চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভার্চুয়াল আলোচনা

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে যথাযথ মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। এসময় বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস এর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এবং স্বাগতিক দেশের বিধি-বিধান প্রতিপালন করে বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল,নিউইয়র্ক ও কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরীর যৌথ উদ্যোগে ভার্চুয়াল আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঘন্টাব্যাপী এই ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, যুক্তরাষ্ট্রের মুলধারার রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকবৃন্দ।

বিজ্ঞাপন

ভার্চুয়াল আলোচনার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা এবং কুইন্স লাইব্রেরীর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেনিস এম ওয়ালকট।

আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডক্টর এ কে আব্দুল মোমেন, মহান ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা এবং এই আন্দোলনের অনুপ্রেরনায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে  বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বের বিস্ময়। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বিশ্ববাসীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানান।

বিজ্ঞাপন

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন,রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ গ্রেপ্তার হন। আর এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ১৫ই মার্চ ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব বাংলায়। ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রথম ধাপ বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

মহান ভাষা আন্দোলনের অনুপ্রেরণা অভিবাসীদের নিজ নিজ  ভাষা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সদস্য গ্রেস মেং। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের কুইন্সে বাংলা ভাষা ৪র্থ ভাষার মর্যাদা লাভ করেছে। বাংলা ভাষাভাষী মানুষ কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে অভিমত যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের এই আইন প্রণেতার।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান নিউইয়র্ক স্টেট কংগ্রেসম্যান জন ল্যু,জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর আব্দুর রহমান, কুইন্স ব্যুরো প্রেসিডেন্ট ডোনাভন রিচার্ডস। তারা বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া জাতির অধিকার আদায়ের পথিকৃত হয়ে কাজ করছে। তারা ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন নিউইয়র্কে ভারত, থাইল্যান্ড, ভুটান, পেরু, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, এস্তোনিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কনসাল  জেনারেলরা। তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলাদেশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানান।

শেষে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপপক্ষে এই ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান সাবেক মূখ্য সচিব ডক্টর কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।