চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নার্গিসের বিয়ের পর মদ্যপ হয়ে ঘরে ফিরে কাঁদতেন রাজ কাপুর

প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়েছিলেন রাজ কাপুর-নার্গিস। তারপর ৯ বছর টানা প্রেম করেছিলেন। কিন্তু শেষমেশ বিয়েটা হয়নি তাদের। সুনীল দত্তের সঙ্গে নার্গিসের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন রাজকাপুর।

রাজকাপুর ও নার্গিস বহু ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। প্রথম তারা একসঙ্গে কাজ করেন ১৯৪৮ সালের ‘আগ’ ছবিতে। সেখান থেকেই তাদের গল্পের শুরু। এরপর দুজনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তারপর প্রেম। কিন্তু রাজকাপুর তখন বিবাহিত এবং পাঁচ সন্তানের বাবা। তবুও নার্গিস এতটাই ডুবে ছিলেন প্রেমে যে নিজের অর্থ রাজ কাপুরের ছবির জন্য খরচ করতেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তবে ৯ বছর প্রেম করার পর নার্গিস বুঝতে পেরেছিলেন যে রাজ কাপুরের সঙ্গে তার সম্পর্কটা আর আগের মতো নেই। শুধু তাই নয়, বরাবরই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসা রাজ কাপুর বিয়ের ব্যাপারে কোন উদ্যোগই নিচ্ছেন না।

১৯৫৫ সালের ‘শ্রী ৪২০’ ছবির ‘আনগ্ল্যামারাস’ চরিত্র নিয়ে নাখোশ ছিলেন নার্গিস। এরপর তিনি রাজ কাপুরকে না জানিয়েই ১৯৫৭ সালে ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। এতে মনোক্ষুণ্ন হন রাজ কাপুর। এদিকে ‘মাদার ইন্ডিয়া’র সেটে একদিন আগুন লেগে যায়। নার্গিস আটকা পড়েন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে উদ্ধার করেন সুনীল দত্ত। কিন্তু শরীরের অনেক অংশ পুড়ে যায়। হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অভিনেতাকে। এই ঘটনায় সুনীল দত্তের প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয় নার্গিসের।

সুনীল দত্ত সুস্থ হয়ে ওঠার পর একে অপরকে ভালো লাগার বিষয়টি জানিয়ে দেন তারা। এরপর বিয়ের পিড়িতে বসেন এই জুটি। নার্গিসের বিয়ের পর রাজ কাপুর খুবই ভেঙে পড়েন মানসিকভাবে। তার স্ত্রী কৃষ্ণা কাপুর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘রাতের পর রাত মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফিরতেন রাজ কাপুর। এরপর বাথটাবে বসে কাঁদতেন।’

রাজ কাপুরের মনে হয়েছিল সম্পর্কে প্রতারিত হয়েছেন। ১৯৮৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, নার্গিস তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তাকে না জানিয়েই ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। তাকে এই কাজের জন্য কোনো দিনও ক্ষমা করবেন না তিনি। -কইমই

বিজ্ঞাপন