চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পিপলস লিজিং: বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও কীভাবে টাকা পাচার হয়?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও কীভাবে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানি থেকে টাকা পাচার হয়, এমন প্রশ্ন রেখে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা অভিযোগ করে বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের যোগসাজশে শত শত কোটি টাকা পাচার হয়েছে।

তারা আরো জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাদের টাকা ফেরত দিতে হবে। অন্যথায় তারা রাজপথে নামবেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে সিটি সেন্টারের সামনে ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র আমানতকারি কাউন্সিলের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব বলেন তারা। মানববন্ধনে প্রায় দুই শতাধিক আমানতকারী অংশ নিয়েছিলেন।

মানববন্ধনের আহ্বায়ক ও প্রধান সমন্বয়কারী আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সকৃত প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানি। কোম্পানিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগপ্রাপ্ত একজন পরিচালকের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। কিছু ব্যক্তি মাসের পর মাস এই ফাইন্যান্স কোম্পানি থেকে শত শত কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করলেন, অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক এগুলোর খবর রাখেনি। যখনই পাচারকারীরা দেশ থেকে চলে গেছেন, তখন এই টাকার সন্ধান করা হয়। এটা থেকে প্রমাণিত হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের যোগসাজশে টাকা পাচার হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও কীভাবে এখান থেকে টাকা পাচার হয়? ব্যাংকের অডিটের সময় কেন ধরা পড়েনি? আমরা কোনো ভিক্ষা চাচ্ছি না, আমাদের টাকা ফেরত চাচ্ছি। বাংলাদেশ ব্যাংক বার বার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত টাকা ফেরত দেয়নি।

তিনি আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত না পেলে রাজপথে অবস্থান করবো। প্রতিটি ফাইন্যান্স কোম্পানির সামনে ব্যানার টাঙিয়ে দেয়া হবে। ব্যানারে লেখা থাকবে ফাইন্যান্স কোম্পানিতে টাকা রাখলে এক টাকাও ফেরত পাওয়া যাবে না। একইসাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আমাদের টানা অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

“অনেক ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছি, আর পারছি না, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমাদের অনেকে অসুস্থ, কেউ কেউ মারা গেছেন, কেউ চিকিৎসা করাতে পারছেন না, মেয়ে বিয়ে দিতে পারছেন না, সংসার চালাতে পারছেন না, আমাদের টাকা ফেরত দিন, আমরা বাঁচতে চাই।”

বিনিয়োগকারীদের একজন একেএম আনসার উদ্দিন বলেন, আমি সরকারি চাকরি করতাম, ৫ বছর হলো অবসর নিয়েছি। কিছু লাভের আসায় অবসরের টাকা পিপলস লিজিংয়ে বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু এখন আর কোনো টাকা পাচ্ছি না, কোনো লাভ দেয়া হয় না, সংসার চালাতে পারি না। সমাজে ভিক্ষাও করতে পারছি না, সংসারও চালাতে পারছি না। এ অবস্থায় বেঁচে থাকা বা মরে যাওয়া সমান কথা। বাবা হয়ে মেয়ের বিয়ে দিতে পারছি না, এটা লজ্জার, সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না।

রায়হান কবির নামে আরেক বিনিয়োগকারী বলেন, পিপলস লিজিং চোর, এটা মেনে নিলাম। তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে পরিচালক পিপলস লিজিং দেখভাল করতেন তার উপস্থিতিতে কীভাবে টাকা পাচার হলো? তাহলে তিনিও কি চোর? ফারমার্স ব্যাংকের সমস্যা থাকায় সেখানে ৩ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠন করা হয়। ফারমার্স ব্যাংককে সচল করা হলো, তাহলে ফাইন্যান্স কোম্পানিতো বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিভুক্ত, তাদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত পিপলস লিজিং কী অন্যায় করলো যে এখানে একটা ফান্ড দেয়া হবে না? আমরা ৬ হাজার বিনিয়োগকারী পথে বসতে চলেছি। দুদক পিকে হালদারের জব্দ করা ১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা থেকে ৭৫০ কোটি টাকা দেয়া হোক। অন্তত আমরা যেন বাঁচতে পারি।