চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রায় ৫ লাখ গাড়ির ফিটনেস নবায়নে সময় বেঁধে দিলেন হাইকোর্ট

সারাদেশের নিবন্ধিত কিন্তু ফিটনেস নবায়ন না করা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি গাড়ির ফিটনেস আগামী দুই মাসের মধ্যে নবায়ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এই সময়ের মধ্যে ফিটনেস নবায়ন না করা হলে সে সব গাড়ি রাস্তায় চলতে দেয়া হবে না মর্মে পরে আদেশ দেয়া হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

আর বিআরটিএ-কে হাইকোর্টের এই আদেশের বিষয়টি পত্রিকা ও টেলিভিশনে প্রচার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আদালতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান ও পুলিশের পক্ষ থেকে দাখিল করা প্রতিবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। আগামী ১৫ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব।

আজ আদালতে বিআরটিএ’র দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকাসহ সারাদেশে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে দুই লাখ ৬১ হাজার ১১৩টি, চট্টগ্রাম বিভাগে একলাখ ১৯ হাজার ৫শ ৮৮টি, রাজশাহী বিভাগে ২৬ হাজার ২শ ৪০টি, রংপুর বিভাগে ৬ হাজার ৫শ ৬৮টি, খুলনা বিভাগে ১৫ হাজার ৬শ ৬৮টি, সিলেট বিভাগে ৪৪ হাজার ৮শ ৫টি এবং বরিশাল বিভাগে ৫ হাজার ৩শ ৩৮টি গাড়ি মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেসবিহীন রয়েছে।

গত ২৪ জুন হাইকোর্ট সারাদেশের নিবন্ধিত কিন্তু ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ি এবং লাইসেন্স নবায়ন না করা চালকের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ি এবং লাইসেন্স নবায়ন না করা চালকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা আগামী এক মাসের মধ্যে আদালতকে জানাতে বিআরটিএ’র প্রতি নির্দেশ দেন।

এদিন হাইকোর্টে বিআরটিএ’র দাখিল করা প্রতিবেদন বলা হয়, সারাদেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৪০ লাখ ১৮ হাজার ৭শ ৬৭টি। যার মধ্যে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩শ ৬৯টি। এছাড়া ঢাকা শহরে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ১৪ লাখ ৪২ হাজার ৮শ ৬০টি। যার মধ্যে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩শ ৮টি। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সারাদেশে লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা ৩৩ লাখ ৭১ হাজার ৮শ ৯২জন। যার মধ্যে ঢাকায় রয়েছে ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫শ ৮৮জন।

এর আগে গত ২৭ মার্চ হাইকোর্ট রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সড়কে চলা ফিটনেস ও নিবন্ধনহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সহীন চালকের তথ্য জানতে চান এবং রুল জারি করেন।

রুলে ফিটনেসবিহীন ও নিবন্ধনহীন যান চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া যান চালানো রোধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

সেই সঙ্গে রুলে বেঁচে থাকার অধিকার সম্বলিত সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের চেতনা বাস্তবায়নে মোটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩ সহ সংশ্লিষ্ট সকল আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, বিআরটিএ চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে এসব রুলের জবাব দিতে বলেন আদালত।

গত ২৩ মার্চ একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘নো ফিটনেস ডক’স, ইয়েট রানিং’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব। এরপর আদালত রুলসহ আদেশ দেন।

Bellow Post-Green View