চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রতিহিংসা নয়, সরকারের সঠিক সমালোচনা করুন

করোনাকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগের এতো তোড়জোড় কেন? কী এমন ঘটনা ঘটছে যে বিতর্কিত এই আইনটি প্রয়োগের এতো এতো দরকার পড়ে গেল? বিশেষ করে এ দুঃসময়ে? সুনামগঞ্জে এক এমপির মামলায় স্থানীয় এক সাংবাদিক এবং হবিগঞ্জে আরেক এমপির মামলায় ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার ঘটনাগুলোতো আছেই।

ত্রাণ নিয়ে অনিয়মের কথা বললেই দেখা যাচ্ছে মামলা, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমি মনে করি সরকার পর্যাপ্ত ত্রাণ দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। তার সাহসী নেতৃত্বে সবকিছু সামলাচ্ছেন। পুলিশ, সেনাবাহিনী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী সবাই যার যার অবস্থান থেকে প্রাণপনে খাটছেন।

বিজ্ঞাপন

এসবের মাঝেও একটা দুষ্টচক্র রয়েছে। যারা এই ক্রান্তিলগ্নেও দুই নাম্বারী স্বভাব ছাড়তে পারছে না। এই চক্রটি ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম করছে, স্বাস্থ্যখাতের কেনাকাটায় দুর্নীতি করছে। এদের অপকর্মের দায়ভার পড়ছে সরকারের উপর, সরকারের নীতিনির্ধারকদের উপর। এই সুযোগসন্ধানী হাইব্রিডদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ আনেলেই এরা মামলা করে দিচ্ছে। প্রভাব খাটিয়ে জেলেও পুড়ছে। এরা নিজেরাই দুর্নীতিবাজ।

বিজ্ঞাপন

এ কথাও সত্যি যে, সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করার একটা চক্র রয়েছে। এদের বড় একটা অংশ বিরোধিতা করে রাজনৈতিক কারণে। এরা জন্মগত ও আদর্শগত কারণেই বর্তমান সরকারকে পছন্দ করে না, আওয়ামী লীগকে পছন্দ করে না, শেখ হাসিনাকে পছন্দ করে না। ভারতের নাম শুনতে পারে না, হিন্দুদের দেখতে পারে না। এটা এদের মজ্জাগত স্বভাব। জিনগত সমস্যা। এরা কারা এবং এই পছন্দ কারা করে না এটা বুঝিয়ে বলার কিছু নেই। তাদের মাইন্ডসেটই সরকার ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা যদি নিজে গিয়েও এদের বাড়িতে ত্রাণ দিয়ে আসেন তাতেও এরা সমালোচনা করবে। এদের আমরা ভালো করেই চিনি।

এখন খবর আদানপ্রদানের সবচেয়ে বড় মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব রয়েছে। এর কল্যাণে সবাই সবকিছু লিখতে পারছেন,মন্তব্য করতে পারছেন। আপনি ফেসবুক আর ইউটিউবে ঘুরে আসুন দেখবেন সরকারের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করার লোকের অভাব নেই। নানা কল্পকাহিনী সাজিয়ে এরা প্রচার করছে।  এসব দেখে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হলে সরকার কি তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে না? নিতে পারবে না?

গ্রেপ্তার হয়েছে, মামলা হয়েছে এমন কয়েক জনের ফেসবুক বা ইউটিউব ঘুরে মনে হয়েছে তারা এমন সব বক্তব্য দিয়েছেন বা দিচ্ছেন যা শুধু অতিরঞ্জিতই নয় অবাস্তবও। এদের অনেককেই ব্যক্তিগতভাবে চিনি পেশাগত কারণে। এরা বর্তমান সরকারকে, শেখ হাসিনাকে তাদের নীতিগতকারণেই শত্রু মনে করেন। শেখ হাসিনার জন্য ভালো একটি বাক্যও তাদের মুখ থেকে বের হয়নি। দেশ বিদেশ থেকে এরা বাঁশেরকেল্লা চালান। তাদের পোস্টগুলোতে থাকে সরকারের বিরুদ্ধে বিষেদাগার, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিষদাগার। তারা যে ভাষায় লিখে, মন্তব্য করে সেগুলো সমালোচনার ভাষা না। সেগুলো হলো প্রতিহিংসা।

