চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’র এক যুগ: ছবির আয় ১৫ কোটি, শাকিবের পারিশ্রমিক ছিলো দেড় লাখ

ব্যবসায়িকভাবে মেগাহিট ছবি ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’র একযুগ শনিবার (১৩ জুন)। ২০০৮ সালের এদিনে দেশব্যাপী মুক্তি পেয়েছিল বদিউল আলম খোকন পরিচালিত সাড়া জাগানো এই ছবিটি।

যেখানে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শাকিব খান, সাহারা, মিশা সওদাগর, প্রবীর মিত্র, আফজাল শরীফসহ অনেকে। আশা প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’র সাফল্য ও যুগ পূর্তিতে শাকিব খানের অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবও উদযাপন করছে দিনটি।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়িকভাবে সাফল্যের মাইলফলক স্পর্শ করা ছবিটি নিয়ে পরিচালক খোকন চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন অজানা কিছু কথা।

গুগল/উইকিপিডিয়া জানাচ্ছে, ১৭ জুলাই ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ মুক্তি পেয়েছিল! তথ্যটি পুরোপুরি ভুল। ২০০৮ সালের ১৩ জুন দেশের ৩৩ সিনেমা হলে ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ মুক্তি পেয়েছিল। তখন থার্টি ফাইভের যুগ ছিল। ৩৩ হলে সিনেমাটি মুক্তি পর যখন সাড়া ফেলে তখন হল বাড়ে ৫০ টির মতো।-বলছিলেন নির্মাতা।

কতো আগে এ ছবির শুটিং শুরু হয়েছিল? মুক্তির পর সাড়া ছিল কেমন? ২০০৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর শুটিং শুরু হয়েছিল। কয়েক লটে আমরা শুটিং করেছিলাম। বছর খানেক সময় লাগে। মুক্তির পর তো একপ্রকার ইতিহাস ঘটে যায়। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ যেসব হলে ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ মুক্তি দিয়েছিলাম কমপক্ষে দেড় দুই মাসের নিচে কোনো হল থেকে এ ছবি নামেনি। ওইসময় অন্য যেসব ছবি মুক্তি পেত তার চেয়েও এটা হাউজফুল শো যেত। এমনও হয়েছে টানা তিনমাসও চলছে।

সিনেমায় শাকিব খানকে চুক্তিবদ্ধ করার ঘটনা জানিয়ে নির্মাতা বলেন, ওই সময় শাকিব পুরোপুরিভাবে শাকিব খান হয়ে ওঠেননি। এই ছবিতে তার পারিশ্রমিক ছিল দেড় লাখ টাকা। পহেলা বৈশাখে আশা প্রোডাকশনের অফিসে গিয়ে শাকিব সাইনিং মানি নিয়েছিল ২৫ হাজার টাকা। ছবিটি শাকিবের ক্যারিয়ারে এতটাই টার্নিং ছিল যে মুক্তির পরেই সে পারিশ্রমিক নিতে শুরু করে ছবি প্রতি ২৫ লাখ টাকা। ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ মুক্তির পর আমারই ছবি ‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’ থেকে সে ২৫ লাখ টাকা করে পারিশ্রমিক নিতে থাকে এবং এটা দিয়েই তাকে নিয়েছিলাম।

‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ যে সময়ের চলচ্চিত্র, তখন শাকিবের সঙ্গে বিপরীতে শাবনূর কিংবা অপু বিশ্বাসকেই বেশি দেখা যেত। কিন্তু সেসময়ে সাহারাকে নেয়ার কারণ কী ছিল?

