চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে ডাকতি, টার্গেটে ফল-সবজি ব্যবসায়ী

সবজি ব্যবসায়ী আপন মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ৬ আসামি গ্রেপ্তার

রাজধানীতে রাত ১১টার পর থেকেই পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে ডাকাতির সন্ধানে বের হয় ডাকাত দলের সদস্যরা।

চক্রটি আব্দুল্লাহপুর থেকে কারওয়ান বাজার, রামপুরা থেকে যাত্রাবাড়ী, যাত্রাবাড়ী থেকে ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় তাদের ডাকাতি কার্যক্রম চালায়। ভোর বেলায় চক্রটির টার্গেটে থাকে সবজি-ফল ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

সবজি বিক্রেতা আপন মিয়া থাকেন রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায়। প্রতিদিন সকালে তিনি কারওয়ান বাজারে গিয়ে সবজি সংগ্রহ করে নিজ এলাকায় এনে বিক্রি করতেন।

গত ২৮ ডিসেম্বর ভোরে আপন মিয়া ও তার সহযোগী নজরুল ইসলাম বাসা থেকে বের হয়ে বিমানবন্দর কাওলা ফুটওভার ব্রিজের নিচে গাড়ীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় একটি পিকআপ এসে তাদের সামনে দাঁড়ায়।

তারা দুজনই কারওয়ান বাজার যেতে ওই পিকআপভ্যানে ওঠেন। কিছুদুর যাবার পর ডাকাত দলের সদস্যরা আপন ও নজরুলকে ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা টাকা এ মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদের চলন্ত পিকআপভ্যান থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আপন মিয়া মারা যান।

এই ঘটনায় গত ৬ জানুয়ারি নিহত আপনের পরিবার বিমানবন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি ওই মামলাটির ছায়া তদন্ত করতে থাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিএমপি গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ।

তদন্তে ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার ও বিশ্লেষণ করে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ঢাকার নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা অভিযান চালিয়ে ডাকাতি ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের একটি টিম।

সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশ

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

গ্রেপ্তার ডাকাত দলেন সদস্যরা হলো- সজল, মূসা, বাচ্চু, সজীব, মুন্না ও সিদ্দিক। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপভ্যান, দেশীয় অস্ত্র চাকু, লুট করা ৭ হাজার টাকা ও একটি মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গ্রেপ্তার ৬ জনই ডাকাত দলের সদস্য। তারা পিকআপভ্যান ভাড়া নিয়ে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীতে ডাকাতি করে আসছিলো। চক্রটি সপ্তাহের অধিকাংশ দিন ডাকাতির জন্য বের হতো।

তিনি বলেন, আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সাধারণত তারা রাত ১১টার পর থেকে একটি ভাড়া করা পিকআপভ্যান নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বের হয়। চক্রটি আব্দুল্লাহপুর থেকে কাওরান বাজার, রামপুরা থেকে যাত্রাবাড়ী, যাত্রাবাড়ী থেকে ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় তাদের ডাকাতি কার্যক্রম চালায়। পিকআপের সামনের সিটে ৩ জন বসেন এবং বাকীরা যাত্রী বেশে পিকআপের পিছনে বসে থাকেন।

ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত চাকু, লুট করা ৭ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়

ভোরে তারা মূলত সবজি ও ফল ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে পিকআপে তুলেন এরপর লুটপাট শেষে ভুক্তভোগীদের ফেলে দেন। তিনি বলেন, ‘আসামিরা জানায়, নিহত আপন মিয়ার কাছ থেক একই পন্থ্যায় টাকা ও মোবাইলফোন লুট করেছিল। ওই দিন আপন মিয়াকে পিকআপে তোলার পর গ্রেপ্তার মূসা ও রফিক তার বুকে চাকু ধরে। পিকআপের সামনে বসা সজল পিছনে চলে আসে এবং আপনের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে চাকু দিয়ে আঘাত করে আপন ও নজরুলকে ধাক্কা দিয়ে পিকআপ থেকে ফেলে দেয়।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, রাতে অন্যান্য যানবাহন কম চলাচল করে। তাই এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তারা চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। এরজন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন