চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নিজের গড়া ব্যান্ড ছেড়ে যাওয়া তো কঠিন সিদ্ধান্তই: তন্ময় তানসেন

‘ভাইকিংস’ ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন ব্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও ভোকাল তন্ময় তানসেন…

দেশের ব্যান্ড সংগীতের জগতে আবারও ভাঙনের সুর। এবার জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘ভাইকিংস’ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও ভোকাল তন্ময় তানসেন। হঠাৎ কী হল, যার জন্য নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠিত দল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর? সামনেই বা কী পরিকল্পনা? এসব নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের মুখোমুখি তন্ময় তানসেন:

হঠাৎ এমন কী হলো যে আপনি নিজের গড়া ব্যান্ড দল ছেড়ে দিলেন?
হয় না মাঝেমধ্যে, অনেক সময় বহু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়! আর ‘ভাইকিংস’ শুধু আমার একার গড়া দল না, সবারই কমবেশি আফোর্ড ছিল। আসলে এই সময়ে এসে আমার কাছে মনে হয়েছে একটা পরিবর্তন দরকার। মনে হয়েছে, ভাইকিংসের সংগ্রামের কেবল শুরু, এখনো দলটির বহু পথচলা বাকি, আমাদের বহু পথ পাড়ি দিতে হবে। কিন্তু একই সময়ে হয়তো কারও কারও কাছে মনে হতে পারে ভাইকিংস অনেকদূর পৌঁছে গেছে! যেহেতু আমি সংগ্রাম ও দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার সক্ষমতা রাখি সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে ‘ভাইকিংস’ ছেড়ে দেয়া উচিত এবং স্ট্রাগলটা কন্টিনিউ করি নিজের মতো করে।

বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের দিকে বেশি মনোযোগ দিতেই কি ‘ভাইকিংস’ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?
আমি কোথাও বলি নাই আমার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য ভাইকিংস ছাড়ছি। বরং আমি স্পষ্ট করে বলেছি অবশ্যই ভবিষ্যতে মিউজিক করব, এবং সেটা ব্যান্ড ই করব। যদি কেউ বলে থাকে যে আমি ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য ভাইকিংস ছেড়েছি, তাহলে সেটা হবে ভুল তথ্য।

‘ভাইকিংস’ আজ দুপুরে তাদের অফিশিয়াল ফেসবুকে আপনার দল ছাড়ার বিষয়টি অবহিত করেন। সেখানে তো তারা এমনটাই বললেন যে, ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারকে ফোকাস করতেই দল ছেড়েছেন? দলের পক্ষ থেকে শুভ কামনাও জানানো হয়েছে।
এটা আমি ঠিক জানি না যে তারা কোন জায়গা থেকে ভেবে এমন ঘোষণা দিয়েছেন। আমি কোথাও বলি তো নাই-ই, আমি যেসব জায়গায় কথা বলেছি সবখানে বলেছি যে আমি অবশ্যই ব্যান্ড মিউজিক করব। দল ছেড়ে গেছি তো কি হয়েছে!

১৯৯৭ সালে ভাইকিংস শুরুর পর মাঝখানে সাড়ে দশ বছরের মত দলটি ছিলো না। ‘রান আউট’ ছবিতে গানের মাধ্যমে আবার শুরু করেছিলেন। প্রত্যাবর্তনের পর তো দলটি ভালোই চলছিল দৃশ্যত?
আসলে আমার কাছে মনে হচ্ছিল যেভাবে ব্যান্ডটি চলছিল, এটা যথেষ্ট নয়। আমাদের সম্মিলিতভাবে আরও চেষ্টা করা উচিত, মানে ব্যাংন্ড এগিয়ে নেওয়ার আরো যথেষ্ট জায়গা রয়েছে- এরকমটা আমার মনে হয়েছিল। আসলে আমি আমি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টা আমি আমার নিজের কাঁধে নিচ্ছি, আমি আসলে একটা পরিবর্তন চেয়েছিলাম, এই আর কী!

সার্বিকভাবেই শুন্যের শেষ দিক থেকে ব্যান্ড মিউজিকের অবস্থা তুলনামূলক খারাপ। এটাই কি দলে অ্যাফোর্ড দিতে অনীহা তৈরী করেছে অন্য সদস্যদের?
না না, ওরকম কিছু না। আমার কাছে মনে হয়েছে যে আমি আরো বেশি অ্যফোর্ড দিতে চাই মিউজিকে, আরেকটু পরিবর্তন চাই নিজের। ব্যস্!

তারপরও প্রতিষ্ঠাকালীন একজন সদস্য দল ছেড়ে গেলেন, এটা তো শ্রোতা ভক্তদের জন্যও মেনে নেয়া কষ্টকর!
সরে যেতে তো হয় আসলে কখনো কখনো কাউকে কাউকে! আমি তো কঠিন সিদ্ধান্তটা নিলাম, নিজের তৈরি একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যাংন্ড ছেড়ে যাওয়া তো কঠিন সিদ্ধান্তই। নাকি? তবে আমি সেটা হ্যান্ডেল করতে পারব, এবং এই প্রেসার নিতে পারবো বলেই আমি সরে গিয়েছি।

মিউজিক ছাড়া তো আপনি নাটক-সিনেমা নিয়েও কাজ করেছেন। এগুলোর কী অবস্থা?
নাটক-সিনেমা আর করবো না। করতে চাই না আসলে, মিউজিক নিয়ে থাকতে চাই। আগামীতে একটা ব্যান্ড করার পরিকল্পনা করছি।

২৩ বছর জার্নির পর আবার নতুন করে শুরুর বিষয়টা কঠিন!
এগুলো নিয়ে আমার আসলে এত ভাবনা নাই। এগুলো নিয়ে আমি ভাবছি না। আমি মিউজিকটা উপভোগ করতে চাই, আমার কাছে মিউজিকটাই গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন ব্যান্ড নিয়ে কি পরিকল্পনা চূড়ান্ত?
না, এখনো পরিকল্পনা শুরু করিনি। যদি ধরেন এই মহামারীটা কোন ভাবে পার করতে পারি, তাহলে আগামীতে সুন্দর করে একটা চেষ্টা করব।