চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন সচল হবে কি?

সিলেটের বন্দর বাজারে একজন নাগরিককে পুলিশ পিটিয়ে হত্যা করেছে৷ দশ হাজার টাকা ঘুষ না দেয়ায় তাকে এভাবে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ। আর পুলিশ বলছে ছিনতাইকালে নগরের কাস্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে রায়হানের মৃত্যু হয়। তবে জনগণের কথা ভিন্ন। তাই বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের আখালিয়া এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করলো তারা৷

জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ প্রণয়ন করে। নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী কেউ নির্যাতনের শিকার হলে আদালতে অভিযোগ করতে পারেন। শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন প্রমাণিত হলে শাস্তি হিসেবে নূন্যতম ৫ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া নির্যাতনের ফলে মৃত্যু হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে৷ কিন্তু বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত এমন কয়টি মৃত্যুর মামলা ও বিচার হয়েছে?

বিজ্ঞাপন

দেশের বিভিন্ন এলাকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন একাধিক অভিযোগ উঠে আসছে। কোথাও মামলা দায়ের হয়েছে কোথাও হয়নি। পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনে কারও নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মামলা করাসহ আইনগত নানা জটিলতায় পড়তে হয়। অন্যদিকে ধর্ষণ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কেউ অপরিণামদর্শী আবেগে ক্রসফায়ারের কথা বলছেন৷ কিন্তু এতে কি পুলিশ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে না? টেকনাফের একরাম কমিশনারের মেয়ের আর্তনাদ কি এখনও আমাদের কানে বাজে না? এখানেও আইনের অপব্যবহারের শঙ্কা রয়েছে। এ অপব্যবহার বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ক্ষমতার এমন অপব্যবহারের নজির আরও অনেক দেওয়া যাবে। সম্প্রতি মেজর সিনহাকে মেরে ফেলল৷ আবার তার নারী সহকর্মীকে ‘চরিত্রহীনা’ প্রমাণের অপচেষ্টায় লিপ্ত হলো৷ ধর্ষক প্রিন্সিপাল সিরাজ উদ্দৌলাকে বাঁচাতে ধর্ষণ ও পুড়িয়ে হত্যার শিকার নুসরাতকেও তারা দুশ্চরিত্রা প্রমাণের অপচেষ্টা করেছিল৷ এসব বন্ধ করতে হলে আইনের রক্ষক হয়ে যারা আইনকে বেআইনি পথে নিয়ে যায় তাদেরকে কঠোরতর শাস্তির আওতায় আনতে হবে৷ সরকার অবশ্য এরমধ্যে অনেককেই আইনের আওতায় এনেছে। ওসি মোয়াজ্জেম কিংবা প্রদীপ তারা আইনের আওতায় এসেছে। গ্রেপ্তার হয়েছে।

তবুও প্রশ্ন উঠছে, জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসাবে দেশের অভ্যন্তরে কী ভূমিকা রাখলো বাংলাদেশ? হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু নিবারণ আইন কি আদৌ কার্যকর আছে? সেটা যেন কেবলই কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। এজন্য সকল হেফাজতে মৃত্যুর দ্রুত বিচার করতে হবে৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক এর সঠিক পরিসংখ্যান মিডিয়ায় প্রকাশ করতে হবে৷ জনগণকে জানতে দিতে হবে৷ জাতিসংঘে স্বাক্ষর করা দেশ হিসাবে জাতিসংঘেও তার সঠিক চিত্র তুলে ধরতে হবে৷ এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশন অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

তাই কেবল নতুন নতুন আইন প্রণয়ন নয় পুরনো আইনগুলো কার্যকর করতে হবে। সম্প্রতি যে একটি ধর্ষণ মামলার মৃত্যুদণ্ডের রায় হলো সেটাও কিন্তু পুরনো আইনেই হয়েছে৷ এমন রায় আগে কেন হতে পারল না? বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই নতুন নতুন আইনের দাবী উঠছে৷ তবে সকল আইনের যথাযথ প্রয়োগ হলে জনগণের মাঝে এমন দাবি উঠতো না৷

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)