আমার কথা হলো, এই কঠিন সময়ে সবাই জান-প্রাণ হাতের মুঠোয় নিয়ে কাজ করছে।  তাদের ভুলত্রুটি হবে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষায় ঝাপিয়ে পড়বেন কেন? গঠনমূলক সমালোচনা করুন।  ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বাতলে দিন। এতে তারা উৎসাহ পাবে।

বিজ্ঞাপন

যারা দুর্নীতি করছে আর খবর হচ্ছে তারা কী রক্ষা পাচ্ছে? মাস্ক নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ এটা কি অস্বীকার করবেন? স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রাণ নিয়ে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠছে তাদের বরখাস্ত করা হচ্ছে, জেলে দেয়া হচ্ছে। সরকারি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে। সেখানে স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি হতেই পারে। এই বাংলাদেশে এটা কী অবাস্তব? আমাদের নিজেদের জাতটাকেও তো চিনতে হবে।

সরকারিভাবে এমন কোথাও কি বলা হয়েছে যে বিএনপি বা জামাত সমর্থকদের ত্রাণ দেয়া হবে না? সহায়তা করা হবে না? বরং উল্টোটা শুনছি। বিএনপি জামাত অধ্যুষিত এলাকায় দল, মত, ধর্ম বিবেচনা করে ত্রাণ দেয়া হয়। জামাতের যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে ত্রাণ দেয়া হয় তারা একজন ভিন্নধর্মী লোককেও ত্রাণ দেন না। কদিন আগে শ্রীমঙ্গলে জামাতের এক এনজিও ত্রাণ বিতরণ করে হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করার চাপ দেয়া হয়েছে প্রকাশ্যে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। সিলেটে এক বিএনপি নেতা ত্রাণ দেয়ার সময় প্রকাশ্যে বলেছেন হিন্দুদের কোনো ত্রাণ দেয়া হবে না।

যারা ত্রাণ আনতে গিয়েছিলো তারা ফেরত এসেছে৷ এগুলো তো সংবাদ মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে। কিন্তু যেসব বিপ্লবীরা সরকারের গোষ্ঠী উদ্ধার করছেন, শেখ হাসিনার সমালোচনা করছেন তারা কি একটিবার সেই জামাতি এনজিও এবং বিএনপি নেতাকে নিয়ে কথা বলেছেন? সমালোচকরা তখন নিরব থাকেন কেন?

ভাবুন তো কতো নিচু, অসভ্য মানসিকতার হলে এমনটা হতে পারে। মানুষের বিপদের সময়েও যারা জাত ধর্ম বিবেচনা করে এরা কি মানুষের সংজ্ঞায় পড়ে? বিপদে তো পশুও পরস্পরকে আশ্রয় দেয়। ঘূর্ণিঝড়ে সাপ আর ব্যাঙ একসাথে আশ্রয় নেয়ার ছবি আমাদের দেশের মিডিয়াতেই কতো ছাপা হয়েছে।

পক্ষান্তরে এটা যদি কোনো আওয়ামী লীগ নেতা করতো কিংবা অন্য কোনো ধর্মের এনজিও করতো তা হলে কি প্রতিক্রিয়া হতো ভাবা যায়? এরাই ঝাঁপিয়ে পড়তেন। সরকারের,শেখ হাসিনার গোষ্ঠী উদ্ধার তো হতোই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাও লাগাতো।

তাই বলছি, সরকারের অন্ধ সমালোচনা করবেন না, প্রতিহিংসার মানসিকতায় সমালোচনা করবেন না।  সরকার সবার। রাষ্ট্রের সবচেয়ে সংগঠন সরকার। সবার দায়িত্ব সরকারকে সহায়তা করা। সরকারের ভুল ত্রুটি তুলে ধরুন। আমলা-কামলাদের ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। নিজেদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)