চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গ্যাসের চুলার আগুনে একই পরিবারের ৮ জন দগ্ধ, নিহত ১

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাসের চুলার আগুনে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ হয়েছে শিশুসহ একই পরিবারের আট জন।

দগ্ধ নূরজাহান বেগম সকাল পৌনে এগারোটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া।

তিনি জানান, গুরুতর আহত আরো দুইজনকে বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দগ্ধ আটজন হলেন: নুরজাহান বেগম (৬০), কীরণ (৪৩) হীরণ (২৫) ও তার স্ত্রী মুক্তা (২০) মেয়ে লিমা (৩), আবুল হোসেন (২২), কাওসার (১৬) এবং আপন (১০)।

বিজ্ঞাপন

নূরজাহান বেগমের মেয়ের জামাই ইলিয়াছ মিয়া জানান, তাদের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। পরিবারটি বর্তমানে সাইনবোর্ড সাহেবপাড়া এলাকায় একটি বাড়ির পাঁচতলার নিচ তলায় ভাড়া থাকে। রাতে ওই এলাকায় গ্যাসের চাপ কম ছিল, ফলে চুলা বন্ধ না করেই ঘুমিয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ভোরে রান্নার জন্য গ্যাসের চুলায় আগুন ধরাতে যান নূরজাহান বেগম।

ম্যাচের কাঠি ধরাতেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নূরজাহান বেগমের আর্তচিৎকারে ছেলে, ছেলের স্ত্রী, নাতি-নাতনিরা এগিয়ে আসলে তারাও আগুনে দগ্ধ হয়। বিকট শব্দে পুরো বাড়িতে আগুন ধরে যায়। আগুনে বাসার চারটি ঘরই পুড়ে যায়। পরে তাদের দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ঢামেক পুলিশ বক্সের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, মৃত নূরজাহান বেগমের শ্বাসনালী পুড়ে গিয়েছিল।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সারা রাত গ্যাসের চুলা থেকে অল্প অল্প গ্যাস বের হয়ে পুরো বাড়িতে জমা হয়েছে। পরে সকালে চুলা জ্বালাতে গেলে ওই জমে থাকা গ্যাসের কারণে আগুন ধরে যায়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন