চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুই বছর পর লন্ডনে কাজে ফিরলেন ঈশিকা খান

অভিনেত্রী ঈশিকা খান এখন লন্ডন প্রবাসী। সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিয়ের পর সেখানেই স্থায়ী হয়েছেন তিনি। তবে শোবিজে কাজের প্রতি ঈশিকার ভালোবাসা, টান মোটেও কমেনি। তাই সুযোগ পেয়ে সেখানে একটি আন্তর্জাতিক ব্রাইডাল ফটোশুটে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

যার মাধ্যমে প্রায় ২ বছর পর কাজে ফিরতে যাচ্ছেন ঈশিকা খান। লন্ডন থেকে চ্যানেল আই অনলাইনকে ঈশিকা খান জানিয়েছেন, তিনি যাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তারা প্রত্যেকেই আন্তর্জাতিকমানের কাজ করে থাকেন।

বিজ্ঞাপন

বললেন, বিশ্ববিখ্যাত বিবি লন্ডনের হয়ে কাজ করেছি। ফটোগ্রাফার ছিলেন সাজাদ সালার, মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন জুলিয়া আলী, যিনি বিশ্বের বড়বড় তারকাদের সাজিয়ে থাকেন। তার মাধ্যমেই কাজের সুযোগ এসেছে।

গেল এপ্রিলের শেষে ননদের বিয়ের ‘ডেসটিনেশন ওয়েডিং’-এ তুরস্কে গিয়েছিলেন ঈশিকা। সেখানে নেয়া হয়েছিল মেকআপ আর্টিস্ট জুলিয়া আলীকে। তিনি ঈশিকার ইনস্টগ্রামে ফলোয়ার্স (১২ লাখের বেশি) এবং ছবি দেখে, গুগল থেকে তার সম্পর্কে জেনে কাজের অফার করেন।

ঈশিকা বলেন, তখন আমার ছোট ছেলের বয়স ছিল ৪ মাস। কাজ করার পরিস্থিতি ছিল না।

কাজে ফিরে দারুণ উচ্ছ্বসিত ঈশিকা। বললেন, এটি মূলত মেকআপ, পোশাক, গহনা, ফটোগ্রাফারসহ ব্রাইডালের শুট। প্রত্যেকেই তাদের প্রমোশনে আমার ছবিগুলো ব্যবহার করবেন। ইন্ডিয়ান ডিজাইনার অনুশ্রী রেড্ডি, পবন এবং প্রণব ব্রাইডাল আউটফিট, জুয়েলারিতে লন্ডনের আলিয়া জেমস প্রত্যেকেই তাদের ব্রাইডাল প্রমোশনে ছবগুলো ব্যবহার করবেন।

ঈশিকা বলেন, কাজের জন্য ফিটনেস মোটামুটি ঠিক রেখেছিলাম। প্রতিদিন অনেক হাঁটতাম। লন্ডনে মিডিয়া সম্পৃক্ত এটাই সবচেয়ে ক্লাসি কাজ। বাকিগুলো আমার আয়ত্তের বাইরে। আমার ইমেজের সঙ্গে সেগুলো যায় না। ফটোশুটের ছবিগুলো লন্ডনে বিভিন্ন ম্যাগাজিনসহ ইনস্টাগ্রাম, ওয়েবসাইট, ইউটিউব বেশি জনপ্রিয়। সেখানেও এই ছবিগুলো ব্যবহার হবে।

ঈশিকা খান সর্বশেষ ক্যামেরা সামনে দাড়িয়েছিলেন ২০১৭ সালে ৩০ অক্টোবর। ওইদিনে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে তার লাইভ ছিল। শেষ করে পরদিন রাতেই উড়াল দেন লন্ডন। বললেন, ৫ সেপ্টেম্বর শুট করলাম। প্রায় ২ বছর আবার প্রফেশনাল মন নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। বিরতি ভেঙে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে প্রথমে খুব নার্ভাস লাগছিল। কারণ, ইন্টারন্যাশনালি এই প্রথম কোনো কাজ করলাম। যে ড্রেসগুলো পরেছি সেগুলো অনেক দামি। ফটোশুটের আয়োজন, স্টুডিও সবগুলোই ছিল আমার জন্য ইমপ্রেসিভ।

তিনি বলেন, আমাকে তারা এমনি এমনি কাজে সুযোগ দেয়নি। আমার চেয়ে অনেক বড়বড় মডেলরা এখানে কাজ করেছেন। আমাকে নিয়ে আগেই সবকিছু ঘেঁটে তারা আমাকে উপযুক্ত মনে করেই কাজে নিয়েছেন। আমি বাংলাদেশের সেলেব্রেটি এই সম্মান নিয়েই কাজ করেছি। এতে আমি ভীষণ সম্মানিত বোধ করছি।

দক্ষিণ লন্ডনের সাটন শহরে থাকেন ঈশিকা। জানালেন, নভেম্বরের শেষে মাস দেড়েকের জন্য দেশে ফিরবেন। তারপর কয়েকটি নাটকে কাজ করবেন। কথাবার্তাও বলা রয়েছে বলে জানান তিনি।