চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নির্ভয়া ধর্ষণ: মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে দুই আসামির আপিল খারিজ

ভারতের নির্ভয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চার আসামির মধ্যে দু’জনের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি এনভি রমনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিনয় শর্মা ও মুকেশ সিংয়ের পিটিশনের শুনানিতে আবেদনটি খারিজ করে দেন।

এনডিটিভি জানিয়েছে, মামলায় অভিযুক্ত চারজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়ার পর সর্বোচ্চ সাজা থেকে রেহাই পাওয়ার সর্বশেষ উপায় হিসেবে এই কিউরেটিভ পিটিশন দায়ের করেন আসামি বিনয় ও মুকেশ।

আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ৭টায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন প্যারা মেডিক্যালের এক শিক্ষার্থী। প্রেমিকের সামনেই গণধর্ষণের শিকার হন ভারতব্যাপী ‘নির্ভয়া’ নামে পরিচিতি পাওয়া ওই নারী। দু’জনকেই মারধরের পর বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয়। ওই বছরই ২৯ ডিসেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নির্ভয়ার।

বিজ্ঞাপন

২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর এ ঘটনায় চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২১ ডিসেম্বর আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করা হলে ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয়। ওই বছরের ১১ মার্চ তিহার জেলে মূল আসামি রাম সিং আত্মহত্যা করে।

পরে ২৩ সেপ্টেম্বর অন্য চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেন ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখেন দিল্লি হাইকোর্ট। পরে সুপ্রিমকোর্টে এ রায়কে চ্যালেঞ্জ করেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি। ২০১৭ সালের ৫ মে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্ট।

২০১৯ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টে রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানান আসামি অক্ষয় কুমার সিংহ। ১৬ ডিসেম্বর রায় পুর্নবিবেচনার জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করা হয়। অবশেষে ১৮ ডিসেম্বর চার আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশই বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্ট।

এরপরই সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে চলছিল কিউরেটিভ পিটিশনের কাজ, যা আজ খারিজ হয়ে গেল।

শেয়ার করুন: