চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কায় ইসরায়েলে আবার লকডাউন

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ (সেকেন্ড ওয়েভ) ঠেকাতে দেশজুড়ে নতুন করে লকডাউন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল।

‘জিউস নববর্ষ’ বা আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া কঠোর এ নিষেধাজ্ঞা আপাতত তিন সপ্তাহ স্থায়ী হবে।

বিজ্ঞাপন

লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, এই পদক্ষেপে আমাদের সবাইকে চড়া মূল্য দিতে হবে। কিন্তু দেশটিতে প্রতিদিনই ৪ হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গুরুত্বপূর্ণ জিউস উৎসবের মধ্যে এমন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে এরই মধ্যে একজন মন্ত্রী পদত্যাগও করেছেন।

আল্ট্রা অর্থোডক্স জিউস পার্টি চালানো দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াকভ লিজম্যান বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জিউস জনতা তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবে না। ২৭ সেপ্টেম্বরে জিউসদের সবচেয়ে পবিত্রতম দিন ইওম কিপ্পুর পালনও ব্যfহত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্যমতে, ইসরায়েলে এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ১ হাজার ১০৮ জন। আর আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার মানুষ। ৯০ লাখ জনসংখ্যার এ দেশে সম্প্রতি দৈনিক ৩ হাজারেও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার এক টেলিভিশন বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ৪ হাজার হয়েছে। এখন যে লকডাউন পদক্ষেপ নেওয়া হবে; সেটা প্রথম লকডাউনের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হবে। মার্চ থেকে মে মাসের প্রথম পর্যন্ত ওই লকডাউন স্থায়ী ছিল।

তিনি বলেন, ঘরের মধ্যেও ১০ জনের বেশি মানুষ একত্রিত হতে পারবে না। আর ঘরের বাইরে ২০ জন পর্যন্ত একত্রিত হতে পারবে। স্কুল ও শপিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। ইসরায়েলিদের অবশ্যই বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরত্বে থাকতে হবে।

‘‘ব্যতিক্রম হবে শুধু কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার বিষয়ে। বেসরকারি অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকতে পারে। কিন্তু কোনো গ্রাহক সেখানে থাকতে পারবে না। শুধু সুপারমার্কেট ও ফার্মেসি জনগণের জন্য খোলা থাকবে।’’

এই লকডাউনে জিউস সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ছুটি যেখানে সবাই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে, তা উদযাপনে ব্যাহত হবে জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, এই ছুটির দিন আমাদের অন্যান্য ছুটির মতো হবে না। আর আমাদের বিস্তৃত পরিবারের সঙ্গে সেটা উদযাপনও করতে পারবো না। ঘরের মধ্যে জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞাও উপাসনালয়ের প্রার্থনাতেও প্রভাব ফেলবে।

মহামারীর কারণে যেখানে এমনিতেই মন্দা চলছে সেখানে দ্বিতীয় লকডাউনে অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়বে।  আশঙ্কা করা হচ্ছে ক্ষতি হবে ১.৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের, এমনটাই জানিয়েছেন সেখানকার অর্থমন্ত্রী।

করোনাভাইরাস মোকাবেলার পদক্ষেপ নিয়ে বেশ সমালোচিত হয়েছেন নেতানিয়াহু। সমালোচকদের মতে, কার্যকরভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধের ব্যর্থতার কারণেই আরেকটি জাতীয় লকডাউন দিতে হচ্ছে।

অনেক দেশেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। এ ধরনের বিস্তৃত লকডাউনের বদলে, অনেক দেশ আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ছোট ছোট স্থানীয় লকডাউন দিচ্ছে।