চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দশক ধরে মানবসেবায় ‘পিস ফাইন্ডার’

সমাজে সবাই মানবিক হতে পারে না। সব তরুণও এক রকম নয়। কিছু ব্যতিক্রমও থাকে। কেউ কেউ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। বলতে গেলে ‘নিজের খেয়ে পরের মোষ চরানো’। মূলত তেমন কিছু তরুণদের হাত ধরেই যুগে যুগে সমাজে এসেছে পরিবর্তন।

আদনান রামিম তেমনই একজন তরুণ। যার নেতৃত্বে একটি সংগঠন মানবিক কাজে ব্রত আছে দশ বছর ধরে। মহামারী করোনার দুঃসময়েও থেমে নেই ‘পিস ফাইন্ডার’ নামক সংগঠনের মানবিক কার্যক্রম।

বিজ্ঞাপন

সমাজের স্বার্থপরতার শেকল ছিঁড়ে ফেলতে এগিয়ে যাচ্ছে দুই শতাধিক তরুণের বিশাল টিম নিয়ে।
‘শান্তিতে আমরা সবার পাশে- স্লোগান নিয়ে ২০১০ সালের ১ মে যাত্রা। সেই থেকে ২০২০ সালে পূর্ণ হয়েছে দশক। শুরু থেকে সংগঠনটি কাজ করছে মনের আনন্দে ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে। তাদের নেই কোন অসম প্রতিযোগিতা, নেই প্রতিদান কিংবা পুরস্কারের আশাও।

দশ বছরে ‘পিস ফাইন্ডার’র মানবিক কাজের হিসাবটাও কিন্তু কম নয়। অসহায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিতরণ করেছে ৭৪টি হুইলচেয়ার, দরিদ্র পরিবারের মাঝে ১১ টি সেলাই মেশিন, ৩টি ওয়াকার, প্রতিবন্ধীদের সার্জিক্যাল সাপোর্ট, গড়ে দিয়েছে ২টি ভ্রাম্যমাণ দোকান, গ্রহণ করেছে ১১ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীর নিয়মিত পড়ালেখার দায়িত্ব।

শুধু তাই নয়, প্রতিবছর একজন করে এতিম শিশুর ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয় ‘পিস ফাইন্ডার’। সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম, দেশব্যাপী অগণিত রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপন, জরুরি মুহুর্তে স্বেচ্ছাসেবী, দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ বিতরণসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবিক কাজের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

করোনাকালীন সময়ে উন্মুক্ত তহবিল গঠন করে প্রায় পাচ শাতাধিক পরিবারে ত্রান-সাহায্য পৌছে দিয়েছে, তাছাড়া প্রশাসনের আহবানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সচেতনতামূলক কর্মকান্ডেও অংশগ্রহণ করেছে সংগঠনের সদস্যরা।

কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে সংগঠনটি যাত্রা করলেও কাজের মাধ্যমে জানান দিয়েছে দেশের সচেতন মহলে।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আদনান রামিম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন সমাজসেবা ও ছোটখাটো কিছু ব্যবসা নিয়ে। মূলত সমাজসেবাই তার সর্বাধিক পছন্দের কাজ।

‘পিস ফাইন্ডার’ সম্পর্কে আদনান রামিম জানালেন, হয়তো আমরা আহামরি কিছু করতে পারিনি। আবার একেবারে বসেও থাকিনি। আমরা চেষ্টা করেছি, মানবিকতার বার্তা দিয়েছি। এই দশ বছরে আমাদের সহযোদ্ধা হয়ে অনেকেই এসেছেন, ভালোবাসছেন।’

‘‘এই দশ বছর আমরা ক্লান্ত হইনি, বরং আরও বেশি দায়বদ্ধ হয়েছি। আগামীতেও মানবিক কাজে ব্রত থাকতে চাই সম্মিলিত উপায়ে।  আমাদের সকল প্রচেষ্টা সুন্দর ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণের জন্য।’’