চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দিন যাবে কিন্তু আপনি থাকবেন

‘ও আমার উড়াল পঙ্খী রে, যা যা তুই উড়াল দিয়া যা’ গানটির মত পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন দেশ বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। একুশে পদকপ্রাপ্ত জনপ্রিয় এ সংগীত শিল্পী তার দীর্ঘ ৪০ বছরের ক্যারিয়ারে গেয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি গান। এছাড়াও বেতার থেকে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রেও উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। তার প্রয়াণ জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

গত ১৪ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন সুবীর নন্দী। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সুবীর নন্দীকে চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। সেখানে জীবন ও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে দেশে এলেন লাশ হয়ে।

বিজ্ঞাপন

চলচ্চিত্রের গানে কন্ঠ দিয়ে তিনি খ্যাতি অর্জন করলেও তিনি নিরবে দেশের লোকসংগীতকে জনপ্রিয় করে গেছেন। চলচ্চিত্রের সংগীতে তার অবদানের জন্য বহু পুরস্কার পাওয়া সুবীর নন্দীর সংগীতের শুরু নজরুল গীতি দিয়ে। তিনি যৌবনের একটা সময় কাটিয়েছেন লোকগান সংগ্রহ করে আর তা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেয়ে জনপ্রিয় করার কাজে।

বিজ্ঞাপন

১৯৬৩ সালে তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই তিনি গাওয়া শুরু করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে তিনি সিলেট বেতারে গান করেন। তার গানের ওস্তাদ ছিলেন গুরু বাবর আলী খান। ১৯৬০ এর দশকের বেতার গায়ক, সুরকার বিদিত লালের সংস্পর্শে এসে ‘কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো’, ‘সিলেটে প্রথম আজান ধ্বনি’, ‘প্রাণ কান্দে মোর’, ‘মরিলে কান্দিসনে আমার দায়’, ‘সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী’, ও ‘আমি কেমন করে পত্র লিখি’ এসব গান মাঠে-ময়দানে শহরে গেয়ে জনপ্রিয় করে তোলেন।

সুবীর নন্দী গানের জগতে আসেন ১৯৭০ সালে ঢাকা রেডিওতে প্রথম রেকর্ডিং এর মধ্য দিয়ে। দরদী কন্ঠের আধুনিক বাংলা গানের অবিস্মরণীয় এ কণ্ঠশিল্পী ৪৩ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গান গেয়েছেন অসংখ্য আধুনিক গান।

চলচ্চিত্রে প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে। এরপর থেকে তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন। চলচ্চিত্রের সংগীতে অবদানের জন্য তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন (মহানায়ক ১৯৮৪, শুভদা ১৯৮৬, শ্রাবণ মেঘের দিন হাজার ১৯৯৯, মেঘের পরে মেঘ ২০০৪)। এ ছাড়া চারবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন। শিল্পকলা- সংগীতে গৌরবজনক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সুবীর নন্দীকে ২০১৯ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

কান্না-ভালোবাসা-গান আর স্মৃতিতে স্মরণ করে এই কৃতি শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে পুরো জাতি। ‘দিন যায় কথা থাকে’, তার গাওয়া এই গানের মতো তিনি চলে গেলেও তার গান আর কথা থেকে যাবে আমাদের মাঝে। একজন সুবীর নন্দীকে আমরা আর পাবো না, কিন্তু তার গান ও কথার মধ্যে দিয়ে তিনি ভক্ত শ্রোতার মনে বেঁচে থাকবেন হাজার বছর।