চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রতিবেশির সঙ্গে শান্তি চাইলেও আগ্রাসন হলে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে বিশ্বাসী হলেও, যে কোন আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ প্রস্তুত। সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতা দিয়ে প্রতিরক্ষা ও দেশ গড়ার কাজে আরও বেশি অবদান রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেয়া বক্তৃতায়, মহামারি সামলাতে তিন বাহিনীর বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন: জাতির পিতা প্রর্বতিত ‘‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’’-এই মূলমন্ত্র দ্বারা আমাদের বৈদেশিক নীতিমালা পরিচালিত। প্রতিবেশী সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আমরা বিশ্বাসী। তবে যে কোন আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমরা সদা প্রস্তুত ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর প্রতিরক্ষানীতি ১৯৭৪’র আলোকে আমরা ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় সশস্ত্র বাহিনীকে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠন, উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিশেষায়িত সামরিক সজ্জায় সজ্জিত করা হচ্ছে।

‘‘বিগত এক দশকে আমরা সশ্রস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি শাখাকে আধুনিক সমরাস্ত্র এবং উপকরণ দ্বারা সমৃদ্ধ করেছি। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই আমাদের সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনী যে পরিমাণ আধুনিকায়ন হয়েছে অতীতে কোন সময়েই তা হয়নি।’’

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেয়া ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং কর্মদক্ষতা এখন বিশ্বময় সমাদৃত।

বিজ্ঞাপন

করোনা মহামারির ক্রান্তিকালে সংক্রমণ আতঙ্কের মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেন সরকার প্রধান। বলেন: করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলার বাংলাদেশ নৌবাহিনী সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা এবং দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারদের মানবিক সহায়তা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন: এছাড়াও জাতিসংঘে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘বিজয়’ লেবাননের বৈরুতে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে। আমাদের বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কোভিড-১৯’এ আক্রান্ত জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, শিক্ষক, বিশিষ্টজনসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনীর সবচেয়ে বেশি আধুনিকায়ন হয়েছে উল্লেখ করে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা।

তিনি আরও বলেন: আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২টি পদাতিক ব্রিগেড, রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন, সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা ও তদারকির জন্য ১টি কম্পোজিট ব্রিগেড, স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন ছাড়াও ১০টি ব্যাটালিয়ন, এনডিসি, বিপসট, এ.এফ.এম.সি, এম.আই.এস.টি, এনসিও’স একাডেমি ও বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করা সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে নিয়ে গড়া স্বাধীন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সমৃদ্ধির নতুন সোপানে গৌরব আর অহঙ্কারের প্রতীক। দখলদার পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যৌথ আক্রমণের মধ্যে দিয়ে ৭১ এর ২১ নভেম্বর যাত্রা শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী।