চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নদীর চরিত্র বুঝে স্থাপনা নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ প্রকল্পের অনুমোদন

নদীর চরিত্র বুঝে তার আশপাশে ঘরবাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেছেন, নদীর পাড়ে এমন স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে, যেন তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনির্ধারিত আলোচনাকালে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গণভবন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা শেরেবাংলা নগরের এনইসি মিলনায়তন থেকে একনেক বৈঠকে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, নদীর চরিত্র বুঝতে হবে। জেনেশুনে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। সব জায়গায় সবকিছু নির্মাণ করা যাবে না। ভাঙনের হুমকির মুখে থাকা নদীর পাড়ে নির্মিত স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা অবিলম্বে সরিয়ে নিন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চলের বাতিঘর হিসেবে পরিচিত নুরুদ্দিন মাদবর এসএডিপি উচ্চ বিদ্যালয় গভীর রাতে নদীগর্ভে চলে যায়। এই স্কুলটি ছিল চরাঞ্চলের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশাল ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ব্যথিত। তাই নদীর মোহনায় এমন ভবন নির্মাণ করতে হবে যেন দ্রুত সরিয়ে নেয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মুন্সিগঞ্জের দিকে টিনের সুন্দর সুন্দর একতলা, দোতলা বাড়ি দেখা যায়। কারণ তারা পদ্মার পাড়ে বাস করে। পদ্মা ভাঙার সময় আসলে তারা এসব উঠিয়ে আরেক জায়গায় বসিয়ে দিতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আপনারা মডেল ডেভেলপ করেন। স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, কলেজ যেগুলো হুমকির সম্মুখীন, সেগুলো আমরা যেন তাড়াতাড়ি সরিয়ে নিতে পারি। যাতে করে গোটা বিল্ডিং না খেয়ে ফেলে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে এমএ মান্নান বলেন, টোল ফ্রি সড়কের পক্ষে নন প্রধানমন্ত্রী। তবে টোল সহজতর করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত টোল আদায় করা যায়।

আজকের বৈঠকে নদী ভাঙন প্রতিরোধ, সড়ক প্রশস্তকরণ, সেতু নির্মাণ, মাছ আহরণ, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার বিষয়সহ নতুন সাতটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে এসব প্রকল্পে।

একনেক সভায় নদী ভাঙন প্রতিরোধ, সড়ক প্রশস্তকরণ, সেতু নির্মাণ, মাছ আহরণ, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার বিষয়সহ নতুন ৭টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক। এসব প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৬৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ২ হাজার ৬২৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, বিদেশি ঋণ ৫৮১ কোটি ২০ লাখ এবং বিশ্ব ব্যাংকের অনুদান ২৬০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।