চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পিইসি-জেএসসি পরীক্ষাগুলো হোক চাপমুক্ত ও আনন্দময়

একসঙ্গে প্রকাশ হয়েছে পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী এবং অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল। এবছর জেএসসিতে পাসের হার ৯২.৩৩ ও জেডিসিতে ৯৪.০২।  প্রাথমিকে পাস করেছে ৯৮.৫১ শতাংশ ও ইবতেদায়িতে ৯৫.৮৫ শতাংশ। প্রায় প্রতিবারের মতো ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ফলাফল ভাল। জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতা হিসেবে পরীক্ষা দুটো দেশজুড়ে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় সব শিক্ষার্থীর অভিভাবক তাদের ছেলেমেয়েরা যেনো অবশ্যই জিপিএ ৫ পায়, এরকম একটা মানসিকতা রাখেন। তাদের চাহিদায় এ পরীক্ষার আয়োজন ও প্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো। কোচিং সেন্টার, গাইড বই আর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার মতো বিষয়েও এটা বেশ আলোচিত। অভিভাবকদের প্রত্যাশা অনুসারে জিপিএ-৫ না পেয়ে এবং কৃতকার্য না হতে পেরে অতীতে কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের চিন্তা, মনন ও উৎকর্ষতায় পরিবর্তন আনতে হলে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি যে অবসর, খেলাধূলা আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রয়োজন, ওই পরীক্ষা দুটোর কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অনেক শিক্ষাবিদ ও মনোবিদ। এ প্রেক্ষাপটে সরকারসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষকে এই পরীক্ষা উঠিয়ে দেবেন কি রাখবেন, তা নিয়ে নানা পরিকল্পনা করতে দেখা গেছে। অবশ্য এবারের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্য একটি ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতেই এসব পরীক্ষার প্রচলন করা হয়েছে। ছেলেমেয়েরা সরাসরি এসএসসি পরীক্ষা দিতে গেলে দেখা যায় যে তাদের মাথা ঘুরায়, জ্বর আসে, বমি বমি ভাব হয়, তারা নার্ভাস হয়ে পড়ে। আর ছেলেমেয়েরা যতটা না নার্ভাস হয় তার থেকে বেশি নার্ভাস হয়ে পড়ে তাদের বাবা-মায়েরা। এরকম পরিস্থিতিতে যেনো তাদের না পড়তে হয় সেজন্যই এই পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। ছোটবেলাতেই শিশুটির একটি বোর্ড পরীক্ষার সার্টিফিকেট হয়। সেটা অনেকে বাধাই করে ঘরে রাখে। সেটাও তাদের জন্য খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরে ওই দুটি পরীক্ষার কোনো ধরণের পরিবর্তন বা উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা হয়তো থাকবে না। এসএসসি পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের ওই দুটি পরীক্ষার জন্য আগের বছরগুলোর মতো প্রস্তুতি নিতে হবে। শিশু শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য এ ধরণের পরীক্ষাগুলো যদি রাখতেই হয়, তাহলে তা হওয়া উচিত চাপমুক্ত, আনন্দময় এবং পরিকল্পিত। আমাদের প্রত্যাশা দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি ভেবে সঠিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

Bellow Post-Green View