চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাম বদলের বইছে হাওয়া

ঘুম থেকে উঠে দেখি পাঁচটা জেলার নামের ইংরেজি বানান বদলে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ইংরেজি নামের বদলে যাওয়া রূপের সাথে আমরা অনেক আগে থেকে পরিচিতি। বাস্তবে যে ইব্রাহিম, ফেসবুকে সে হয়ে যায় আব্রাহাম। কিংবা বাস্তবে যার নাম আলেয়া বানু, ফেসবুকে তিনি নাম পরিবর্তন করে হয়ে যায় এঞ্জেল এলি।

কয়েক দিন আগের ঘটনা। রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। পেছন থেকে এক ছেলে ডেকে বলল, ভাই কেমন আছেন? আমি মোশারফ রিফাত।

বিজ্ঞাপন

-কোন মোশারফ রিফাত?

-আরে ভাই আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টের মার্শাল রিফাত।

বিজ্ঞাপন

মোশারফ রিফাতের ফেসবুক ভার্সন মার্শাল রিফাত নামটা আমার দারুণ লাগলো। ভাবলাম নিজের নাম পরিবর্তন করে এইরকম কিছু রাখবো। কিন্তু আম্মার সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করতেই খেলাম ঝাড়ি। তিনি বললেন, এতো টাকা ইনভেস্ট করে আকিকা দিয়ে তোর নাম রাখছি। বদলাবি ক্যান?

তবে হঠাৎ করে নাম পরিবর্তন করার মধ্যে বিড়ম্বনা আছে। অবশ্যি সেটা যদি বহুল পরিচিত কিছু হয়, তাহলে তো বিরাট ঝামেলা। এই যেমন সেদিন অপরিচিত এক মেয়ের সাথে ফেসবুকে চ্যাট করছি। মেয়েটার নাম জারা। তো জারা চ্যাট করার এক পর্যায়ে বললো, চা খাবেন? আমি আগ্রহ প্রকাশ করে রিপ্লাই দিয়ে মনে মনে অপেক্ষা করতে লাগলাম কখন চা কাপের ইমো পাঠাবে। কারণ, ফেসবুকে সানধারণত কোন মেয়ের চা এর অফার গ্রহণ করলে সে চা কাপের ইমো দেয়। এর অর্থ সে আপনাকে চা দিয়েছে।

তো জারা ফেসবুকে চা এর কোন ইমো না দিলেও, বাস্তবে দেখি বাসার কাজের মেয়ে জামিলা চা নিয়ে রুমে এলো। আমি তো অবাক! জামিলার কাছে হঠাৎ চা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলাম। সে বললো,

ভাইজান, একটু আগে আপনি যার কাছে চা চাইলেন, আমি সেই মাইয়া। জারা থুক্কু আফনাগো জামিলা।

পাঁচ জেলার ইংরেজি নামের নতুন বানান নিয়ে আশাকরি এইরকম বিড়ম্বনা হবে না। তাছাড়া কথায় আছে’, নামে নয়, গুণে পরিচয়’। সময়ের প্রয়োজনে পাঁচ জেলার নামের বানান বদলে গেলেও সেই সব জেলাগুলোর গুণ তো বদলে যাবে না। আপাতত নতুন ইংরেজি বানানে নাম পাওয়া জেলাবাসীরা আমাদের ট্রিট দিন।