে। তবু প্রিয় মানুষের জন্য উপহার কষ্টে হলেও দিতে মন চায়। আমার মত মানুষরা আপনাকে একটা উপহারই দিতে পারে, তা হচ্ছে ভোট। আগামী পাঁচ বছরের জন্য আপনাকে ভোট, এর থেকে মূল্যবান কিছু আর নেই আপাতত। লাগুক আর নাই লাগুক আপনার জন্য আমাদের এই ভালবাসা আজীবন থাকবে।

শেখ হাসিনা

ভালবাসার দাবী নিয়ে জানাই, প্রিয় নেত্রী আমি আর নিরাপদ সড়ক চাই না। চাই না কোটা সংস্কার, চাই না রামপাল বন্ধ, চাই না দুর্নীতি বন্ধ, চাই না মাদক নিয়ন্ত্রণ, চাই না বলতে দেশের প্রতিটা ক্ষেত্রে বন্ধ হোক দুর্নীতি হয়রানী, ঘুষের মহা উৎসব। আমি বা আমার মত মানুষ আর বলতে চাই না কিছু। কারণ আপনি উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন, উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু একদল মানুষ যারা আপনার আমার মাঝে আছে, তারা সেই উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে, আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা আপনার উপর রাগ করছি, সমালোচনা করছি। আপনি বিরক্ত হচ্ছেন, কিন্তু মধ্যবর্তী সুবিধাভোগীরা সব সুবিধা ভোগ করে চলেছে, তাদের টিকির দেখা যায় কিন্তু ধরা যায় না। তারা দিনে দিনে হয়ে উঠছে মহা ক্ষমতাধর। এদেরকে বড্ড ভয়, এরা রাত দুপুরে পুলিশ পাঠায়, বেনামে এসে ধরে নিয়ে যায়, পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে, ঘরে অস্ত্র রেখে মামলা দেয়া। এরা একের জন্য পুরো পরিবারকে অত্যাচার করে। জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে। আর ৫৭ ধারার মত আইন তো আছে, তাই বেশি কথা না বলি। ভয় পাই খুব, কে আবার কোথায় মনে করে আপনার অসম্মান করলাম, আপনি জানতেও পারলেন না, কিন্তু আমার মত মানুষ প্রায় দুই-দশ মাস পরে থাকলাম জেলবন্দী হয়ে।

বিজ্ঞাপন

প্রিয় আপা, আপনার জন্মদিনে আমাদের মত আমজনতাকে ফিরতি উপহার নিশ্চয় দেবেন, কিছু চাই না শুধু আপা আগামী বছরগুলি দেশে একটু নিরাপদে চলাফেরা করতে চাই, সময়মত ঘরে ফিরতে চাই। সরকারী কোন প্রতিষ্ঠানে যাতে বিনা ঘুষে কাজ সারতে পারি। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেন তদবির ছাড়া সিট পেতে পারি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে তাল মিলাতে হিমশিম যেন না খেতে হয়। ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা শেষ করে একটা চাকরি পায় যোগ্যতানুযায়ী, চাকরি যেন সোনার হরিণ না হয়ে পড়ে, কিম্বা চাকরির জন্য ঘুষের টাকা যোগাতে ভিটেবাড়ি, জমি-জমা সব বেচতে না হয়। নারীরা কোনো রকম ভীতি ছাড়া দিনে রাতে পথে-পরিবহনে চলাফেরা করতে পারে। শিশুরা যেন সবুজ মাঠে খেলাধুলা করে বেড়ে উঠতে পারে, মশার কামড়ে বা ভুল চিকিৎসায় অকালে শিশু মরে যায় না।

এক কথায় একটা সত্যিকারের আদর্শ দেশ, যেখানে যেখানে চাকরির না পেয়ে কেউ আত্মহত্যা করে না। যেখানে পথে নারীর দিকে নোংরা চোখ বা হাত থাকে না। যেখানে মানুষ দুমুঠো ভাত-ডালের ব্যবস্থা সহজে করতে পারে। কোন বাবাকে যেন মেয়ে নিয়ে বিচারহীনতায় ট্রেনের নীচে ঝাঁপিয়ে পড়তে না হয়।

প্রিয় আপা, আমাদের চাওয়া খুব সামান্য। দিন শেষে আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে রাতে ঘুমাতে যেতে চাই। আমাদের মত সাধারণ মানুষের চাওয়া খুব সাধারণ আপা, আমরা বিশেষ কিছু চাই না ভালভাবে নিজের পরিবার পরিজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের নিয়ে নিরুদ্বেগ জীবন কাটাতে চাই। আমাদের চাই না লাসভেগাসে হলিডে, ফাইভ স্টারে ডিনার, ইউরোপে শপিং টাইপের জীবন। ছাপোষা জীবনে একটু শান্তি আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

প্রিয় আপা, আপনার জন্মদিন অনেক আনন্দ বয়ে আনুক দেশের মানুষের জন্য, প্রার্থনা করি উপরওয়ালার কাছে, আমরা যেন আপনার শততম জন্মদিনে আপনাকে এমন সুস্থ, সবল হাসি খুশি পাই। আপনি যেন আমাদের আরো কাছে আসেন। সেই আগের মতই সর্বদা আমজনতার কাছের মানুষ হয়ে আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় বিরাজ করেন। শুভ জন্মদিন প্রধানমন্ত্রী, মাদার অফ হিউম্যানিটি। শুভ হোক আপনার প্রতিটা দিন।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

বিজ্ঞাপন