চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তিন সিনেমায় লালনের জীবন

অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতার প্রতীক ফকির লালন সাঁই। তার জীবন দর্শন যুগে যুগে মানবতার বার্তা বিলিয়ে যাচ্ছে। শুধু বাংলা ভাষাভাষি মানুষকেই নয়, তার জীবন দর্শন প্রভাবিত করেছে পৃথিবীর কৌতুহলী প্রতিটি মানবিক মানুষকে।

তাঁর ১৩০তম তিরোধান দিবস শনিবার (১৭ অক্টোবর)। এদিন তাকে স্মরণে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে বিরাট আসর বসে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটা এবার হচ্ছে না। তবু তিনি বিভিন্নভাবে এই দিনে স্মরিত হচ্ছেন।

লালন, শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি মানুষ নন। তাকে নিয়ে গবেষণা হয়েছে বিস্তর। তার জীবন দর্শনে প্রভাবিত হয়ে গল্প কবিতার সংখ্যাও কম নয়। প্রামাণ্যচিত্রেও তাকে ও তার বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেছেন নির্মাতারা।তবে সে তুলনায় তাকে নিয়ে বাংলা ভাষায় সিনেমার সংখ্যা হাতে গোনা।

মানবতাবাদী লালনের মৃত্যুদিনে তাকে নিয়ে নির্মিত বাংলাদেশের তিনটি উল্লেখযোগ্য কাহিনিচিত্রের কথা থাকলো এখানে, যারমধ্যে ‘মনের মানুষ’ নামের চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত:

 

মনের মানুষ: গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘মনের মানুষ’ মুক্তি পায় ২০১০ সালে। যৌথ প্রযোজনার এ ছবিতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন শিল্পীরা অভিনয় করেছেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর ‘মনের মানুষ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবিতে লালন ফকিরের জীবন ও কর্মের কিছু চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছবিতে লালনের চরিত্রে অভিনয় করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, চঞ্চল চৌধুরী, শুভ্র কুন্ডু, পাওলি দাম, প্রিয়াংশু চ্যাটার্জী, তাথৈ, নাউফেল জিসান, চম্পা, হাসান ইমাম, শাহেদ আলী সহ আরও অনেকে।

বিজ্ঞাপন

লালন: লালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বহু আগে থেকেই কাজ করলেও ২০০৪ সালে লালন ফকিরের জীবন, সংগীত ও দর্শন নিয়ে কাহিনীচিত্র নির্মাণ করে তানভীর মোকাম্মেল। তার নির্মিত চলচ্চিত্রটি তৎকালীন সময়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এই সিনেমায় লালনের চরিত্রে অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ। এছাড়াও অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, শমী কায়সার, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, রামেন্দু মজুমদার ও খুরশীদুজ্জামান উৎপল।

চলচ্চিত্রটি ২৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

তানভীর মোকাম্মেল নির্মিত ‘লালন’ ছবির একটি দৃশ্য

লালন ফকির: মানবতাবাদী লালন ফকিরের জীবনী নিয়ে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্রের নাম ‘লালন ফকির’। এটি ১৯৭২ সালে মুক্তি পায়। যা নির্মাণ করেন বর্ষীয়ান অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম। সিনেমায় ফকির লালন সাঁইয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন ঢাকাই ছবির এক সময়ের তারকা অভিনেতা উজ্জ্বল। ছবিতে আরো অভিনয় করেন কবরী, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

মুক্ততথ্য ভাণ্ডার উইকিপিডিয়া বলছে, হাসান ইমাম নির্মিত এটি ফকির লালন সাঁইকে নিয়ে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র। নাট্যকার আসকার ইবনে শাইখ এর লালনকে নিয়ে নাটক ঢাকার নাট্যমঞ্চে বেশ কয়েকবার মঞ্চায়িত হয়েছিল। এ নাটকটি অবলম্বনেই সৈয়দ হাসান ইমামের সংলাপ, চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও প্রযোজনায় চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়। চলচ্চিত্রটিতে ফকির লালনের জীবন ও বাঙ্গালি সংস্কৃতির রুপায়ন তুলে ধরা হয়েছে।চলচ্চিত্রটির দুটি কপি এখনো বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে।