চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এবার দাড়ি কাটায় তালেবানের নিষেধাজ্ঞা

আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশে সেলুনে নাপিতদের দাড়ি শেভ ও ট্রিম করা নিষিদ্ধ করেছে তালেবান। তাদের মতে, এটি ইসলামী আইনের ব্যাখ্যার লঙ্ঘন করে।

দাড়ি কাটার এ নিষেধাজ্ঞা যারা অমান্য করবে, তারা শাস্তির আওতায় আসবে বলেও জানিয়েছে তালেবানের ধর্মীয় পুলিশ। কাবুলের বেশ কিছু নাপিত জানিয়েছে তাদেরও একই আদেশ পাঠানো হয়েছে।

তালেবান একটি মধ্যপন্থী সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের এসব নির্দেশাবলী অতীতে ক্ষমতায় থাকার সময়ে দেওয়া কঠোর বিধিবিধানের দিকে ফিরে যাওয়ারই ইঙ্গিত দেয়।

গত মাসে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বিরোধীদের উপর কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করেছে তালেবান। শনিবার তাদের যোদ্ধারা চারজনকে অপহরণের অভিযোগে গুলি করে হত্যা করে এবং তাদের মরদেহ হেরাতের রাস্তায় ঝুলিয়ে দেয়।

হেলমান্দ প্রদেশের দক্ষিণে একটি সেলুনে ঝুলানো নোটিশে তালেবান অফিসাররা নাপিতদের চুল ও দাড়ি কাটার সময় শরীয়া আইন মেনে চলার হুমকি দেয়।

বিবিসি জানায়, ওই নোটিশে বলা হয়েছে, কারও অভিযোগ করার অধিকার নেই।

কাবুলের এক সেলুনের নাপিত জানান, যোদ্ধারা বারবার আসে আর আমাদের দাড়ি ট্রিম করা বন্ধ করার আদেশ দেয়। একজনতো আমাকে বলেছে, ওরা ছদ্মবেশে পুলিশ পাঠাবে আমাদের ধরার জন্য।

শহরের সবচেয়ে বড় সেলুন পরিচালনাকারী আরেক নাপিত জানায়, তাকে একজন ফোন করে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয়। ফোনে তাকে ‘আমেরিকান স্টাইল’ অনুসরণ করা বন্ধ করতে এবং কারও দাড়ি শেভ বা ট্রিম না করতে বলা হয়।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানের প্রথম ক্ষমতায় থাকার সময়ে কট্টর ইসলামপন্থীরা চুলের স্টাইল করা নিষিদ্ধ করে এবং পুরুষদের দাড়ি বড় করতে বাধ্য করেছিল।

কিন্তু তারপরেই সেখানে ক্লিন শেভ চেহারার ফ্যাশন শুরু হয় এবং অনেক আফগান পুরুষ ফ্যাশনেবল কাট দেওয়ার জন্য সেলুনে যেতে শুরু করল।

নিরাপত্তার জন্য নাম প্রকাশ না করে নাপিতরা বলছেন, নতুন নিয়ম তাদের জীবনযাপন কঠিন করে দিচ্ছে। তাদের একজন বিবিসিকে বলেন, অনেক বছর যাবত আমার সেলুনে তরুণরাই শেভ করতে আসে, যেন তাদের যুগোপযোগী দেখা যায়, এখন আর এই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার কোনো মানে হয় না।

আরেকজন বলেন, ফ্যাশন সেলুন আর নাপিতদের ব্যবসা নিষিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। ১৫ বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। মনে হয় না আর চালিয়ে যেতে পারব।

হেরাতের একজন নাপিত বলেন, কাস্টমারও এখন দাড়ি কাটতে চায় না। রাস্তায় তারা তালেবান যোদ্ধাদের শিকার হতে চায় না। তারা মিশে যেতে চায়, ওদের মতোই নিজেকে দেখাতে চায়।

২০ বছর পর আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার সাথে সাথেই সেখানে অস্থিরতা তৈরি হয়। গত ১৫ আগস্ট পুরোপুরি দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবানরা।

সবার আশঙ্কা, ২০০১ সালে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আফগানিস্তানে যেসব মানবাধিকার অর্জন করা গিয়েছিল এখন তা আবার হারিয়ে যাবে।