চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নালা দখল, অবরুদ্ধ শতাধিক মানুষ, পরিবেশ বিপর্যয়

চট্টগ্রাম মহানগরীর জামাল খান লেনে ড্রেন ও নালা দখল করায় বন্ধ হয়ে গেছে পয়ঃনিষ্কাষণ। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি ছড়াচ্ছে রোগব্যাধিও। নোংরা-আবর্জনা এবং দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে এলাকার কয়েকশ’ মানুষ। তবে, ড্রেন ও নালা উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। চট্টগ্রাম মহানগরের আসকার দীঘির দক্ষিণপাড়ে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নালা দখল করে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে পয়ঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থা। এতে দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। ছড়াচ্ছে নানা রোগ জীবানু ও পানিবাহিত রোগ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন কাউন্সিলর, সামাজিক নিরাপত্তা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও এই সমস্যার সমাধান হয়নি।

ভুক্তভোগী বাসিন্দা ওয়াসি উদ্দিন জানান, ‘প্রভাবশালী শহীদুল্লাহ নালা দখল করে রেখেছেন। সিটি কর্পোরেশনে লিখিত অভিযোগ করায় আমার বাসায় হামলা হয়, আমার নামে মিথ্যে মামলা দেয়ার চেষ্টা চলে। পরে থানার ওসির কাছে মুচলেখা দিয়ে হামলাকারীরা আপোস করে।

বিজ্ঞাপন

আরেক ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম চ্যানেল আইকে জানান, ‘শত বছর ধরে আমাদের প্রবাহিত পয়ঃপ্রণালী ও নানা এ ব্যাক্তি অমানবিক ভাবে দখল করে রেখেছেন। এ বিষয়ে আমরা লিখিতভাবে সিটি কর্পোরেশন বরাবর আবেদন করেছি। দখলকৃত নালা সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে হওয়ায় কোনো প্রতিকার মিলছে না। ’

এ বিষয়ে স্থানীয় জামালখান লেন নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি মুজিবুল হক বাচ্চু বলেন, ‘আমরা নালা দখলকারী শহীদুল্লাহকে একাধিকবার ডেকেছি বিষয়টি সুরাহা করতে। সে প্রতিবারই নিরাপত্তা পরিষদকে অগ্রাহ্য করেছে। স্থানীয় কাউন্সিলরকেও আমরা জানিয়েছি। তিন বছর ধরে এতোগুলো পরিবার কষ্ট পাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ২১ নং জামাল খান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাস সুমনের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বলেন, ‘আমাদের সিটি কর্পোরেশনের জায়গায় স্থাপন করা নালার অংশ উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকীটা গৃহায়ণ ও গণর্পূর্তের খাস জমির নালা দখল করা হয়েছে। তাই আপাত কিছু করা যাচ্ছে না।’

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের নির্দেশে সিটি কর্পোরেশনের দখল হয়ে যাওয়া নালা উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে গড়ে ওঠা স্থাপনা গুড়িয়ে দেন নির্বাহী ম্যাজিট্রেট। উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।

ভুক্তভোগীদের একজন চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক ট্রাফিক পরিদর্শক আযাদ নিজামুল হক জানান, ‘এ নিয়ে আমরা একাধিকবার বিভিন্নস্থানে অভিযোগ জানিয়েছি। কোনো প্রতিকার পাইনি। সিটি কর্পোরেশনের নালাসগ স্থানীয়ভাবে প্রবাহিত নালা ও সেফটি ট্যাংকি দখল করে প্রভাবশালী শহিদুল্লাহ স্থাপনা নির্মাণ করেছে। সিটি কর্পোরেশন নালার দখল উচ্ছেদ করা হলেও আমাদের শতাধিক ভুক্তভোগীর পয়ঃনিস্কাষণ সমস্যা রয়েই গেছে।’

নিষ্কাষণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে ড্রেন ও নালা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে সিটি কর্পোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।