চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রতীকের আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী শিক্ষকদের শাস্তির দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী তাইফুল ইসলাম প্রতীককে আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।

শুক্রবার বিকালে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে মানবন্ধনে প্রতীকের আত্মহত্যাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ প্রতীকের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিভাগের যেসব শিক্ষক জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সংগঠন স্লোগান৭১ এর সভাপতি কাজী সুজন মিয়া বলেন, পরিবার -পরিজন ছেড়ে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদেরই অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু সেসব শিক্ষক যখন ভালোবাসা ও যত্নের পরিবর্তে ঘৃণা, বঞ্চনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দূরে ঠেলে দেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী তাইফুল ইসলাম প্রতীকের সঙ্গে শিক্ষকরা এমনই বিমাতাসুলভ আচরণ করেছেন, যা সে মেনে নিতে পারেনি৷ ফলে সে নিজেকে শেষ করে দেয়। এটি একধরনের হত্যাকাণ্ড। সুষ্ঠু তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই আমরা৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সানোয়ারুল হক বলেন, প্রতীক তার যোগ্যতা বলে বিভাগের শিক্ষক হতে চেয়েছিলো৷ সে অনার্সে সর্বোচ্চ রেজাল্টও করে। কিন্তু মাস্টার্সে এসে তার সঙ্গে বিপরীত আচরণ শুরু করে তারই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আজাদ৷ তারা প্রতীকের সঙ্গে একজন অপরাধীর মতো আচরণ শুরু করে। তাকে ১০ নাম্বারের পরীক্ষায় ০ মার্ক দেয়, যে কিনা বিভাগের সর্বোচ্চ রেজাল্টধারী৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের দুর্ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে তাকে শাস্তি দেয়৷ এমন নানা কারণ সহ্য করতে না পেরে প্রতীক নিজের প্রাণনাশ করে৷ এর সঙ্গে জড়িত তার বিভাগের কিছু কুলঙ্গার শিক্ষক। তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে৷

বিজ্ঞাপন

থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নীলিমা হোসেন বলেন, আত্মহত্যা কখনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। আমরাই আমরা কাছের মানুষকে নানাভাবে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছি। আমাদের উচিত আমাদের পাশের মানুষটির মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রাখা যেন সে আত্মহত্যার দিকে ধাবিত না হয়। কিন্তু আজ প্রতীক সেই যত্ন পায়নি। যার ফলে আজ আমরা একজন মেধাবী প্রতীককে হারিয়েছি। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইফুল্লাহ সাদেক এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, কোনোভাবেই আত্মহত্যাকে সমর্থন করি না আমরা। কিন্তু এই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কীভাবে বিষ ঢুকে গেছে, তা সহজে অনুমেয়, কীভাবে একজন তরুণ ধুকে ধুকে মরে যায় তা বুঝতে পারি। আমাদের অবস্থা এমন- ‘ভদ্রতার স্বার্থে না পারি বলিতে, না পারি সইতে’। দু:খ, যাতনা, অপমান, লাঞ্ছনা আর তা বলতে না পারার চূড়ান্ত পরিণতি ‘’আত্মহত্যা’! আমরা মনে করি, শাবিপ্রবির শিক্ষার্থী প্রতীক এমনই কারণে তিলে তিলে শেষ হয়ে গেছে! আমরা বলবো, প্রতীক নিজেকে শেষ করেনি। তাকে শেষ করা হয়েছে। আমাদের সমাজের কিছু নষ্ট শিক্ষক নামের কুচক্রী হীন স্বার্থে, হীন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সম্ভাবনাময়ী তরুণদের তুচ্ছ কারণে অবহেলা করে, লাঞ্ছিত, অপমান করে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়! প্রতীককে এভাবেই শেষ করা হয়েছে। শেষ করা হয়েছে তার পরিববারের স্বপ্নকে, কেড়ে নেয়া হয়েছে মায়ের ভালোবাসা, বোনের শান্তি, বাবার বুকভরা আশা! আজ তাই প্রতীক হত্যার বিচার চাইতে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি।

টিএসসির নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রতীকের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান।

মানবন্ধনে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের গাজী মেহেদী হাসান, নাট্য সংসদের দপ্তর সম্পাদক দিগার মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক মো. লিপ্টন ইসলাম, যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।