চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তামিমের কথায় ‘মাথা খুলেছে’ সৌম্যর

বিকেএসপি থেকে: তামিম ইকবাল তখন সেঞ্চুরির অপেক্ষায়। ফিফটির কাছে সৌম্য সরকার। রান বাড়ানোর কোনো তাড়া ছিল না। কিন্তু হঠাতই ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দিলেন সৌম্য। ভাগ্য এতটাই সুপ্রসন্ন ছিল যে, লং-অফের ফিল্ডার চেষ্টাই করেননি ক্যাচটি লুফে নিতে!

পরে অবশ্য আর কোনো সুযোগ দেননি উইন্ডিজ বোলারদের। ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বিসিবি একাদশের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছেড়েছেন সৌম্য। তার আগে জয়ের পথ দেখানো তামিম খেলে যান ১০৭ রানের মারকুটে ইনিংস।

বিকেএসপিতে টপঅর্ডারে দুই বাঁহাতির সেঞ্চুরিতে উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ডাকওয়ার্থ ও লুইস মেথডে ৫১ রানে জিতেছে বিসিবি একাদশ। সফরকারীদের ৩৩২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিকরা ৪১ ওভারে ৬ উইকেট ৩১৪ রান তোলার পর আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়, পরে ডাকওয়ার্থ ও লুইস মেথডে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়।

Advertisement

খেলা শেষে উদ্বোধনী সঙ্গী তামিমের প্রশংসা ঝরল সৌম্যর কণ্ঠে, ‘আসলে শুরুতে আমার তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তামিম ভাই অনেক ভালো করছিল। প্রত্যেক ওভারে অনেক রান আসছিল। চেষ্টা করেছি তাকে সাপোর্ট দেয়ার, যতটুকু সময় থাকি। আর বোলারদের দেখে নিই। উনি(তামিম) আমাকে কিছু কথা বলছিলেন, যেগুলো অনেক সাহায্য করেছে। সেই অনুসারেই ব্যাটিং করেছি। একটা ভুল শট খেলেছি, তখন উনি একটি কথা বলেছেন, তাতে আরও মাথা খুলেছে। ব্যাটিংয়ের সময় কিছু কিছু কথাও আসলে অনেক সহায়ক হয়।’

‘আমার উচিত ছিল পরিস্থিতি বোঝা। রান অনেক আসছিল। প্রথম দশ ওভারে অনেক রান ছিল। প্রায় ৮০-৯০ এর মতো। সে অনুযায়ী চাইছিলাম ইনিংসটা বড় করি। শেষের দিকে যেয়ে মনে হয়েছিল যদি উইকেটে থাকি তাহলে অবশ্যই ম্যাচটি জিতবো। ঐ আত্মবিশ্বাস নিয়েই শেষ পর্যন্ত থাকার চেষ্টা।’

প্রায় তিন মাস চোটের কারণে বাইরে ছিলেন তামিম। সেই এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে চোট নিয়ে ছিটকে যান। ফিরেই ব্যাটে ঝড় তুললেন এ বাঁহাতি ওপেনার। সিনিয়র ক্রিকেটার শুধু পরামর্শেই নয় ব্যাটিংয়েও মুগ্ধ করেছে সৌম্যকে।

‘আমার কাছে ওনার(তামিম) ব্যাটিং দেখে মনে হয়নি উনি বাইরে থেকে আসলেন কিংবা কয়েকটি ম্যাচ বাইরে ছিলেন। দেখে খুব ভালো লেগেছে যে অনেক আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। আর একটি ভালো সূচনা পেয়েছেন। এমন শুরু সবসময় হয় না। আমি চাইবো এমন শুরু যেন সবসময় উনি দিতে পারেন। এটি বাংলাদেশের জন্যও ভালো, ওনার জন্যও।’