চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

`দরিদ্র ও অসহায়দের বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করতে দেয়া যাবে না’

করোনা মহামারিতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত কৃষকের সরকার ঘোষিত বরাদ্দের টাকা যেন সুযোগসন্ধানীরা নয়ছয় করতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছে সামাজিক সংগঠন প্রজন্মের চেতনা। 

আজ  বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায় সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৩৬ লাখ দরিদ্র ও অসহায় পরিবারকে গত রোববার থেকে পরিবারপ্রতি নগদ দুই হাজার পাঁচ’শ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া শুরু করেছেন। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৯১২ দশমিক ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগদ আর্থিক সহায়তার দ্বিতীয় পর্যায়ের এই কর্মসূচি গণভবন থেকে গত রোববার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করে বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ কৃষক পরিবারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে সরকার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে দেশের ৩৬টি জেলার ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ১০ হাজার ৩০১ হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ এবং ৫৯ হাজার ৩২৬ হেক্টর ফসলি জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১ লাখ কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তাই সরকার বিরাজমান করোনা মহামারিতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত কৃষকের নামে নগদ আর্থিক বরাদ্দের টাকা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা পায় তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব। যাতে ওই ক্ষতিগ্রস্তরা কোনোভাবেই সরকার ঘোষিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।

কারণ গত বছর দরিদ্র ও অসহায় মানুষের বরাদ্দের টাকা নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। ওই অনিয়মের চিত্র পাওয়া যায় গত ১০ নভেম্বরের অনলাইনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশলাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে। তাতে উল্লেখ, “নগদ সহায়তা উপকারভোগীদের ১২ শতাংশ তালিকাভুক্ত হতে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয়েছিল।

‘‘এক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশ জোগাড় করা (৩৬ দশমিক এক শতাংশ), অনেকবার অনুনয়-বিনয়/অনুরোধ করা (২৪ দশমিক ৬ শতাংশ), নিয়ম-বহিভর্‚ত অর্থ বা ঘুষ দেওয়া (১৮ দশমিক ৯ শতাংশ), টাকা না পাওয়া (১০ দশমিক ৬ শতাংশ) ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। আর তালিকাভুক্ত করতে গড়ে ২২০ টাকা করে নিয়ম-বহিভর্‚ত অর্থ বা ঘুষ দিতে হয়েছে।”

অথচ অতিক্ষুদ্র-অদৃশ্য এক প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের মানুষের জীবন-জীবিকাকে করছে লণ্ডভণ্ড। তাই সরকার ঘোষিত বিরাজমান করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও অসহায় মানুষসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত কৃষকের নামে নগদ বরাদ্দের টাকা যেন সুযোগসন্ধানী ও অসৎ মানুষ এবং ঘুষখোররা যাতে কোনোভাবেই আত্মসাৎ করতে না পারে।

বিজ্ঞাপন