চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘পাসওয়ার্ড’ পুরোপুরি নয়, আংশিক নকল: পরিচালক-প্রযোজককে সতর্ক বার্তা

‘পাসওয়ার্ড’ কোরিয়ান ছবি ‘দ্য টার্গেট’-এর হুবুহু নকল! গেল ঈদে মালেক আফসারী পরিচালিত ছবিটির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছিলো সোশাল মিডিয়ায়। এরপর আনন্দ কুটুম নামের এক তরুণ চলচ্চিত্র কর্মী সেন্সর বোর্ডকে লিখিত অভিযোগে বিষয়টি অভিহিত করেন। বিষয়টি আমলে নেয় সেন্সর বোর্ড। তারই ভিত্তিতে গেল বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) কোরিয়ান ছবি ‘দ্য টার্গেট’ দেখেন সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা। ছবিটি দেখার পর সেন্সর বোর্ডের একাধিক সদস্য চ্যানেল আই অনলাইনকে তাদের মতামত জানিয়েছেন।

সেন্সর বোর্ডের সদস্য ও চিত্রপরিচালক শাহ আলম কিরণ বলেন, ‘পাসওয়ার্ড’-এর বিরুদ্ধে কোরিয়ান একটি ছবির নকলের অভিযোগ উঠায় গেল বৃহস্পতিবার সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা দুটি ছবিই দেখেছি। কিন্তু ‘পাসওয়ার্ড’-এর বিরুদ্ধে পুরোপুরি নকলের যে অভিযোগটি আমরা পেয়েছি, সেটা সত্য নয়। পার্টিকুলার কিছু অংশের সাথে মিল রয়েছে, কিন্তু কোরিয়ান গল্পের সাথে পাসওয়ার্ডের গল্পের কোনো মিল নেই। দুইটা আলাদা আলাদা স্টোরি।

বিজ্ঞাপন

সেন্সর বোর্ডের এই সদস্য আরো বলেন, হুবুহু মিল যেহেতু নেই কিংবা দুটি ছবির গল্পও আলাদা আলাদা তাই আমাদের মনে হয়েছে ‘পাসওয়ার্ড’-এর বিরুদ্ধে শক্ত কোনো অবস্থান আমাদের নেয়ার এখতিয়ার নেই, তবে কপি থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া যেত। আমরা যারা ওইদিন ছবি দুটি আবার দেখেছি, তারা সবাই নিজেদের সিদ্ধান্ত দিয়েছি। এখন যা করার সেন্সর বোর্ডের যিনি প্রধান আছেন, তিনি করবেন।

‘পাসওয়ার্ড’ ও ‘দ্য টার্গেট’ ছবি দুটি দেখার পর সেন্সর বোর্ডের সিনিয়র সদস্য ও সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, দুটি ছবিই আমরা দেখেছি। দেখার পর অনেক দৃশ্যের সাথে আমরা মিল পেয়েছি। তবে দুটি ছবির গল্পে পুরোপুরি মিল নেই, কিছু কিছু জায়গায় মিলেছে। ভবিষ্যতে কেউ যেন এমনটাও না করেন, এমন একটা সতর্কবার্তার কথা আমরা বলেছি।

এদিকে ‘পাসওয়ার্ড’-এর বিরুদ্ধে নকলের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিলো ছবির প্রযোজক শাকিব খানের কাছে। এ বিষয়টি জানিয়ে সেন্সর বোর্ডের ভাইস-প্রেসিডেন্ট নিজামূল কবীর চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘পাসওয়ার্ড’-এর বিরুদ্ধে নকলের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা এর ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম ‘পাসওয়ার্ড’-এর প্রযোজক শাকিব খানের কাছে। তিনি আমাদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তারপর বিষয়টি নিয়ে আমাদের বোর্ড সভাও অনুষ্ঠিত হয়। তারই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার আমরা পুরো সেন্সর বোর্ড পুনঃপরিক্ষণের অংশ হিসেবে শাকিবের ছবি দেখলাম, এরপর কোরিয়ান ছবিটাও দেখলাম।

নকলের অভিযোগ নিয়ে পুনরায় ‘পাসওয়ার্ড’ দেখার পর কোরিয়ান ছবিটির সাথে কিছু অংশ মিল পেয়েছেন জানিয়ে সেন্সর বোর্ডের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পাসওয়ার্ড’ দেখার পর কোরিয়ান ছবি ‘দ্য টার্গেট’-এর সঙ্গে আমরা সেন্সর বোর্ডের সবাই কিছু মিল খুঁজে পেয়েছি। বিশেষ করে ‘পাসওয়ার্ড’-এর শুরুর দিক থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত বেশি মিল পাওয়া গেছে, তবে এই ছবির শেষ অংশ ও ক্লাইমেক্স-এর সাথে কোরিয়ান ছবির কোনো মিল খুঁজে পাইনি।

আংশিক মিল পাওয়ায় ছবির প্রযোজক বা পরিচালকের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কিনা, এমন প্রশ্নে নিজামূল কবীর বলেন: ছবি দুটি দেখার পর বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, সেন্সর বোর্ড থেকে ‘পাসওয়ার্ড’-এর পরিচালক ও প্রযোজকের কাছে অফিশিয়ালি লিখিত ভাবে একটি সতর্কবার্তা পাঠানো হবে, যেন তারা ভবিষ্যতে এগুলো এমনটা না করেন।

‘পাসওয়ার্ড’-এর বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগ এনে যে তরুণ চলচ্চিত্র কর্মী সেন্সর বোর্ডের কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন তাকে সেন্সর বোর্ডের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেয়া হবে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন: না। নকলের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সেন্সর বোর্ড মিলে যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছি সেগুলো স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমের বরাতেও সবাই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারছেন। অভিযোগকারীকে এ বিষয়ে কোনো চিঠি বা জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে কথা হয় অভিযোগকারী ও তরুণ চলচ্চিত্রকর্মী আনন্দ কুটুমের সঙ্গেও। সেন্সর বোর্ডের এমন সিদ্ধান্ত জানানোর পর তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আংশিক নয় ‘পাসওয়ার্ড’ ছবিটি কোরিয়ান ছবি ‘দ্য টার্গেট’-এর পুরোপুরি নকল। এখন যদি আমাদের সেন্সর বোর্ড এটা দেখার পরও ছবিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেন, তাহলে সেটা তাদের উদারতা বা দুর্বলতা। কিন্তু আমি বলতে চাই, কপি বা নকলের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার পরও যদি তারা কোনো ব্যবস্থা না নেন তাহলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরো হতেই থাকবে।

মালেক আফসারী পরিচালিত ব্যবসাসফল ছবি ‘পাসওয়ার্ড’ নির্মিত হয়েছে শাকিব খান ফিল্মস (এসকে ফিল্মস) এর ব্যানারে, ছবির সহপ্রযোজক ইকবাল। শাকিব খান ছাড়াও ছবিতে অভিনয় করেছেন বুবলী, ইমন, মিশা সওদাগর, অমিত হাসান, শিবা শানু প্রমুখ। ছবিটি মুক্তির পর টানা তিন সপ্তাহে শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে চলেছে। শাকিব জানিয়েছেন, আসছে ঈদুল আযহা পর্যন্ত দেশের বেশির ভাগ প্রেক্ষাগৃহে চলবে ছবিটি।

Bellow Post-Green View