চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নক্ষত্রের শবদেহ ঘিরে প্রদক্ষিণরত গ্রহের সন্ধান

একটি সাদা বামনের চারপাশে পরিভ্রমণরত একটি গ্রহ খুঁজে পেয়েছে নাসার বিজ্ঞানীরা। এককালে সূর্যের মতো জ্বলন্ত নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ এটি।

কিছু গবেষকের ধারণা ছিল এ ধরনের খোঁজ অর্থহীন। সাদা বামনের কাছাকাছি কোনো গ্রহ আসলেই তা ধ্বংস হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

সাধারণত, যখন আমাদের সূর্যের মতো একটি নক্ষত্রর জ্বালানী শেষ হয়ে যায়, তখন এটি ফুলে উঠতে শুরু করে। এর আগের আকারের কয়েক হাজার গুণ বড় হয়ে এটি শীতল লাল দৈত্যে পরিণত হয়। পরে আবার যখন গ্যাসগুলো মহাশূন্যে ফেরত যায় তখন এটি আবার সঙ্কুচিত হয়ে যায় এবং এর ৮০ শতাংশ ভর ফেলে দেয়। অবশিষ্টাংশগুলি একটি সাদা বামনের আকারে থেকে যায়।

বিজ্ঞাপন

যখন এসব ঘটনা ঘটে, তখন কাছাকাছি থাকা যেকোন কিছু সাধারণত নক্ষত্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এবং পুড়ে যায়। ডাব্লুডি ১৮১৬ বি যদি এখনকার মতো নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি থাকতো তবে এটি একই পরিণতি ভোগ করতে পারত। তবে গবেষকদের অনুমান, এটি প্রায় ৫০ বার দূরে সরে গিয়েছে এবং তাকে টেনে আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট (টিইএসএস) এবং এর অবসরপ্রাপ্ত স্পিজিটর স্পেস টেলিস্কোপ জানাচ্ছে, ডব্লিউডি ১৮৫৬ বি হিসাবে পরিচিত গ্রহটি অক্ষত এবং তার নক্ষত্রের কাছাকাছি কক্ষপথে রয়েছে।

চারপাশে প্রদক্ষিণরত গ্রহটি ওই তারার চেয়েও অনেক বিশালাকার। পৃথিবীর ভবিষ্যত কেমন হতে পারে তার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে এই গ্রহ। পাশাপাশি মহাবিশ্বের অন্য কোথাও একইরকম গ্রহগুলিতে জীবনের সম্ভাবনা সম্পর্কে আশাও জাগিয়ে রাখছে।

উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক অ্যান্ড্রু ভ্যান্ডারবার্গ বলেন, ডব্লিউডি ১৮৫৬ বি কোনোভাবে তার সাদা বামনের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল এবং তারপরও এক টুকরোতে থাকতে পেরেছে। সাধারণত সাদা বামন তৈরির প্রক্রিয়া কাছাকাছি থাকা গ্রহগুলিকে ধ্বংস করে দেয় এবং পরে যেকোনো কিছু খুব কাছাকাছি আসে তারা সাধারণত নক্ষত্রের অপরিমেয় অভিকর্ষ দ্বারা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। কিভাবে এই গ্রহটি এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছালো তা একটি বড় প্রশ্ন।

সাদা বামনের বয়স ও তার সামনে দিয়ে গ্রহটির পরিভ্রমণ বিবেচনা করে গবেষকরা বলছেন, গ্রহটি বৃহস্পতি গ্রহের থেকেও ১৪ গুণ বড় হতে পারে। তবে উপসংহার টানতে এবং বিজ্ঞানীদের নির্ধারিতভাবে জানার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, গ্রহরা যদি এ ধরনের নাটকীয় যাত্রায় বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়, তবে আরও পাথুরে হয়ে উঠে। পৃথিবীসদৃশ গ্রহগুলি সেসব ক্ষেত্রে উন্মোচিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে পারে এবং একটি সাদা বামনের চারদিকে প্রদক্ষিণরত অবস্থা ভিনগ্রহের জীবনের পক্ষে অনুকূল হতে পারে।