প্রশ্নে নির্মাতা বলেন, আমি তখন মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘জানের জান’ ছবির সহকারি পরিচালক। শাকিবের সঙ্গে শাবনূরকে নিতে চেয়েছিলাম। সে না করায় মুনমুনকে নিয়ে ছবিটা হয়েছিল। ওই ছবিতে প্রযোজক লাভ করেছিলেন। একই প্রযোজকের অ্যাকশন ছবি ‘রুস্তম’ ছবি করেছিলাম চিত্রনায়ক মান্নাকে নিয়ে। তখন প্রযোজক প্রেমের ছবি করতে বলেছিলেন। মান্না অ্যাকশন ছবি ভালো করতেন বলে প্রযোজক অন্যকাউকে চাচ্ছিলেন। তখন ‘জানের জান’ ভালো ব্যবসায় করায় শাকিবকে ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’য় নেয়া হয়েছিল। শাবনূর আগের ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ায় প্রযোজক নতুন নায়িকা খুঁজছিলেন। শাকিব-অপু জুটি তখনও প্রতিষ্ঠা পায়নি। সেই সময় আমার একটা ছবি মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। ওই ছবির আরেকটা নতুন নায়িকা ছিল। তাকে সাইনিং মানিও দিয়েছিলাম। কিন্তু হুট করে বিয়ে করে সে আমেরিকা চলে যায়। তারপর পূর্ণিমাকে নিতে চেয়েও পাইনি। এরপর অনেক খুঁজেও নতুন কাউকে না পেয়ে সাহারাকে নেই। তাকে পুরোপুরিভাবে চেঞ্জ করেই এ ছবিতে হাজির করি। সাহারার প্রথম ছবি ছিল ‘রুখে দাঁড়াও’; দ্বিতীয় ছবি ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’। এ ছবিটা তার জন্যও ছিল টার্নিং।

বাংলা সিনেমার ইতিহাসে যতগুলো মেগাহিট ছবি রয়েছে তারমধ্যে ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’-কেও গণ্য করা হয় বলে জানান নির্মাতা। এ ছবির ব্যয় ও আয়ের পরিস্কার হিসেব জানতে চাইলে বদিউল আলম খোকন জানান, এ ছবির আগে প্রযোজকের অন্য দুই ছবিতে অনেক লোকসান ছিল। সবকিছুই পুষিয়ে নেয় ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ দিয়ে। প্রযোজক ধনাঢ্য থাকার পরও নতুন করে বাড়ি করেছিলেন, গাড়ি কিনেছিলেন এ ছবির টাকা দিয়ে। এছাড়া নানা রকম সলভেনসি গড়েছিলেন। ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ যখন রমরমা চলছে তারমধ্যে পাইরেসির কবলে পড়ে। কিন্তু সেই পাইরেসি ধোপে টেকেনি। মুক্তির মাস পেরিয়ে গেলেও অন্য ছবির চেয়েও ভালো চলতে থাকে। কপিরাইট এনেই ছবিটা করেছিলাম। সবমিলিয়ে ব্যয় ছিল ১ কোটি টাকা, ব্যবসা করেছিল ১৫ কোটির টাকার মতো। ব্যবসায়িকভাবে যার অবস্থান ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ পরেই।

ব্যবসায়িক সাফল্যের হিসেব বিশ্বাস্যযোগ্য তো, এমন প্রশ্নে খোকন বলেন: অবিশ্বাসের কি আছে? কারও বিশ্বাস না হলে কিছু করার নেই। কিন্তু এটাই সত্য যে ১ কোটি ব্যয় করে ছবিটি ব্যবসা করে ১৫ কোটি টাকার মতো।

এতো ব্যবসাসফল ছবিতেও শাকিব খানের কণ্ঠ দুটি সিকোয়েন্সে ছিলো না। অন্য কারও ডাবিং ছিল কেন? প্রশ্নে নির্মাতা জানান, একদম ঠিক ধরেছেন। আসলে দুই জায়গায় ডাবিং না থাকার কারণ শাকিব তখন ছিল দেশের বাইরে। ওদিকে রিলিজ দেয়ার জন্য ছবি সেন্সরে দিতে হবে। শাকিবও দেশে নেই। তাই অন্য ডাবিং দিয়ে শেষ করি। সেন্সরে দেয়ার পর কপিরাইট না নিয়েই নকল ছবি বলা হচ্ছিল। তখন আমরা কপিরাইট জমা দেই। এসব করতে করতে শাকিব দেশে এসে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তার আর ডাবিং নেয়া হয়নি।

কী কারণে ছবিটা এতো দারুণ ব্যবসা করতে পেরেছে বলে মনে হয় আপনার? জানতে চাইলে নির্মাতার সোজাসাপ্টা উত্তর: পুলিশ কমিশনারের বোন আর হাবিলদারের ছেলের প্রেম একেবারেই দর্শক ক্যাচ করেছিল। আমি ঠিকভাবে বানাতে পেরেছিলাম। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে প্রত্যেক শিল্পীর ইনভলমেন্ট ছিল পরিপূর্ণ। ছবির গানগুলো হিট করেছিল। তখন সিডি ক্যাসেটে দোকানে দোকানে এ ছবির গানের এলব্যাম পাওয়া যেত। সবমিলিয়ে ব্যাটেবলে লেগে যায়।